নাটোরে মুক্তিযোদ্ধা ডা. আয়নাল হত্যায় দুই আসামীর ফাঁসি, ১১ জন খালাস।

0
5

পিন্টু স্যার,নাটোর প্রতিনিধি:-

নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও মাঝগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের তৎকালীন চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা ডা. আয়নাল হক হত্যা মামলায় দুই আসামীকে মৃত্যুদন্ড ও ১১ আসামীকে খালাস দিয়েছে আদালত।

মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্তরা হলেন, মহিষভাঙ্গা গ্রামের বাহার উদ্দীন মোল্লার ছেলে তোরাব মোল্লা ও পলান মোল্লার ছেলে শামীম মোল্লা।

আজ সোমবার(২১শে সেপ্টেম্বর) দুপুরে নাটোরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক সাইফুর রহমান সিদ্দিক আলোচিত এই হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেন।

অপরদিকে, খালাসপ্রাপ্ত আসামীরা হলেন- আতাউর রহমান, লুৎফর রহমান, ছোরাব মোল্লা, সালাম মোল্লা, রেজাউল করিম, জিয়াউল করিম, আব্দুর রহিম, আনিসুর রহমান, নাজমুল হক, বয়েন মন্ডল ও রেজাউল করিম ভুট্টো।

নাটোর জজ কোর্টের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম জানান, ২০০২ সালের ২৯ মার্চ বড়াইগ্রামের বনপাড়া বাজারে প্রকাশ্যে পিটিয়ে ও অস্ত্রের আঘাতে উপজেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা ডা. আয়নাল হককে হত্যা করা হয়।

এ ঘটনায় একই বছরের ৩১ শে মার্চ ডা. আয়নাল হকের পুত্রবধু নাজমা রহমান বাদি হয়ে মোট ১৭ জনকে আসামী করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। বড়াইগ্রাম থানার তৎকালীন অফিসার ইনচার্জ ইদ্রিস আলী ভুঁইয়াই মামলার তদন্ত করেন।

তদন্তে মামলার ১ নম্বর আসামী একরামুল হক ও ৪ নম্বর আসামী সাহের উদ্দীনের সম্পৃক্ততা প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়ে অন্য আসামীদের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশীট দাখিল করেন। এতে মামলার বাদী নাজমা রহমান নারাজি দিলে জুডিশিয়াল তদন্ত শুরু হয় এবং সেখানে দুজনার সম্পৃক্ততার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাদের নাম নতুন করে চার্জশিটভুক্ত করা হয়।

মামলা চলাকালীন সময়ে আসামী একরামুল হক ও সাহের উদ্দীনসহ চারজন মৃত্যুবরণ করেছেন। তিনজন পলাতক রয়েছেন। বাকি আসামীরা রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

রায় পরবর্তী এক প্রতিক্রিয়ায় ডা.আয়নাল হকের ছেলে ও বনপাড়া পৌর মেয়র কে এম জাকির হোসেন জুয়েল বলেন, রায়ে মাত্র দুইজনের মৃত্যুদন্ড আর ১১জন খালাস পাওয়ার কারনে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা হয়নি। খালাসপ্রাপ্ত আসামীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে।

Leave a Reply