নওগাঁয় নদীর বালু মহালে অবৈধভাবে গাছ লাগিয়ে দখল ও চাঁদাদাবীর অভিযোগ

0
1
নওগাঁয় নদীর বালু মহালে অবৈধভাবে গাছ লাগিয়ে দখল ও চাঁদাদাবীর অভিযোগ


নাদিম আহমেদ অনিক, নওগাঁ রিপোর্টার: নওগাঁর বদলগাছীতে ছোট যমুনা নদীর বালু মহালে অবৈধভাবে গাছ লাগিয়ে জোর পূর্বক দখলের নিয়ে বালু উত্তোলনে বাধা প্রদান করে চাঁদাদাবীর অভিযোগ উঠেছে শৈলেন মেম্বার নামে এক প্রভাবশালী বিরুদ্ধে।

জানা যায়, নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার ছোট যমুনা নদীর তাজপুর দওয়ের পাশে সময়ের ভাঙ্গনে প্রায় ১০/১৫ বিঘার বালু চর তৈরী হয়। স্থানীয় কটকবাড়ী গ্রামে সুযোগ সন্ধানী শৈলেন মেম্বার চরের পাশে তার পৈতিক কিছু জমি থাকার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ঐচর নিজের বলে জোর পূর্বক দখল করে পর্যায়ক্রমে গাছ লাগাতে থাকেন। বালু মহাল ইজারাদার ঐস্থানে বালু উত্তোলন করতে গেলে তাদের প্রাননাশের হুমকি দিয়ে প্রভাব দেখিয়ে বালু উত্তোলনে বারবার বাধা সৃস্টি করে ।

গত ১ জুলাই বালু মহাল ইজারার লোকজন ঐস্থানে বালু উত্তোলন করতে গেলে ( হিন্দু সম্পদায়ের লোক হওয়ায় তার জমি কেউ জোরপূর্বক দখল করছে বলে) নিজেকে অসহায় সংখ্যালঘু পরিচয় দিয়ে ভুল বুঝিয়ে পুলিশকে নিয়ে এসে ইজারাদারের লোকজনকে শৈলেনগন বেধর মারধর করে বালু উত্তোলন কাজের বেশ কিছু জিনিস ছিনতাই করে নিয়ে যান। পরে ইজারাদারের অভিযোগের পেক্ষিতে উপজেলা ভূমি অফিস থেকে মাপযোগ করলে ঐস্থানে ১০/১৫ বিঘা জমি বালু মহালের বলে প্রতিয়মান হয়। যেখানে ভুমি অফিস লাল ফাল্লা দিয়ে ইজারাদারকে বুঝিয়ে দেয়। তা সর্ত্তেও প্রভাবশালী শৈলেন মেম্বার বারবার বালু উত্তোলন কাজে বাধা সৃষ্টি সহ লোকজনকে প্রানে মেরে ফেলার ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। বালু মহাল ইজারার লোকজন শৈলেন মেম্বারকে এসব বন্ধ করতে অনুরোধ করলে তিনি ৫ লক্ষ টাকা চাঁদাদাবী করে বলেও অভিযোগ উঠেছে।আর এমনটা চলতে থাকলে এবছর বালু মহালে লোকসান হবে বলে এর দ্রুত প্রতিকার চেয়েছেন বালু মহাল ইজারাদার।

স্থানীয় তাজপুর গ্রামের দেলোয়ার হোসেন বলেন, চরের পাশে সামান্য কিছু জমি থাকায় শৈলেন মেম্বার বালু মহালের সম্পর্ন চরটায় গাছ লাগিয়ে দখল করে নিয়েছে। এখানে ১০/১৫ বিঘা চর ছাড়াও আরও ৫ বিঘা খাস জমি আছে যা অবৈধভাবে শৈলেন মেম্বারের পরিবার দখল করে রেখেছে। এমন কি অন্যদের সেখানে গরু-ছাগলকে ঘাস খাওয়াইতেও দেয়না। আর কিছু বললেই নিজের অসহায় সংখ্যালঘু পরিচয় দিয়ে সংবাদিকদের নিকট মিথ্যা অভিযোগ করেন ।

বালু মহালের সংঙ্গে সংম্পৃক্ত মানিক বলেন, শৈলেন মেম্বার একজন ভুমিদস্যু ও চাঁদাবাজ লোক। এর আগে নৌকা প্রতি ৩ শত টাকা করে সে নিত। যখন জানলাম এটি বালু মহালের জায়গা তখন ঐ টাকা দেয়া বন্ধ করে দেয়। আর তারপর হতে সে আমাদের বালু উত্তোলনে বাঁধা সৃষ্টি করছে। গত ১ জুলাই আমাদের লোকজনকে সে বেধর মারপিট করে বেশ কিছু মালামাল ছিনতাই করে নিয়ে যায়। ব্যাবসার স্বার্থে আমরা আইনি ব্যাবস্থা নেয়নি। এখন আবার ৫ লক্ষ টাকা চাঁদাদাবী করছে। আমরা এর প্রতিকার চাই।
অভিযুক্ত শৈলেন মেম্বার বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনিত সকল অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। বালুর নৌকা হতে আমি কোন টাকা নেইনি। এবং কোন চাঁদা দাবি করিনি। নদীর চরের পাশে যে জায়গায় গাছ লাগানো হয়েছে সেটি আমার ব্যক্তি মালিকানা জমি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু তাহির বলেন, বিষয়টি আমার জানা আছে। গাছগুলো আমাদের জিম্মাই নিয়ে তহশিলদারকে সার্বক্ষনিক নজরদারির জন্য বলা হয়েছে। এরপরও কেউ গাছ কাটলে তার বিরুদ্ধে আইননানুক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Leave a Reply