পাবনার বেড়ায় উন্মুক্তভাবে বিক্রি হচ্ছে কয়লা এতে পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে ব্যাপক হারে।

0
69

পাবনাঃ পাবনা বেড়া উপজেলার নগরবাড়ী নৌবন্দরে উন্মুক্তভাবে বিক্রি করা হচ্ছে কয়লা এতে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর।

এদিকে সুরক্ষা সামগ্রী ছাড়াই মাথায় কয়লা বহন করায় স্বাস্থ্যঝুকিতে পড়ছেন শত শত শ্রমিকরা। এছাড়া উন্মুক্ত স্থানে কয়লা রাখায় ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে আশপাশের ফসলি জমি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময় সতর্ক করার পরিপ্রেক্ষিতে ব্যবসায়ীরা উন্মুক্তভাবে কয়লা বিক্রি না করার প্রতিশ্রুতি দিলেও তা মানছেন না কেউ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সোহেল ট্রেডার্স, আমান ট্রেডার্স, নওয়াপাড়া ট্রেডার্সসহ সাতজন কয়লা ব্যবসায়ী রয়েছে নগরবাড়ীতে। ইন্দোনেশিয়া থেকে আমদানি করা এ কয়লা কার্গো জাহাজে করে নগরবাড়ী নৌবন্দরে এনে বিক্রি করছেন তারা।

চিকিৎসকদের মতে জানা যায়, কয়লার গুড়ো শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে ঢুকে যায় ফুসফুসে। ফলে ক্যান্সারসহ যক্ষা রোগের ঝুঁকি বেশি বেড়ে যায়। কিন্তু দেখা যায় এই কয়লা মাথায় করে বহন করে শত শত শ্রমিক।

লোড-আনলোডের সময় ছাড়াও স্তুপাকৃত কয়লার গুড়ো বাতাসে মিশ্রিত হয়ে পার্শ্ববর্তী ফসলী জমিতে পড়ছে, এতে ওইসব জমি ফসল চাষের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। তাছাড়াও রোদে তাপে কয়লার স্তুপে আগুন ধরতেও দেখা গেছে।

বেড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ জাহিদ হাসান সিদ্দিকী জানান, যারা কোন রকম প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা ছাড়াই কয়লা বহনের কাজ করে তাদের শ্বাসকষ্ট, ক্ষুধামন্দা, ফুসফুসের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ছিদ্রগুলো ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

এতে শ্বাস-প্রশ্বাসের কষ্টের পাশাপাশি কাশি শুরু হয়ে থাকে। অল্প কিছুদিনের মধ্যেই সেটা যক্ষার রুপ ধারণ করে থাকে।

বেড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ মশকর আলী বলেন, জমিতে কয়লার স্তর পড়লে ফসল কম হবে। কারণ মাটি ঠিকমত প্রাকৃতিক খাদ্য ও বাতাস থেকে প্রয়োজনীয় উপাদান গ্রহন করতে অন্তরায় সৃষ্টি হবে।

তবে কয়লা জাহাজ থেকে আনলোড হবার পর নিদিষ্ট স্থানে আবদ্ধ করে রেখে বিক্রি করলে সবার জন্যই উপকার। পরিবেশ অধিদপ্তরের সনদ নিয়ে নিয়ম অনুয়ায়ী সংরক্ষিত এলাকায় এ ব্যবসা করা দরকার বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বেড়া ইউএনও আসিফ আনাম সিদ্দিকী বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময় নগরবাড়ী ঘাট এলাকার কয়লা ব্যবসায়ীদের সতর্ক করা হয়েছে।

তারা উন্মুক্তভাবে কয়লা বিক্রি না করে কয়লা ঢেকে রেখে বিক্রির প্রতিশ্রুতি দিয়ে ছিলেন। কিন্তু অনেকেই তা মানছেন না। তাদের বিরুদ্ধে দ্রুতই অভিযান চালিয়ে শাস্তির আওতায় আনা হবে বলেও জানান আসিফ আনাম সিদ্দিকী।

Leave a Reply