কবিতা:-বরষার আগমনে!!

0
15

বরষার আগমনে,শফিউর রহমান

‘বাদল দিনের প্রথম কদমফুল করেছ দান
আমি দিতে এসেছি শ্রাবণের গান’

-রবীন্দ্রনাথের বর্ষার এ ধরণের আবেগময় গান পৃথিবীতে শুধু বাঙালিদের জন প্রযোজ্য -বর্ষা ঋতুযে শুধু বাঙালির ঋতু, কবিদের ঋতু, নজরুল-রবীন্দ্রনাথের ঋতু।

রোমান্টিক ঋতু বর্ষা এই প্রবাসে-পরবাসে নীরবে-নিভৃতে চলে এসেছে। পৃথিবীর আর কোথাও ঋতু হিসাবে বর্ষার কোন স্বতন্ত্র পরিচয় বা নাম নাই যা একমাত্র ষড়ঋতুর দেশ বাংলাদেশে তথা বাংলায় রয়েছে। গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত ও বসন্ত এই ষড়ঋতু যেটা হয়েছে একান্ত প্রকৃতিগত কারণে এবং এটাই হল বাংলার ব্যতিক্রমধর্মী বৈশিষ্ট্। বর্ষাবিহীন বাংলাদেশ! কল্পনাই করা যায় না।

বর্ষা হল একা, একমাত্র তার জুড়ি নেই- বর্ষা হল বাঙালিদের শুধু বাঙালিদের ঋতু, কবিদের ঋতু, কবিতার ঋতু, প্রেমের ঋতু, আবেগের ঋতু, প্রিয়জনকে সান্নিধ্যে পাবার আকাঙ্ক্ষার ঋতু। এই বর্ষায় ভালবাসিবার সাধ জাগে, বথিত-বঞ্চিত জীবনকে সে ভরে দিতে চায় ঘ্রাণে- এতো দুঃখের মধেও মনে হয় জীবনে এত সুখ!

বর্ষাকে নিয়ে এত কবিতা, এত ছড়া, এত গল্প. এত কাব্য গ্রন্থ, এত উপন্যাস-উপাখ্যান পৃথিবীর আর কোন ভাষায় বা সাহিত্যে হয়নি যেটা হয়েছে বাংলা ভাষায় বা সাহিত্যে- তাই এক কথায় বলা যায় বাংলা কাব্য বর্ষাময়। শীতপ্রধান দেশের বা অন কোন দেশের কবির কাছে বর্ষার এমন কদর নেই বর্ষাকে তাঁরা ভালভাবে চেনেনই না, জানেনই না এটাই স্বাভাবিক তাই সারা পৃথিবীর একমাত্র বাংলাদেশেই অর্থাৎ সমগ্র বাংলায় বর্ষাকে আনুষ্ঠানিকভাবে বরণ করে নেওয়া হয় এটাই বাংলার গর্ব ও ঐতিহ্য এবং আলাদা বৈশিষ্ট। রবীন্দ্রনাথের “বর্ষামঙ্গল” এবং কালিদাসের ‘মেঘদূত’ কাব্য গ্রন্থের কথা স্মরণ না করলে যে বর্ষার আলোচনাই যে বৃথা।

‘মেঘদূত’-এ বর্ষার সমস্ত অন্তর্বেদনা বর্ণিত রয়েছে আর রবীন্দ্র সাহিত্য-সঙ্গীত জুড়েই আছে বর্ষা। রবীন্দ্রসঙ্গীতে বর্ষা ঋতুটা রবীন্দ্রনাথ স্নিগ্ধ-শামল সুন্দর রপে বর্ণনা করেছেন। রবীন্দ্রনাথের ‘গীতবিতান’-এর পাতায় পাতায় বর্ষার ঘনঘটা। ‘নিঃসীম শনে শ্রাবণ বর্ষণ সঙ্গীতে’ আর এই শ্রাবণ মাসেই বর্ষাপ্রেমিক বিশ্বকবির মহাপ্রয়াণ দিবস
এবং এই শ্রাবণের কৃষ্ণ মেঘের ভেতরই তিনি অমর হয়ে আছেন।

শফিউর রহমান
আইন ও মানবাধিকার বিভাগ
বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়,ভাম্যমান প্রতিনিধি
দৈনিক আমার বাংলা।

Leave a Reply