সনাতন ধর্মে কি নারীর পুনর্বিবাহের অধিকার আছে?

0
4
সনাতন ধর্মে কি নারীর পুনর্বিবাহের অধিকার আছে?

শ্রী গণেশ চন্দ্র
রংপুর জেলা প্রতিনিধি
দৈনিক আমার বাংলা অনলাইন পত্রিকা

সনাতন ধর্মে কি নারীর পুনর্বিবাহের অধিকার আছে?
অবশ্যই আছে।

ঋগ্বেদ ১০.১৮.৭-৮ এ স্বামীর মৃত্যুতে অর্থনৈতিকভাবে অসচ্ছল বা সামাজিকভাবে সমস্যার সম্মুখীন বিধবা মহিলাকে পুনর্বিবাহের অনুমতি দেয়া হয়েছে। চাহিদা পুরন করতে না পারলে বা স্বামী যদি সন্তান উত্‍পাদনে অক্ষম হয় তবে স্ত্রীকে পুনরায় বিয়ে করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

স্মৃতিশাস্ত্র পরাশর সংহিতায় বলা হয়েছে-
“নষ্ট মৃতে প্রব্রজিতে ক্লীবে চ পতিতে পতৌ।
পচস্বাপত্সু নারীরাং পতিরন্যো বিধোয়তে।।”
(পরাশর সংহিতা ৪.৩০)

অনুবাদ- নারীর যদি স্বামী মারা যায়, তার স্বামী যদি গোপনে সন্ন্যাস গ্রহণ করে, স্বামী যদি নিখোঁজ হয়, স্বামী যদি সন্তান উৎপাদনে অক্ষম হয়, স্বামী যদি অধার্মিক ও অত্যাচারী হয় তবে স্ত্রী এই স্বামী ছেড়ে পুনরায় বিবাহ করতে পারে ।

উপর্যুক্ত ক্ষেত্রে হিন্দু নারী দ্বিতীয় বিবাহ করতে পারেন। তবে তার পূর্বে বর্তমান স্বামীকে সংশোধন বা প্রত্যাবর্তনের জন্য উপযুক্ত সময়কাল অপেক্ষা করতে হবে। তাতেও স্বামী নিজেকে সংশোধন না করলে, নিখোঁজ থেকে ফিরে না আসলে বা নপুংসকতা দূর না হলে স্ত্রী দ্বিতীয় স্বামী গ্রহণ করতে পারবে।

এদিকে হিন্দু সমাজ

মধ্যযুগে বাংলার মুসলমানদের প্রভাব ,রীতিনীতি ও ভাবধারা হিন্দু সমাজে অনুপ্রবেশ করেছিল । তথাপি হিন্দু সমাজের মূল নীতি গুলো এবং সাধারণ সমাজ ব্যবস্থাই তেমন কোন পরিবর্তন আসেনি ।এ যুগে ও হিন্দু সমাজে জাতিভেদ প্রথা প্রচলিত ছিল ।বিভিন্ন পোশাকে ভিত্তি করেই এই প্রথার সৃষ্টি।ব্রাহ্মণ,কায়স্ত বৈশ্য ও শূদ্র -সমাজে এই চারটি উল্লেখযোগ্য বর্ণ ছিল।এর চারটি বর্ণের মধ্যে সামাজিক মেলামেশা ছিল না ।বর্ণপ্রথা কঠোরভাবে পালিত হতো।ফলে এক বর্ণের সহিত অন্য বর্ণের বিবাহ বা আদান -প্রদান নিষিদ্ধ ছিল ।

ধর্ম-কর্মের ক্ষেত্রে ব্রাহ্মণদের একক কতৃক ছিল ।জীবন ও জীবিকার তাগিদে তারা বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত হতেন ।ব্রাহ্মণ দের মধ্যে যারা চিকিৎসা বিদ্যালয় পেশা হিসেবে গ্রহণ করেছিল সমাজে তারা ‘বৈদ্য’ বা কবিরাজ নামে পরিচিত ছিল ।কায়স্ত ছিল হিন্দু সমাজের মধ্যেমে শ্রেণির অন্তর্গত ।শিক্ষা ও চাকরির ক্ষেত্রে তারা ছিল উল্লেখযোগ্য ।মুসলমান শাসনের সময়ে কায়স্তরা সামাজিক জীবনে বিশেষ প্রতিপত্তি লাভ করেছিল।কৃষিকাজ ছিল বৈশ্যদের প্রধান পেশা ।তাদের মধ্যে অনেকে ব্যবসার করতে ।সমাজের নিম্নতম স্থানে ছিল শূদ্ররা ।একই পেশার নিয়োজিত ব্যক্তিরা একটি নির্দিষ্ট স্থানে বসবাস করত

।হিন্দু সমাজে বিবাহ একটি উল্লেখযোগ্য সামাজিক অনুষ্ঠান ।বর্ণপ্রথার উপর ভিত্তি করে হিন্দু সমাজে বিবাহ -রীতিনীতি প্রচলিত ছিল ।এ যুগে পণ্য ও বাল্যবিবাহ প্রথা ও প্রচলিত ছিল ।সমাজের পুরুষরা একাধিক স্ত্রী রাখত ।ঘর -জামাই থাকার রীতি ও প্রচলিত ছিল ।
এ সময়ে বাংলার হিন্দু সমাজে নারীদের তেমনি কোনো অধিকার ছিল না ।স্বামী স্ত্রীকে তার সম্পত্তি হিসেবে গণ্য করত । কন্যা মাতা -পিতার উপর ,স্ত্রী স্বামীর উপর, বিধাবারা সন্তানদের উপর নির্ভরশীল ছিল ।
সনাতন ধর্মে কি নারীর পুনর্বিবাহের অধিকার আছে?
২১.৭ .২০২০

Leave a Reply