হাকিমপুরে ইদুরের আক্রমণ ও রোগ বালাইয়ে ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে আমন ধানের ।

0
8

হাকিমপুরে ইদুরের আক্রমণ ও রোগ বালাইয়ে ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে আমন ধানের ।

হিলি স্থল বন্দর প্রতিনিধি:  হাকিমপুরে   ইদুরের  আক্রমণ ও রোগ বালাইয়ে ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে আমন ধানের । দুঃচিন্তায়  দিশেহারা হয়ে পড়েছে কৃষকরা।  ফুতি  পোকা, ল্যাদা  পোকা, মাজরা পোকার  সঙ্গে যোগ হয়েছে পাতা মোড়ানো পোকার। বিভিন্ন রকম কীটনাশক ছিটিয়েও লাভ হচ্ছে না। চাষীরা বলছে, সপ্তাহ দুয়েক পরেই ধানের শিষ আসবে এমন সময়ে ধান ক্ষেতে পোকার আক্রমনে ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন তারা। এ অবস্থায় কৃষি কর্মকর্তাদের সাহায্য মিলছে না বলে অভিযোগ তাদের। অন্যদিকে কৃষি-কর্মকর্তাদের দাবি, তারা সবকিছু পর্যবেক্ষণ করছেন এবং পোকার আক্রমণে তেমন ক্ষতির আশঙ্কা নেই। 

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, পর্যপ্ত বৃষ্টি ও আবহাওয়া অনূকুলে থাকায় হাকিমপুর উপজেলায় এবার রেকর্ড পরিমাণ জমিতে আমন ধান চাষ হয়েছে। উপজেলায় চলতি মৌসুমে এবার আমন ধানের চাষের লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছে  ৮ হাজার ২১০ হেক্টর । যা গত বছরের চেয়ে ৫ হেক্টর বেশী। পুরো মৌসুমে আবহাওয়া ভালো থাকলে ফলনেও রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে বলে আশাবাদী কৃষিবিভাগ।  

হাকিমপুরের বিভিন্ন এলাকার কৃষকদের সাথে কথাবলে জানা গেছে, চলতি মাসেই আমন ধানের ক্ষেতে দেখা দিয়েছে ল্যাদা পোকা, মাজরা পোকা, ফুতি পোকা ফড়িং ও পাতা মোড়ানো পোকার  । বাজারের কীটনাশক দিয়েও এ সব পোকার আক্রমণ ও রোগ ঠেকাতে পারছেন না কৃষকরা। অনেক এলাকায় বের হওয়া নতুন শীষও কালো হয়ে যাচ্ছে। এমন অবস্থা দীর্ঘ দিন বিরাজ করলে এ উপজেলায় ধানের ফলন লক্ষ্যমাত্রার  কম হওয়ার আশঙ্কা করছেন চাষিরা। 

হাকিমমপুর উপজেলার জালালপুর  গ্রামের কৃষক হামিদুল্ ইসলাম জানান,  বি,আর৩৪ জাতের ধানে পাতা পোড়া রোগের কথা।কৃষক সায়েম বলেন,  কয়েক দিনের মধ্যে ধানে শীষ দেখা দেবে। কিন্তু কোনো কিছুতেই মাজরা পোকার আক্রমণ থেকে ক্ষেত রক্ষা করতে পারছিনা। বিভিন্ন কোম্পানির কীটনাশক তিন-চার বার স্প্রে করেও কাজ হচ্ছেনা। এবছর বর্ষার পরিমান বেশি হওয়ায় মাঠ জুড়ে ধানের চেহারা ভালো ছিল। কিন্তু হঠাৎ মাজরা পোকা ও চুঙ্গি পোকার আক্রমণে হতাশ হয়ে পড়েছেন তিনি।  

মনষাপুর মৌজার কৃষক রেজাউল ইসলাম বলেন এবার তিনি ৯একর জমিতে ধান চাষ করেছেন তার মন খুব খারাপ হয়েছে ইদুরের কারনে খুব ক্ষতি করছে ইদুর ইদুরে উপদ্রপ থেকে বাঁচতে কলা গাছ লাগানো, পলেথিন বেধে শব্দ তৈরী, সহ বিভিন্ন ব্যাবস্থা নিচেছন তিনি , মাজরা পোকা, আর খোলপচা রোগ ও দেখা যাচেছ ফলে  ধান কি পরিমান হবে মাথায় আসছেনা । কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের সাহায্য চেয়েও তাদের দেখা মেলছে না। ধান চাষের অভিজ্ঞতা থেকেই বাজার থেকে কীটনাশক এনে ক্ষেতে স্প্রে করছি। পর পর৩/ ৪ বার বিষ দেয়া হয়েছে। তবুও আমনের ক্ষেত সবুজ রঙে আনতে পারছি না। কি করব ভেবে পাচ্ছি না। তাই আবারো স্প্রে করছি।

,কথা হয় এক জন সফল প্রান্তিক চাষীর সংঙ্গে তার নাম মোঃ আবু তোরাপ, উপজেলার ৩নং আলীহাট উনিয়নের কাদিপুর গ্রামের কৃষক। তিনি জানান দীর্ঘ ২৪ বৎসর যাবৎ চাষাবাদ করনে তিনি, ইদুর তাড়াতে ম্যালাথিয়ন ব্রাবহার করে ভালো উপকার পেযেছেন। প্রতি বিঘায় (৩৩শতাংশ)জমিতে ৬০ মিঃলিঃ ঔষধ প্রয়োগ করে ।আর বিআর৩৪ ধানের পাতা সাদা রোগের জন্য লিকু্ইড পটাশ স্প্রে করলে ভালো ফল পাওয়া যেতে পারে।আবার, আমন ক্ষেতে ডাল পুতে পাখি বসার ব্যবস্থা ও রাতে আলোর ফাঁদের ব্যবস্থা করলে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা হবে এবং এ ভাবেই পোকা দমন করার পরামর্শ দিচ্ছে কৃষি বিভাগ। সমগ্র উপ জেলা জুড়ে এখনো আমন ক্ষেতে স্বাভাবিক অবস্থা বিরাজ করছে বলে দাবি কৃষি কর্মকর্তাদের ।

Leave a Reply