যখন আমি বুড়ি হয়ে যাবো-একেবারে থুরথুরে বুড়ি।

0
17

যখন আমি বুড়ি হয়ে যাবো-একেবারে থুরথুরে বুড়ি।

যখন আমি বুড়ি হয়ে যাবো-
একেবারে থুত্থুরে বুড়ি
তখন একটু কি আমার পাশে থাকবি ?
একটু ধৈর্য ধরে রাখবি তো আমার ওপরে ?
ধর, যদি তোর দামী কাচের বাসনটা
আমার হাত থেকে পড়ে যায় হঠাৎ ?
কিংবা তরকারির বাটিটা যদি উল্টে ফেলি
টেবিলের উপরে ?

আমি যে তখন অত ভালো দেখতে পাবো না রে !
আমাকে তুই চিৎকার করে বকিস না প্লিজ !
বুড়ো-বুড়িরা যে সারাক্ষণ নিজেদেরই অবহেলিত
মনে করতে থাকে, তুই জানিস না ?
আমি একদিন আর কানে শুনতে পাবো না,
একবারে বুঝে ফেলবো না তুই কী বলছিস
তাইবলে আমাকে ‘বধির’ ডাকিস না !
লাগলে না হয় আরেকটাবার কষ্ট করে
কথাটা বলিস–
না হয় লিখেই দিলি কাগজে কলমে।
আমাকে ক্ষমা করিস রে

আমি যে প্রকৃতির নিয়মে বুড়িয়ে গেছি ,
কি করবো বল ?
আর যখন আমার হাঁটু কাঁপবে
পা দুটো শরীরের ভার আর বইতে চাইবে না-
তুই কি একটু ধৈর্য ধরে
আমাকে উঠে দাঁড়াতে সাহায্য করবি না, বল ? যেমন করে প্রথম হাঁটতে শিখেছিলি আমার পায়ের পাতার উপরে দাঁড়িয়ে, তেমনি করে ?

কখনো কখনো আমি ভাঙা রেকর্ড প্লেয়ারের মত বকবক করেই যাবো, তুই একটু শুনিস কষ্ট করে-
আমাকে নিয়ে হাসাহাসি করিস না প্লিজ,
আমার বকবকানিতে অধৈর্য হয়ে যাস না রে।
তোর মনে আছে ?
ছোট্টবেলায় তুই একটা বেলুনের জন্য কেমন ঘ্যানঘ্যান করেই যেতিস আমার কানের কাছে-
যতক্ষণ না তোকে আমি সেটা কিনে দিতাম–
মনে পড়ছে তোর ?

আমার গায়ের গন্ধটাকেও ক্ষমা করে দিস পারলে
আমার শরীরে বুড়োটে গন্ধ জন্মাচ্ছে!
But স্নান করার জন্য জোর করিস না তক্ষুনি-
আমার শরীরটা তখন যে বড্ড দুর্বল থাকবে
একটু জল লাগলেই ঠাণ্ডা লেগে যাবে !
আমাকে দেখে নাক শিঁটকাস না প্লিজ !

মনে আছে ? ছেলেবেলায় তোর পেছনে আমি
ছুটতাম আর ছুটতাম—
তুই স্নান করতে চাইতিস না বলে
তুই বিশ্বাস কর, বুড়োবুড়িদের এমনই হয়,
হয়তো তুই বুঝবি একদিন, হয়তো… একদিন !
হাতে যদি সময় থাকে, আমরা একসাথে গল্প
করবো, কেমন ?

হোক না মাত্র কয়েকটা মুহূর্তের জন্য।
আমি তো সারাদিন একাই থাকি,
আমার সময় যে একা ফুরোয় না রে !
আমি জানি তুই তোর কাজনিয়ে ভীষণ ব্যস্তথাকবি
আমার বুড়ি হয়ে যাওয়া গল্পগুলো তোর শুনতে ভালো না লাগলেও একটু আমার পাশে থাকিস।
তোর মনে আছে ?

কত কতবার তোর ছোট্ট পুতুলের গল্প
আমি শুনতাম, শুনেই যেতাম —
আর তুই বলেই যেতিস, বলেই যেতিস…
আমিও তো তোকে অনেক গল্প বলতাম
মনে পড়ে তোর ?

একদিন আসবে, বিছানায় পড়ে থাকবো,
আমার কি একটু যত্ন নিবি সেদিন ?
আমাকে ক্ষমা করে দিস-
যদি ভুল করে বিছানা ভিজিয়ে ফেলি,
যদি চাদরটা নোংরা করে দেই,
আমার শেষ সময়টায়-

শুধু আমাকে ছেড়ে দূরে থাকিস না প্লিজ!
যখন সময় হবে-
আমার হাতটা তোর মুঠোয় পুরে নিস।
আমাকে একটু সাহস দিস-
যেন মৃত্যুকে আমি নির্ভয়ে আলিঙ্গন করতে পারি !
আর ভাবিস না-

যখন আমি আমার স্রষ্টার দেখা পাবো
তাঁর কানে কানে ফিসফিসিয়ে বলবো-
তিনি যেন তোর মঙ্গল করেন,
কারণ তুই আমাকে ভালোবেসেছিলি,
আমার ফুরিয়া আসা –
শেষ সময়গুলোতে আমার যত্ন নিয়েছিলি!
তোকে অনেক অনেক ভালোবাসি রে ,
তুই ভালো থাকিস–
এটা ছাড়া আজ আমার
আর কি বলার বা দেওয়ার আছে রে ?

Leave a Reply