চট্টগ্রামের জাতিসংঘ পার্ক নিয়ে নতুন পরিকল্পনা।

0
28
D.A.B. News / দৈনিক আমার বাংলা )
D.A.B. News / দৈনিক আমার বাংলা

চট্টগ্রামের জাতিসংঘ পার্ক নিয়ে নতুন পরিকল্পনা।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ও গণপূর্ত বিভাগের মধ্যকার টানাপোড়েনশেষে প্রায় একযুগের কাছাকাছি সময় অবহেলায় নিথর পড়ে থাকা পাঁচলাইশ জাতিসংঘ পার্কটি উন্নয়নের স্পর্শ পেতে চলেছে।

চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকার জাতিসংঘ পার্ক ও সুইমিংপুলকে ঘিরে এখন ভালো কিছুর আশায় দিন গুনছেন বন্দরনগরী চট্টগ্রামের মানুষরা। পার্ক ও সুইমিং পুলটি এখনও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) পরিচালনায় থাকলেও এর উন্নয়ন কাজ করবে গণপূর্ত বিভাগ। এ লক্ষ্যে চসিক থেকে গণপূর্ত বিভাগ অনাপত্তিপত্র পেয়েছে বলেও জানা যায়। গণপূর্ত বিভাগ এখন পার্কটির উন্নয়ন নিয়ে পরিকল্পনা সাজাচ্ছে, স্থপতি দিয়ে পরিকল্পনার নকশা প্রণয়ন করছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ৬ মাসের মধ্যে জাতিসংঘ পার্কের উন্নয়ন কাজ শুরু হবে বলে গণপূর্ত বিভাগ আশা করছে।

বন্দরনগরী চট্টগ্রামে নির্মল বিনোদনের জন্য ঘুরে বেড়ানোর জায়গার প্রচ- অভাব। সামান্যতম সুযোগ সুবিধা যেখানে ছিল সেগুলো পরিচর্যার অভাবে বিবর্ণপ্রায়। এই বিবর্ণতায় অন্যতম পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকার জাতিসংঘ পার্ক। ২১ নভেম্বর বিকালে সরেজমিনে পার্কটিতে গিয়ে দেখা যায় সীমানা প্রাচীরের অস্তিত্বই নেই। ভেতরে-বাইরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে ময়লা-আর্বজনার স্তূপ। পার্কের উত্তর দিকে সারি সারি ফুলগাছে বর্ণিল ফুল শোভা পেলেও দক্ষিণ দিকের ফুলগাছ মাড়িয়ে পার্কের প্রহরীদের কাপড় শুকাতে দেখা গেছে। দুর্গন্ধ-আবর্জনার মধ্যেও পার্কে গিয়ে দেখা মিলল ১৫-২০ জন দর্শনার্থী। এতেই অনুমান করা যায় ঘুরে বেড়ানোর জায়গার কতটা অভাব বন্দরনগরী চট্টগ্রামে!

স্থানীয় সূত্র বলছে, জনগণের ট্যাক্সের টাকায় কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে এই পার্ক কোনও কাজে তো লাগছেই না, উল্টো রাত হলে বসছে মাদকসেবীদের আড্ডা। নিরাপত্তায় নিয়োজিত প্রহরীদের যোগসাজশেই সন্ধ্যা নামতেই অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগ আছে। পার্কের অভ্যন্তরীণ রাস্তায় নালা উপচে পড়া ময়লা পানি জমে আছে। এর উৎকট দুর্গন্ধ চারপাশে ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে হাঁটার কোনো পরিবেশ নেই। মাটি ভরাট করে উঁচু করা হয়েছে পার্কটি। তবে সেখানে ঘুরে বেড়ানোর তেমন সুযোগ নেই। অস্থায়ীভাবে কয়েকটি বসার আসন রয়েছে, তাও ভাঙ্গাচোরা। যারা ঘুরতে যান তারা এই বিবর্ণ পরিবেশেই সবুজের আস্বাদ নেওয়ার চেষ্টা করেন। পাশেই কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত দুটি সুইমিংপুলে সাঁতার কাটছে ব্যাঙ! এই পার্কে হেঁটে বা সাঁতার কেটে শরীরচর্চা তো দূরে থাক, উল্টো পুলের পানিতে বাড়ছে মশার বিস্তার। পুলসহ পুরো পার্কজুড়ে এমন অব্যবস্থাপনায় স্বাস্থ্যঝুঁকি ও নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে স্থানীয় পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকার বাসিন্দারা।

গণপূর্ত বিভাগ যে দ্রুততম সময়ে পার্কটির উন্নয়ন করবে সে ব্যাপারে বিস্তারিত জানালেন চট্টগ্রাম গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রাহুল গুহ। তিনি বলেন, বায়েজিদ উদ্যান কিংবা জাম্বুরি পার্কের আদলেই জাতিসংঘ পার্কটিকে উন্নয়নের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে আর্কিটেকচারদের নকশা প্রণয়ন কাজও শেষের পথে। সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পরিকল্পনা অনুমোদন সাপেক্ষে আমরা আশা করছি আগামী চার থেকে ছয় মাসের মধ্যেই সুইমিংপুলসহ পুরো জাতিসংঘ পার্কটি নগরীর একটি মডেল পার্কে পরিণত করার কাজ শুরু হবে।

পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকা কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক নূর মো. আবু সাঈদ সেলিম বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে পড়ে আছে পার্কটি। আমরা চাই এটি সংস্কার করে চারপাশে ওয়াকওয়েসহ দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা করা হোক। বায়েজিদ উদ্যানের আদলে হোক পাঁচলাইশ জাতিসংঘ পার্ক।’ আশার কথা হচ্ছে চসিক ও গণপূর্ত বিভাগের মধ্যকার টানাপোড়নের অবসান হয়েছে। চসিক থেকে উন্নয়ন কাজের অনাপত্তিপত্র পেয়েছে গণপূর্ত বিভাগ। আশা করছি শীঘ্রই সুইমিংপুলসহ পার্কটি সত্যিকারের পার্কে রূপ নেবে।

Leave a Reply