পাবনার ঈশ্বরদীতে আওয়ামীলীগ নেতা ও মুক্তিযোদ্ধার বিরুদ্ধে চাউল, বয়স্ক ভাতা ও ঘর দেওয়ার নামে প্রতারণা।

0
29

পাবনার ঈশ্বরদীতে আওয়ামীলীগ নেতা ও মুক্তিযোদ্ধার বিরুদ্ধে চাউল, বয়স্ক ভাতা ও ঘর দেওয়ার নামে প্রতারণা।

মোঃ রেজাউল করিম বাবু পাবনা জেলা প্রতিনিধিঃ-

পাবনার ঈশ্বরদীতে এক আওয়ামীলীগ নেতা ও এক মুক্তিযোদ্ধার বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদী চাউলের কার্ড, বয়স্ক ভাতা কার্ড ও গৃহহীনদের সরকারী বরাদ্দকৃত ঘর দেওয়ার নামে লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অভিযুক্ত আলতাফ সরদার ঈশ্বরদী উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের মানিকনগর গ্রামের (৫নং ওয়ার্ড) আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি, আরেকজন একই গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেন রুমি।

ভুক্তভোগীরা জানায়, সরকারী বয়স্ক ভাতার কার্ড, দীর্ঘমেয়াদী চাউলের কার্ড ও গৃহহীনদের জন্য সরকারী বরাদ্দের ঘর দেওয়ার কথা বলে প্রায় অর্ধশতাধিক পরিবারের কাছ থেকে (১০০০-২০০০ টাকা করে) লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ নেতা আলতাফ সরদার ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেন রুমি।

গোপনীয়তা রক্ষা না করলে কার্ড বা ঘর না পাওয়ার ভয় দেখিয়ে দিনের পর দিন পার হয়ে গেলেও কোনো কার্ড বা ঘর দেন নি কাউকে।

এদিকে বুধবার (৩০শে সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঈশ্বরদী উপজেলার মানিকনগর আনসার প্রশিক্ষণ মাঠ সংলগ্ন স্থানে জমায়েত হন ভুক্তভুগি এলাকাবাসী।
এরপর একের পর এক অভিযোগ দিয়ে প্রত্যেকে স্বাক্ষর ও টাকার পরিমান উল্লেখ করেন। যেখানে বেশির ভাগ অভিযোগই আওয়ামীলীগ নেতা আলতাফ সরদারের নামে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, সলিমপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক নায়েক এম.এ কাদের, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী তৌফিকুজ্জামান রতন মহলদার, আওয়ামীলীগ নেতা মখলেছুর রহমান, আব্দুর রহমান ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ সহ সর্বসাধারণ।

ভুক্তভোগীরা আরও জানান, বয়স্ক ভাতার কার্ড দেয়ার কথা বলে তাদের প্রত্যেকের কাছ থেকে ১০০০-২০০০ টাকা করে নেওয়া হয়েছে কিন্তু আজ পর্যন্ত ভাতার কার্ড কিংবা টাকা ফেরত কিছুই দেয়া হয়নি তাদের। টাকা বা কার্ড চাইলে মারার হুমকি দেন আলতাফ সরদার।

এসব অভিযোগের বিষয় জানতে চাইলে আলতাফ সরদারের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। কিন্তু বিষয়টি অপপ্রচার দাবি করে বীর মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেন রুমি জানান, আমি এলাকার অসহায় মানুষের জন্য কাজ করেছি। সরকারী তহবিলের পাশাপাশি নিজের ব্যক্তিগত ভাবেও মানুষকে সহযোগীতা করেছি। একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে ঈশ্বরদী উপজেলায় আমার সুনাম রয়েছে, আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে তার রাজনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। একটি পক্ষ তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে এসব অপপ্রচার করছে। আর আলতাফ সরদারের ব্যাপারে কিছুই জানি না।

তবে ভুক্তভোগীদের স্বাক্ষরের তালিকা দেখানোর পর বিষয়টি স্বীকার করে বলেন হাতে গোনা কয়েকজন অসহায় মানুষদের সাহায্য করার উদ্দেশ্যে এটুকু করেছি। তবে তাদের সাহায্য করতে গিয়ে নিজের ওপর অপবাদ আসলে টাকা ফেরত দিয়ে দেব। এদিকে এসব ঘটনার প্রতিবাদ করায় স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা মখলেছুর রহমানকে মারধোর করেন আওয়ামীলীগ নেতা আলতাফ হোসেন। এ বিষয়ে তার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ রয়েছে বলে জানা গেছে।

দ্রুত এ ঘটনার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের সহযোগীতা কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা।

এ ব্যাপারে সলিমপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ বাবলু মালিথা বলেন, এ বিষয়ে আমি অবগত নই। তবে বিষয়টি তদন্ত করে তারপর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Leave a Reply