যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার ভাংগুড়া কলেজের কোটি টাকার অনিয়ম ?

0
4
যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার ভাংগুড়া কলেজের কোটি টাকার অনিয়ম ?

যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার ভাংগুড়া আদর্শ কলেজের কয়েক কোটি টাকার আর্থিক অনিয়ম ধামাচাপা দিতে ম্যানেজিং কমিটির সভা পণ্ড করে দিয়েছেন কলেজ অধ্যক্ষ। ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও বাঘারপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সাথে অসৌজন্যমূলক ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেছেন অনিয়মের সাথে জড়িতরা।
জানাগেছে, গতকাল শনিবার সকাল সাড়ে দশটায় কলেজের কলেজ পরিচালনা পরিষদের সভাপতি ও বাঘারপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সাথে নির্ধারিত সভার মূল আলোচ্য সূচি ছিলো কলেজের নামে ক্রয় করা ভাংগুড়া পশুর হাটের আয়-ব্যয় সংক্রান্ত
প্রসঙ্গত,বাঘারপাড়ার ভাংগুড়া বাজারে পশুর হাট মেলানো হয় ১৯৯৫ সালে। সেই থেকে এ পর্যন্ত হাটটি উপজেলা প্রশাসন থেকে ভংগুড়া আদর্শ কলেজের নামে স্বল্প মূল্যে ক্রয় করা হয়। ১৯৯৫ সাল থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত ১০ বছরে প্রতি বছর হাট থেকে কলেজের আয় হয়েছে ৫ থেকে ৭ লক্ষ টাকা। যার মোট পরিমাণ দাড়ায় ৫০ থেকে ৭০ লক্ষ টাকা। ২০০৬ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত ৭ বছরে হাট থেকে প্রতি বছর কলেজের আয় হয়েছে ২০ থেকে ২২ লক্ষ টাকা। যার মোট পরিমাণ দাড়ায় ১ কোটি ৪০ লক্ষ থেকে ১ কোটি ৫৪ লক্ষ টাকা। শেষ ৭ বছরের প্রতি বছর আয় হয়েছে ৪০ থেকে ৫০ লক্ষ টাকা। যার মোট পরিমান ২ কোট ৮০ লক্ষ থেকে ৩ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা। হিসাব মতে গত ২৫ বছরে ভাংগুড়া আদর্শ কলেজ হাট থেকে আয় করেছে ৪ কোটি ৭০ লক্ষ থেকে ৫ কোটি ৭৪ লক্ষ টাকা। বিপুল পরিমান এ আয় করা টাকার কলেজ অধ্যক্ষ কোন হিসাব রাখেননি। কলেজ হিসাবের পাশ বই বা ক্যাশ বইয়ে এ অর্থের কোন হদিসও নেই।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কলেজের এক সিনিয়র শিক্ষক জানিয়েছেন, গত ২৫ বছরে হাট থেকে যে কয়েক কোটি টাকা আয় হয়েছে তার সিংহ ভাগই কলেজ অধ্যক্ষ, পরিচালনা পরিষদের সদস্যরা, বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যানের পরিবারের সদস্য ও তাদের অনুসারিরাই এ অর্থ লুটপাট করেছেন।
ভাংগুড়া আদর্শ কলেজের সভাপতি ও বাঘারপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার তানিয়া আফরোজ জানিয়েছেন, ’আমি কলেজের সভাপতির দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে কলেজের আয় ব্যয় সম্পর্কে জানার চেষ্টা করি। এক পর্যায়ে কলেজ হিসাবের পাশ বই ও ক্যাশ বই নিয়ে হাট থেকে আয় করা অর্থের আয় ব্যায় বোঝার চেষ্টা করি। সেখানে আমার চোখে নানা অনিয়ম ও অসংগতি ধরা পড়ে। এ কারণে আমি কলেজ অধ্যক্ষকে হাটের আয় ও ব্যয়ের হিসাব করার জন্য পরিচালনা পরিষদের সভা ডাকতে বলি। যার নির্ধারিত সময় ছিল শনিবার সকাল সাড়ে দশটা। আমি সভায় যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। এমন সময় জানতে পারি জামদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সভায় অনেক লোক জড় করেছেন। বিষয়টি আমার আর বুঝতে বাকি রইল না। তারা সভা পন্ড করার জন্য এসব কান্ড করছে। আমি পুলিশ ফোর্স নিয়ে কলেজে হাজির হই। সেখানে যেয়ে দেখতে পাই শতাধিক মানুষের উপস্থিতি। আমি কুশল বিনিময় করে অধ্যক্ষের কাছে জানতে চাই ম্যানেজিং কমিটির সদস্য ১১ জন, টোল আদায়ের সাথে সম্পৃক্ত ৪/৫ জন আর কলেজ প্রতিষ্ঠাকালিন কয়েকজন শিক্ষককে সভায় ডাকতে বলেছিলাম। তাহলে এত লোকের আয়োজন কেন, এ কথা বলার সাথে সাথেই জামদিয়া ইউপি চেয়ারম্যান কামরুল ইসলাম টুটুল ও বাসুয়াড়ি ইউপি চেয়ারম্যান আবু সাইদ সরদার অসৌজন্যমূলক ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ শুরু করেন। অথচ তারা কেউই ম্যানেজিং কমিটির সদস্য নন। এক পর্যায়ে আমি সভা না করে স্থান ত্যাগ করি। বিষয়টি নিয়ে ডিসি স্যারের সাথে কথা হয়েছে। ঈদের পরই আমার কার্যালয়ে সভা ডাকা হবে’।

Leave a Reply