নীলফামারীতে ভুয়া পুলিশ সুপার গ্রেফতার।

0
7

নীলফামারী প্রতিনিধিঃ- নীলফামারী জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোকলেছুর রহমানের ছবি ব্যবহার করে ফেসবুক একাউন্ট খুলে ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারের মাধ্যমে কল করে বিভিন্ন মামলার আসামীদের আত্মীয়-স্বজনদের ফোন করে টাকা-পয়সা আদায় করার এক অভিনব পদ্ধতি ব্যবহার করতেন ভুয়া পুলিশ সুপার জনাব মোস্তাফিজুর রহমান বাবু ওরফে নিরব। জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে জানা যায়, ভুয়া এসপি মোস্তাফিজুর রহমান বাবু ওরফে নিরব নওগা জেলার নিয়ামতপুর উপজেলার চৌরাপাড়া গ্রামের মোঃ সিরাজুল ইসলামের ছেলে। এবং সে বর্তমানে চট্টগ্রাম জেলার মধ্য হালিশহর মাইজপাড়ায় বসাবাস করে।

এসপি মোখলেছুর রহমানের নাম ভাঙ্গিয়ে ৮ জনের কাছ থেকে বিকাশে টাকা আদায়ের চেষ্টাকালে সোমবার ২১শে সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় সৈয়দপুর শহরের শুটকির মোড় এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয় এবং তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে তারই সহযোগী চাচাতো বোন সুফিয়া বেগমকে গ্রেফতার করা হয় দিনাজপুর জেলার কাহারোল এলাকার রামচন্দ্রপুর এলাকা থেকে মঙ্গলবার ২২শে সেপ্টেম্বর জেলা পুলিশ সুপারের সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে নিশ্চিত করেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোখলেছুর রহমান বিপিএম পিপিএম।

এসময় তিনি বলেন- আমার নিজস্ব ফেসবুক থেকে ছবি সংগ্রহ করে ভুয়া একাউন্ট খুলে সে। বিষয়টি জানার পর তদন্ত শুরু করা হয়। এক পর্যায়ে আমার নাম ব্যবহার করে টাকা আদায়ের চেষ্টা করলে বিষয়টি নজরে আসে এবং তাকে গ্রেফতারের অভিযান শুরু হয়।

প্রতারক নীরব ডিআইজিসহ বিভিন্ন জেলার এসপির নামে ভুয়া আইডি খুলে ম্যাসেঞ্জারের মাধ্যমে ফেসবুক ব্যবহারকারীদের ফোন করতো এবং মামলা থেকে বাচাতে টাকা আদায় করতো। তার এই কাজে সহায়তা করতো চাচাতো বোন সাবেক ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সুফিয়া বেগম। বিকাশে আসা টাকা তারা দু’জনে ভাগ করে নিতো। নীরব ভোলা জেলা থেকে একজন এসআইর ছবি দিয়ে আইডি খুলে এই প্রতারণা শুরু করে। ৬৮জনের কাছ থেকে প্রায় সাড়ে চার লাখ টাকা আদায় করেছে সে। যেটি বিকাশের স্টেটমেন্টে প্রাথমিক ভাবে জানা গেছে। তিনি আরো বলেন- এর আগেও এরকম প্রতারনার মাধ্যমে মামলা হলে ২৩মাস জেল খাটে।

এ ঘটনায় আরও কারা জড়িত রয়েছে এবং কতজনের সাথে প্রতারণা করেছে সবাইকে গ্রেফতার করা হবে বলে জানান এসপি মোখলেছুর রহমান। বিকেলে আদালতের মাধ্যমে গ্রেফতারকৃত দু’জনকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল বাশার মোহাম্মদ আতিকুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সৈয়দপুর সার্কেল অশোক কুমার পাল, জেলা গোয়েন্দা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ(ওসি) হারুন উর রশিদ, সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক মাহমুদ উন নবী।

Leave a Reply