স্বাধীনতা সবারই কাম্য!!

0
2
স্বাধীনতা সবারই কাম্য!!

পৃথিবীতে এটা যেন খুব সাধারণ ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে যে একটি দেশ ইচ্ছে করলে আরেকটি দেশ বা স্বতন্ত্র কোনো অঞ্চলকে আক্রমণ করে তার স্বাধীনতা কেড়ে নিয়ে নিজের রাজত্ব ফলানো শুরু করছে। শুধুমাত্র এই ক্ষমতার লোভে কত মানুষকে দিনের পর দিন অত্যাচারিত করা হচ্ছে, কত মানুষকে ঘর ছাড়া করা হচ্ছে তা সঠিক হিসাব পুরো পৃথিবীর কোনো দপ্তরখানাতে নেই। সাম্প্রতি চীন আর হংকং বিরোধ সামনে উঠে এসেছে।

হংকং গণচীনের ২টি বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চলের একটি।২৬০টির ও বেশি বিচ্ছিন্ন দ্বীপ নিয়ে গঠিত এই অঞ্চলটি। বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ অঞ্চল হংকং। তবে হংকংয়ের আলাদা পরিচিতি সমৃদ্ধ অর্থনীতির জন্য। বিশ্বের অন্যতম বাণিজ্য কেন্দ্র এটি। মূলত বন্দরকে কেন্দ্র করে অনেক আগে থেকেই হংকংয়ে বণিকদের আনাগোনা। ধীরে ধীরে দক্ষিণ চীন সাগর ঘেষা হংকং বন্দর বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত সমুদ্র বন্দরে পরিণত হয়েছে। পরিচিতি পেয়েছে বৈশ্বিক পণ্য পরিবহণের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে। দীর্ঘ ব্রিটিশ উপনিবেশের অন্তে এসে প্রশাসনিক কারণে ১৯৯৭ সালে এই অঞ্চল চীনের অধীনে আসে। তবে শর্ত ছিল হস্তান্তরের পর ৫০ বছরের জন্য হংকং সাংবিধানিকভাবে চীনের বিশেষ অঞ্চলের মর্যাদা পাবে। সেই থেকে চীনা সংবিধানের ৩১নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী অঞ্চলটির অফিশিয়াল নাম হংকং স্পেশাল অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ রিজিওন অব দ্য পিপল’স রিপাবলিক অব চায়না। এ কারণে চীন সমাজতান্ত্রিক হলেও হংকং পুরোদস্তুর পুঁজিবাদী। ১জুলাই ২০২০,ব্রিটিশ উপনিবেশ বিদায়ে ২৩বছর পূর্তিতে চীনা সরকার নতুন নিরাপত্তা আইন পাশ করে। নতুন আইনের আওতায় হংকংয়ে নতুন একটি নিরাপত্তা দফতর স্থাপন করবে চীন। দফতরের চীনা আধিকারিকরা আইন লংঘনকারীদের খুঁজে বের করে শাস্তি নিশ্চিত করতে কাজ করবেন। নতুন আইনে হংকংকে নিজ উদ্যোগে ন্যাশনাল সিকিউরিটি কমিশন গঠনের সুযোগ দেয়া হয়েছে। তবে কমিশনে উপদেষ্টা নিয়োগ দেবে চীন। আইন লংঘনকারীদের বিচার করতে হংকংয়ের চীনপন্থী প্রশাসন বিচারক নিয়োগ দিতে পারবে। প্রয়োজনে বিচার হবে গোপন আদালতে। বিচার নিশ্চিত করতে স্থানীয় কোন আইনের সাথে সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি তৈরি হলে চীনা আইন প্রাধান্য পাবে।নতুন এ আইনের ফলে সবচেয়ে বিপদে পড়েছে হংকংয়ের অধিবাসীরা। কেননা চীনের উদ্দেশ্য সুস্পষ্ট। দেশটি হংকংয়ে আর কোন দীর্ঘমেয়াদি বিক্ষোভ ও বিচ্ছিন্নতাবাদী মনোভাব সহ্য করবে না। ধীরে ধীরে ভূখন্ডটিকে মূল চীনের সঙ্গে জুড়ে নিতে চাইবে।হংকং-এর বিক্ষোভ চলছে কয়েক সপ্তাহ ধরে। বিতর্কিত প্রত্যর্পণ আইনের বিরোধিতায় এই বিক্ষোভ ক্রমশই সহিংস হয়ে উঠেছে। সহিংসতা আর হরতাল জনজীবনে বড়ধরনের ব্যাঘাত সৃষ্টি করছে।হংকংকে সমর্থন জানিয়েছে ব্রিটেন-যুক্তরাষ্ট। এর ফলশ্রুতিতে হংকংয়ের বিশেষ বানিজ্য সুবিধা বাতিল করে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ব্রিটেন- অস্ট্রেলিয়া হংকং বাসিন্দাদের আশ্রয় সুবিধা প্রদানের জন্য আশ্বস্ত কেরেছে কিন্তু নিজের জায়গা ছেড়ে কতজনবা অন্য জায়গাকে মেনে নিতে পারে। হংকং জনগনের স্বাধীনতার স্বপ্ন যে স্বপ্ন থেকে যাবে সেটা হয়তো তারা বুঝতে পেরেছে তারপরও চেষ্টা করে যাচ্ছে স্বাধীনতা কে ধরে রাখার। মুক্তভাবে বাঁচতে চাওয়ার আকুতিটা যেন বাতাসে হাজার মানুষের আক্ষেপ বরা নিশ্বাসের সাথে হারিয়ে যাচ্ছে। মানুষকেন ভুলে যায় স্বাধীনতা সবারেই কাম্য।

লিখেছেন :-কোয়েলী আক্তার
শিক্ষার্থী
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

Leave a Reply