প্রতিবন্ধী সন্তান জন্ম দেওয়ায় স্বামী দিল তালাক!

0
36

পাবনাঃ- পাবনার চাটমোহরে দুলালী নামের এক গৃহবধূ বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন (প্রতিবন্ধী) সন্তান জন্ম দিয়েছেন। সেই অপরাধের শাস্তি হিসেবে স্বামীর তালাক দিয়েছে।

চাটমোহর উপজেলার কাটাখালি গ্রামের আবুল হোসেনের মেয়ে দুলালী খাতুনের সঙ্গে ৫ বছর আগে বিয়ে হয় একই উপজেলার কান্দিপাড়া গ্রামের রব্বান হোসেনের ছেলে আলামিন হোসেনের সাথে। আলামিন পেশায় দিনমজুর। কিছুদিন আগে তাদের ঘরে একটি সন্তান আসে। তবে শিশুটি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন (শারীরিক প্রতিবন্ধী)।

দুলালী খাতুনের অভিযোগ, ওই সন্তান জন্ম দেওয়ার কারণে স্বামী, শ্বশুর-শাশুড়ি নির্যাতন করে বাড়ি থেকে বের করে দেয় তাকে। পাঁচ মাস আগে স্ত্রীকে তালাক দিয়ে তালাকনামার কাগজ গোপনে নিজের কাছে রাখেন আলামিন। শনিবার ডাকযোগে পাঠানো তালাকের সেই নোটিশ হাতে পান দুলালী খাতুন।

তালাকের সেই নোটিশ ও প্রতিবন্ধী সন্তানকে নিয়ে এখন চোখের জলে ভাসছেন দুলালী। স্বামীর সংসারে ফিরতে ধরছেন বিভিন্ন জনকে। কিন্তু কোন সাড়া মিলছে না।

দুলালীর বাবা আবুল হোসেন মেয়েকে ছোট রেখে মারা যান। মা খইচন বেওয়া মানুষের বাড়িতে কাজ করে একমাত্র মেয়ে দুলালীকে বড় করেন। ৫ বছর আগে এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে এবং আত্মীয় স্বজনদের নিকট থেকে ধার করে দিনমজুর আলামিন হোসেনের সঙ্গে দুলালীর বিয়ে দেন। বিয়েতে যৌতুক হিসেবে ১০ হাজার টাকা, একটি বাইসাইকেল ও নানা জিনিসপত্র দেন।

বিয়ের দুই বছর পর দুলালী ছেলে সন্তান প্রসব করে। নাম রাখেন “দুর্জয়”। কিন্তু দুর্জয় শারীরিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় দুলালীর কপালে নেমে আসে দুঃখ। শুধু এই কারণে বছর দুয়েক আগে আলামিন, তার বাবা রব্বান হোসেন এবং মা ফরিদা খাতুন দুলালীকে শারীরিক নির্যাতন করে বাড়ি থেকে বের করে দেন। দুলালীর ঠাঁই হয় মা খইচন বেওয়ার কাছে। এরপর ন্যায় বিচারের জন্য স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান, মেম্বার ও গ্রাম প্রধানদের কাছে অনেক বার ধর্ণা দিয়েছেন দুলালী। কিন্তু কোন ফল মেলেনি।

স্থানীয়রা জানান, চাটমোহর পৌর সদরের ম্যারেজ রেজিস্ট্রার আবদুর রাজ্জাকের কাজী অফিসে গত ৫ জুলাই আলামিন এসে তালাকনামায় সই করে কাগজ নিজের কাছে রাখেন। দেনমোহরের টাকা বুঝিয়ে না দিয়ে সেই তালাক নোটিশ ডাকযোগে দুলালীর কাছে পাঠান।

দুলালী খাতুন কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, প্রতিবন্ধী সন্তান জন্ম দেওয়া কী আমার অপরাধ? প্রতিবন্ধী সন্তান জন্ম দিয়েছি বলে স্বামী-শ্বশুর, শাশুড়ি মারধর করে আমাকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছিল। এখন স্বামী তালাক দিলো! আমি স্বামীর সংসার করতে চাই। আমি এর বিচার চাই।

এ ব্যাপারে মোবাইল ফোনে আলামিন হোসেন বলেন, প্রতিবন্ধী সন্তানের জন্য তালাক দেইনি। ওর কার্যকলাপের কারণে তালাক দিয়েছি। ছেলে যেহেতু আমার, সেহেতু দায়িত্বও আমার।

তালাক নোটিশ গোপন রাখার বিষয়টি এড়িয়ে যান তিনি।

চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈকত ইসলামকে বিষয়টি জানালে তিনি বলেন, স্বামী বা স্ত্রী যে কেউ তালাক দিতে পারেন। তবে প্রতিবন্ধী সন্তান জন্ম দেওয়ার কারণে যদি এমন ঘটনা ঘটে, তবে বিষয়টি অমানবিক। স্থানীয় চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply