পুলিশ যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রস্তুত- এসপি নূরুল।

0
3

পুলিশ যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রস্তুত- এসপি নূরুল।

মিনহাজুল ইসলাম,ভাম্যমান প্র‍তিনিধি,চাঁপাইনবাবগঞ্জ :-করোনাকালের ছয় মাসে কুমিল্লা জেলা পুলিশের নানা কর্মকাণ্ড।

কুমিল্লায় করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর থেকে কুমিল্লা জেলা পুলিশ সদস্যরা অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছেন। করোনার বিস্তার রোধে দায়িত্ব পালন করে ইতোমধ্যে ২৪৮ জন পুলিশ সদস্য আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৮৫ জন করোনা সুস্থ পুলিশ সদস্য প্লাজমা দান ও ৭৫৪৫৮ পরিবারে খাদ্য সহায়তা দিয়ে পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি উজ্জল করেছে।

করোনা সম্পর্কে সচেতনতামূলক বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের পাশাপাশি মানুষের মাঝে সুরক্ষাসামগ্রী বিতরণ করছেন কুমিল্লা জেলা পুলিশ।

করোনাকালীন অসুস্থদের হাসপাতালে পৌঁছে দিয়েছেন। করোনায় কেউ মারা গেলে লাশ দাফনের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছে পুলিশ সদস্যরা। এসব কারণে কুমিল্লার পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম বিপিএম (বার) পিপিএম জেলাজুড়ে উচ্চ প্রশংসিত হয়েছেন।
মার্চের শেষের দিকে করোনাভাইরাস সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর থেকে পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে জনগণকে সচেতন করতে কুমিল্লা পুলিশ ৫০ হাজার লিফলেট বিতরণ করেছে। করোনা রোধে জলকামান দিয়ে জেলার ১৮টি থানায় জীবাণুনাশক ছিটানো হয়েছে। ঢাকা চট্রগ্রাম মহাসড়কে চলাচলকারী যানবাহনেও এ কার্যক্রম ছিল লক্ষনীয়। গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে সচেতনতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপন করেছে পুলিশ। পুলিশ যেন স্বাচ্ছন্দ্যে কাজ করতে পারে এজন্য সদস্যদের মাঝে সুরক্ষাসামগ্রী পিপিই, মাস্ক, স্যানিটাইজার ও চশমা বিতরণ করা হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে মৃত ব্যক্তিদের দাফনের ব্যবস্থা করছেন পুলিশ সদস্যরা।

এছাড়া কুমিল্লা জেলা পুলিশের সদস্যরা লকডাউন কার্যকরে অকান্ত পরিশ্রম করেছেন। আন্তঃজেলা ও আন্তঃউপজেলা গণপরিবহন বন্ধে দিন-রাত মাঠে থেকে কাজ করেছেন পুলিশ বাহিনী। বিদেশ ফেরত ও দেশে করোনা উপদ্রুপ এলাকা থেকে আসা লোকজনের হোম কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত, আক্রান্ত পরিবারগুলোকে লকডাউন এবং রোগীদের আইসোলেশনে পাঠানোর কাজ করছেন কুমিল্লা জেলা পুলিশ।

লকডাউনের পুলিশের ‘ডোর টু ডোর শপ’ চালু করে মানুষের ব্যাপক সাড়া ও প্রশংসা কুড়িয়েছে কুমিল্লার পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম।

এসময় ৫৪ দিনে চাল ৮৫,৪৩২ কেজি, ডাল ৫২,৯০১ কেজি, লবন ৫৩,২৪০ কেজি, তৈল ৪২,২৭৫ লিটার, আলু ৫৪,৩৩৯ কেজি, চিনি ১৯,৯৩৪ কেজি, পেঁয়াজ ৪,৪২৪ কেজি, সাবান ১১,৫৮৬ পিছ, টিস্যু ১২০ প্যাকেট, মশার কয়েল ৫,৯৭২টি, রসুন ২,৯৬৮ কেজি, ডিটারজেন্ট ৫৯ কেজি, ছোলা ১৪,৯৪৫ কেজি, আটা ২,৬৩৫ কেজি, আদা ৮৬০ কেজি এবং চাপাতা ২৮৬ কেজি ৭৫,৪৫৮ টি পরিবারের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে।

ভাসমান বেদে সম্প্রদায়ের মাঝে খাদ্য বিতরণ করা হয়েছে। ত্রাণের জন্য লাইনে দাঁড়াতে না পারা প্রায় ৩ হাজার পরিবারকে গোপনে ও প্রকাশ্যে বাড়িতে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দিয়েছেন পুলিশ সদস্যরা।

এদিকে জনগণকে সহযোগিতা দিতে গিয়ে করোনায় আক্রান্ত হওয়া জেলা পুলিশের ২৪৮ জন সদস্যের মধ্যে ২১০ জন কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও বাকিরা ঢাকা রাজারবাগ কেন্দ্রীয় হাসপাতালে আইসোলেশন ইউনিটে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়েছেন।

এব্যাপারে পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম বিপিএম (বার) পিপিএম বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আইজিপির নির্দেশে কুমিল্লা জেলা পুলিশ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। করোনার বিস্তার রোধে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে গিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে অনেক পুলিশ সদস্য মারা গেছেন। কঠোর পরিশ্রমের পরও পুলিশ সদস্যদের মনোবল চাঙ্গা ছিলো। এ দুর্যোগে কুমিল্লা জেলা পুলিশ যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রস্তুত। পুলিশ সুপার আরও বলেন, শুধু করোনাভাইরাস মোকাবেলা কর্মসূচি বাস্তবায়নের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ রাত জেগে টহল দিচ্ছে।

Leave a Reply