চট্টগ্রামের সকল সেবা সংস্থাকে সমন্বিত উদ্যোগ কাজ করার আহবান চসিক প্রশাসকের।

0
19
চট্টগ্রামের সকল সেবা সংস্থাকে সমন্বিত উদ্যোগ কাজ করার আহবান চসিক প্রশাসকের।
চট্টগ্রাম মহানগরীকে নান্দনিক ও পরিবেশবান্ধব নগর গড়ে তুলতে সব সেবাসংস্থাকে সমন্বিত উদ্যোগে উন্নয়ন কাজ পরিচালনার আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন চট্টগ্রাম।

গতকাল বুধবার (২৫ নভেম্বর) টাইগারপাসে চসিকের অস্থায়ী কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে নগরের সব সেবাসংস্থার সঙ্গে চসিকের সমন্বয় সভায় সভাপতির বক্তব্যে এ আহ্বান জানান।
এ সময় দখল, দূষণ, জলাবদ্ধতা, যানজট, অবৈধভাবে পাহাড় কাটার কারণে চট্টগ্রাম নগর এখন শ্রীহীন নগরে পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন প্রশাসক।

চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মুহাম্মদ মোজাম্মেল হকের সঞ্চালনায় সভায় চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান জহিরুল আলম দোভাষ, চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী একেএম ফজলুল্লাহ, স্থানীয় সরকার কমিশনের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন, চসিকের সচিব মুহাম্মদ আবু শাহেদ চৌধুরী, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মো. মুফিদুল আলম, কেজিডিসিএলের মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মো. সরওয়ার হোসেন, চসিকের প্রধান প্রকৌশলী লে. কর্নেল সোহেল আহমেদ, আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা আফিয়া আকতার, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রধান প্রকৌশলী কাজী হাসান বিন শামস, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. ইমাম হোসেন, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (ট্রাফিক) উপপরিচালক জয়নুল আবেদীন, বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ডা. মো. শফিকুল ইসলাম, সড়ক ও জনপথের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. হাফিজুর রহমান, পরিবেশ অধিদফতরের পরিচালক মোহাম্মদ নুরুল্লাহ নুরী, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শিবেন্দু খাস্তগীর, গণপূর্তের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ওমপ্রকাশ নন্দী, বিআরটির চট্টগ্রাম ডিভিশনের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনায় নগরের যানজট, বিদ্যুৎ, পানি, জলাবদ্ধতা, স্যুয়ারেজ, অবৈধ পাহাড় কাটা, কর্ণফুলীর দূষণ, বিমানবন্দর সড়কে যত্রতত্র কনটেইনার ইয়ার্ড গড়ে তোলা, নগরে বাস-ট্রাক টার্মিনাল না থাকার কথা উঠে আসে।

সুজন বলেন, চট্টগ্রাম এখন ধুলোর নগর। ওয়াসা ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের জন্য সড়ক কাটায় ধুলোবালি ও যানজট এখন নিত্যসঙ্গী। নগরে যানবাহন থামার নির্দিষ্ট কোনো স্টপেজ নেই। অথচ নগরে ব্যবসার পরিধি বাড়ছে। বড় বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হচ্ছে। যে কারণে গুরুত্ব বাড়ছে নগরের।

তিনি বলেন, আমি দায়িত্ব নিয়ে তিন মাসের মধ্যে রীতিমতো যুদ্ধ করে পোর্ট কানেক্টিং রোডের কাজে দৃশ্যমান অগ্রগতির চেষ্টা করেছি। আগামীকাল এ রোডের ঢালাইয়ের কাজ হবে।
এ সময় প্রশাসক গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দর সড়কে বন্দরের ট্রেইলারের কারণে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন। তিনি বন্দরের ২০ কিলোমিটারের মধ্যে কনটেইনার ইয়ার্ড করায় উদ্বেগ জানান।

জহিরুল আলম দোভাষ বলেন, আমরা অতীতের সব দূরত্ব ঘুচিয়ে সব প্রেণি পেশার মানুষের মতামতের ভিত্তিতে আমাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছি। জলাবদ্ধতার মেগাপ্রকল্পের পাশাপাশি আউটার রিং রোডের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। কোথাও ৬০ ফুট না থাকলে প্ল্যানও দেওয়া হচ্ছে না।

একেএম ফজলুল্লাহ বলেন, নগরবাসী আমাদের ভুল বুঝে সড়ক কাটার কারণে। পানি সরবরাহ বাড়াতে আমরা সড়ক কাটছি। ২০০৯ সালে নগরে পানি সরবরাহ হতো ১২ কোটি লিটার। প্রয়োজন ছিল ৪০ কোটি লিটার। সেই পরিস্থিতির এখন উত্তরণ ঘটেছে।

তিনি রাঙ্গুনিয়ার পোমরায় শেখ হাসিনা পানি শোধনাগর প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হলে সুপেয় পানির সংকট থাকবে না জানিয়ে বলেন, বর্তমানে এ প্রকল্প থেকে ৩৬ কোটি লিটার পানি উৎপাদিত হচ্ছে।
তিনি শুষ্ক মৌসুমে অগ্নিকাণ্ড রোধে ওয়াসার স্থাপিত ২৪৫টি ফায়ার ফাইটার সক্রিয় করার পাশাপাশি পানির অপচয় রোধে লক সিস্টেম চালু করা হবে বলে জানান।

মোহাম্মদ নুরুল্লাহ নুরী এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের চলমান কাজের প্রকল্প এলাকায় ধুলোবালি রোধ ও জননিরাপত্তার জন্য ঘেরা দেওয়ার ব্যবস্থা করতে বলেন ও ১ ঘণ্টা অন্তর পানি ছিটাতে বলেন।
শিবেন্দু খাস্তগীর বলেন, আমরা জলাবদ্ধতা নিরসনে ২৯টি খালের সীমানা প্রাচীরের কাজ সম্পন্ন করেছি।

মো. ইমাম হোসেন বলেন, ধারাবাহিকভাবে সব বৈদ্যুতিক মিটার প্রিপেইড করা হবে। গ্রাহক চাইলে নিজ খরচে প্রিপেইড মিটার লাগাতে পারবেন। এতে ভোগান্তি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ও হবে।
ডা. মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, কোভিড-১৯ এর দ্বিতীয় ঢেউয়ের ফলে এখন সংক্রমণ বেড়েছে। গত মাসে দৈনিক সংক্রমণ ছিল ৫০, এখন তা ১০০ জনে উন্নীত হয়েছে। করোনা রোগীদের জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৩০০, জেনারেল হাসপাতালে ২০০ ও হলিক্রিসেন্ট হাসপাতালে ১০০ শয্যা প্রস্তুত আছে।

কাজী হাসান বিন শামস বলেন, অনেক সেবা সংস্থার উন্নয়ন কাজ সাব কন্ট্রাকে হওয়ার কারণে গুণগতমান ঠিক রাখা যাচ্ছে না। দূষণও বেড়ে গেছে।

মো. সরওয়ার হোসেন বলেন, ২৫ হাজার গ্রাহকের আবেদনের প্রেক্ষিতে ২০ হাজার ডিমান্ড নোট জমা হয়েছে। ১ লাখ ৪০ হাজার প্রিপেইড মিটার লাগানো।

Leave a Reply