চট্টগ্রাম কাস্টমসে করোনার কারণে রাজস্ব আদায়ে ধস।

0
37
চট্টগ্রাম কাস্টমসে করোনার কারণে রাজস্ব আদায়ে ধস।

চট্টগ্রাম কাস্টমসে করোনা পরিস্থিতির কারণে সামগ্রিক রাজস্ব আদায়ে ধস হয়েছে। চলতি ২০২০-২০২১ অর্থবছরের প্রথম সাড়ে চার মাস অর্থাৎ জুলাই থেকে গত ১৯ নভেম্বর পর্যন্ত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৭ হাজার ৫৮০ কোটি ৫৪ লাখ টাকা কম আদায় হয়েছে। তবে আশার কথা হলো তুলনামূলকভাবে গত ২০১৯-২০২০ অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে চলতি অর্থবছর রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ বেড়েছে। টাকার অংকে প্রায় ৩০১ কোটি টাকা এবং রাজস্ব প্রবৃদ্ধি বেড়েছে ১ দশমিক ৮৪ শতাংশ। অন্যদিকে এখন পর্যন্ত বিশাল রাজস্ব ঘাটতির বিষয়ে কাস্টমস কর্তারা বলছেন, প্রতিবছরই লক্ষ্যমাত্রার পরিমাণ কিন্তু বাড়ছে। এই অর্থবছরেও লক্ষ্যমাত্রা আগের বছরের চেয়ে বেশি ধরা হয়েছে। তবে বৈশ্বিক করোনা মহামারির কারণে সারা পৃথিবীতে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে প্রভাব পড়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে এই বিশাল রাজস্ব ঘাটতি হতো না।

চট্টগ্রাম কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছর রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬৫ হাজার ৪৩৩ কোটি টাকা। সে হিসেবে জুলাই থেকে গত ১৯ নভেম্বর পর্যন্ত লক্ষ্যমাত্রা দাঁড়ায় ২৪ হাজার ২১৫ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। অন্যদিকে এই সময়ে আদায় হয়েছে ১৬ হাজার ৬৩৪ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। অর্থাৎ রাজস্ব ঘাটতি হয়েছে ৭ হাজার ৫৮০ কোটি ৫৪ লাখ টাকা।
কাস্টমস সূত্রে আরো জানা গেছে, চলতি অর্থবছরের জুলাই মাসে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ৪ হাজার ৯৮০ কোটি ৫৪ লাখ টাকা, আগস্টে ৫ হাজার ২৯৮ কোটি ৯৭ লাখ টাকা, সেপ্টেম্বরে ৪ হাজার ৪৫০ কোটি ৮৫ লাখ টাকা, অক্টোবরে ৫ হাজার ৩৭৪ কোটি ২৭ লাখ টাকা, নভেম্বরে ৬ হাজার ৩৭ কোটি ১ লাখ টাকা এবং ডিসেম্বরে ৫ হাজার ৪২৭ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। এছাড়া জানুয়ারিতে ৫ হাজার ৭১৭ কোটি ২৪ লাখ টাকা, ফেব্রুয়ারিতে ৪ হাজার ৯৪২ কোটি ৬৯ লাখ টাকা, মার্চে ৫ হাজার ৫৫৭ কোটি ৬৩ লাখ টাকা, এপ্রিলে ৬ হাজার ৩২৫ কোটি ৮১ লাখ টাকা, মে মাসে ৬ হাজার ১৯৯ কোটি ৫৯ লাখ টাকা এবং জুনে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫ হাজার ১৩১ কোটি ৪ লাখ টাকা।
কাস্টমসের কর্মকর্তারা জানান, করোনা পরিস্থিতির কারণে সারা বিশ্বেই আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে বিরূপ প্রভাব পড়েছে। ফলে দেশীয় শিল্পের কাঁচামাল আমদানি আগের তুলনায় কমে গেছে। এছাড়া উচ্চ শুল্কের অনেক পণ্যের আমদানিও আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে। ফলে রাজস্ব আদায়ও কম হয়েছে।
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের কমিশনার মোহাম্মদ ফখরুল আলম বলেন, সামগ্রিক রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি হলেও গত অর্থবছরের এই সময়ের তুলনায় এখন পর্যন্ত পজিটিভ গ্রোথই আছে। আপনারা জানেন, এক্ষেত্রে করোনা একটি বড় বাঁধা। এটি পুরো বিশ্বের সমস্যা। অন্যদিকে উচ্চ শুল্কের অনেক খাতের পণ্য আমদানি কমে গেছে। আমরা আশা করি করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হলে আমদানির পরিমাণ আরো বৃদ্ধি পাবে। যদিও বিশ্বব্যাপী করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হয়েছে। আমাদের এখানেও সেই ধাক্কা লাগতে পারে। করোনার আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। আমরা এই করোনা পরিস্থিতিতেও স্টেকহোল্ডারদের সর্বোচ্চ সেবা দেয়ার চেষ্টা করছি।

Leave a Reply