অনলাইন ক্লাসের নানাবিধ সমস্যাঃ

0
10
অনলাইন ক্লাসের নানাবিধ সমস্যাঃ

শফিউর রহমান
বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিঃ-
দৈনিক আমার বাংলা অনলাইন পত্রিকা।

অনলাইনে কোনো অবস্থাতেই ৪০-৪৫ মিনিটের বেশি সময় ক্লাস নেয়া যাবে না বলে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, দীর্ঘক্ষণ ছোট স্কিনে থাকার ফলে, চোখ, কান, ঘাড়, মাথাসহ মানসিক নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে। সেজন্য একটা ক্লাসের পর আধাঘণ্টা ব্রেক দিতে হবে। এ পাঠদান কার্যক্রম সবাই যথাযথ অংশগ্রহণ করতে পারছে না বলে শিক্ষার্থীদের মাঝে এক ধরনের বৈষম্য তৈরি হচ্ছে। এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আরো সচেতন হওয়া উচিত বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

জাতীয় নাক-কান-গলা ইনস্টিটিউটের চিকিৎসক ডা. মাহবুব আলম বলেন, দীর্ঘক্ষণ হেডফোন দিয়ে কথা বলছে কানে নানা ধরনের সমস্যা হয়। তাই দীর্ঘসময় হেডফোন ব্যবহার না করাই উচিত। গ্যাপ দিয়ে দিয়ে কথা শুনতে হবে। এ ছাড়া ক্লাসে বড় বোর্ড থাকে কিন্তু মোবাইলে তো স্কিন ছোট। দীর্ঘসময় মোবাইলের স্কিনে চেয়ে থাকলে চোখেরও সমস্যা হয়। অবশ্যই এ ক্ষতিগুলো খুব সহজে বোঝা যায় না, লম্বা সময় পর ধীরে ধীরে বোঝা যায়।

গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করেছে। তবে এখনো দেশের সব শিক্ষার্থীর মাঝে অনলাইন পাঠদান কার্যক্রম পৌঁছে দেয়া সম্ভব হয়নি। তাই অনলাইন পাঠদান কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের মাঝে একটা বৈষম্য তৈরি করছে। অধিকাংশ শিক্ষার্থীর প্রয়োজনীয় ডিভাইস না থাকায় অনলাইন ক্লাসে যুক্ত হতে পারছেন না। ফলে প্রত্যন্ত অঞ্চলে থাকা অসচ্ছল শিক্ষার্থীরা শিক্ষা কার্যক্রম থেকে পিছিয়ে পড়ছেন। এ ছাড়া ইন্টারনেটের দাম বাড়ানো হয়েছে এতে আরো বৈষম্য হচ্ছে। অনেকের ইন্টারনেটের খরচ বহন করার মতো সাধ্য নেই। আবার গ্রামঞ্চালে ইন্টারনেটও পাওয়া যায় না। তাই সরকারের উচিত ছিল এ সময় ইন্টারনেট দাম কমিয়ে আনা এবং সব শিক্ষার্থীকে যাতে পাঠদানের আওতায় আনা যায় সে ব্যবস্থা নেয়া।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. আফরোজা হোসেন বলেন, বাচ্চা দীর্ঘদিন থেকে ঘরবন্দি থাকায় এমনিতে তাদের সামাজিক দক্ষতা কমে যাচ্ছে। তারা চাচ্ছে সামাজিক কোনো কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে। ধীরে ধীরে মানবিক গুণাবলি কমে যাচ্ছে। এখন আবার অনলাইনে পাঠদান শুরু করেছে। সব মিলিয়ে তারা ভার্চুয়াল জগতে সবকিছু ঠিকটাক মতো দেখতে, শুনতে চিন্তা করতে অভ্যস্ত হচ্ছে। এটা সমাজের জন্য বিশাল ক্ষতি।

সূত্রঃ ইন্টারনেট।

Leave a Reply