গো-খাদ্য সংকটে দিশেহারা গুরুদাসপুরের কৃষক-খামারী।

0
6
আউড়
  • পিন্টু স্যার,নাটোর প্রতিনিধি:-
  • প্রকাশ:-০৭.০৯.২০২০, সময়:-০৫.০০ pm

বন্যায় গোচারণভুমি,কৃষক-খামারীদের বোনা ঘাস ও উঠতি বরো আবাদ বন্যায় পানিতে ডুবে যাওয়ায় চলনবিলের প্রানকেন্দ্র নাটোরের গুরুদাসপুর অঞ্চলের গরু মহিষের প্রধান খাদ্য ঘাস এবং খড়ের সংকট দেখা দিয়েছে।

এ সুযোগে এক শ্রেনীর মৌসুমী খড় ব্যবসায়ী বেশি দাম হাঁকছেন। এতে খামারী, নি¤œ আয়ের মানুষেরা সংসারের স্বচ্ছলতা ফেরাতে দুধেল গাভি,মহিষ ও ষাড় গরু মোটাতাজা করতে গিয়ে পরেছেন বিপাকে।

জানা গেছে,গুরুদাসপুর পৌর এলাকাসহ উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে বড় গো-খামার না থাকলেও এ এলাকার মানুষ সংসারে স্বচ্ছলতা ফেরাতে বানিজ্যিক উদ্দেশ্যে দুধের গাভি,মহিষ ও ষাড়মোটা তাজা করে থাকেন।

গাভীর দুধের সহজলভ্যতার কারনে প্রতিটি ইউনিয়ন সদরে,বাজার এলাকায় গুরুত্বপুর্ন মোড়গুলোতে গড়ে উঠেছে ব্র্যাক, মিল্ক ভিটা, প্রাণ, আকিজ, এসিআইসহ অন্যান্য ডেইরী হাব(দুগ্ধ ক্রয় ও শীতলি করন কেন্দ্র)। যা কৃষককে গাভি পালনে উৎসাহিত করছে।

পাশাপাশি এ এলাকার খামারী ও কৃষক বানিজ্যিক উদ্যেশ্যে (কোরবানী মৌসুম কেন্দ্রিক) ষাড় ও মহিষ মোটাতাজা করে থাকেন। এগুলো স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে রাজধানী ঢাকা,সিলেট,চট্রগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করে কৃষক লাভের মুখ দেখেন।

গুরুদাসপুর এলাকার খামারী ও কৃষক শুধুমাত্র খড় ও দানাদার খাদ্য খাইয়ে গরু মহিষ মোটা তাজা করেন বলে সারা দেশে এ এলাকার গরু মহিষের চাহিদা ও সুনাম রয়েছে।

প্রতি বছর কোরবানী ঈদ মৌসুমে খামারী ও কৃষক গরু বিক্রি করে লাভের মুখ দেখলেও এ বছর করোনা সংকটে তারা কমদামে গরু মহিষ বিক্রি করে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন। যারা বিক্রি করেননি অথবা বিক্রি করে নতুন করে কিনেছেন তারা গোখাদ্য সংকটের কারনে পড়েছেন চরম বিপাকে।

গুরুদাসপুর অঞ্চলে বিনা চাষে রসুন জনপ্রিয় হয়ে ওঠার ফলে ব্যাপক হারে রসুন চাষ হয়। রসুন ঢাকতে খড় ব্যাপক হারে ব্যবহার হয়ে থাকে। কৃষক ও খামারীদের ধারনা সামনে রসুন বপন শুরু হলে সংকট আরও তীব্র হওয়ার আশংঙ্কা। এ ছাড়া চলনবিল এলাকার একশ্রেনীর ব্যবসায়ী অধিক লাভের আশায় পাবনা জেলার শাহজাদপুর,বেড়া এলাকায় নৌকাযোগে খড় বিক্রির ফলে এ এলাকার সংকট তুঙ্গে।

গুরুদাসপুর পৌর সদরের চাঁচকৈড় খলিফা পাড়া মহল্লার খড় ব্যবসায়ী আত্তাব সর্দার,ছিদ্দিক জানান, আমরা রাজশাহী,নওগাঁসহ দেশের উত্তরাঞ্চল থেকে ষ্টিয়ারিং গাড়ি (বড় লছিমন) যোগে রোপা আমন ধানের আঠি (মুষ্টি) খড় সংগ্রহ করে এ এলাকায় বিক্রি করি।

বন্যার কারনে সারা দেশে খড়ের চাহিদা বেড়ে গেছে। আমরা বেশি দামে কিনে বেশি দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছি। বর্তমানে মানভেদে প্রতি আটি খড়ের মুল্য ৬ থেকে ৮ টাকা। সাবগাড়ি এলাকার নৌকায় খড় বিক্রেতা রব্বেল জানান,ভাটিতে(শাহজাদপুর) প্রতিমন খড়ের দাম মানভেদে ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা।

গুরুদাসপুর পৌর সদরের আনন্দ নগর মহল্লার কৃষক রফিকুল ইসলাম জানান,ঈদে বেঁচব বলে অনেক আশায় দুইটা ষাড় মোটাতাজা করছিলাম। করেনার কারনে দাম কম তাই বিক্রি করিনি। এখন খড়ের যে দাম, কমদামে হলেও ১টা গরু বিক্রি করে খড় কিনতে হবে। নিজে খাব কি গরুকে খেতে দেব কি। তিনি আরও জানান,শুধু খড়ের দামই বেশি তা নয়,গোখাদ্যের সব কিছুরই দাম বেশি। ভাবছি আগামীতে আর গরু পালন করবো না।

এব্যাপারে গুরুদাসপুর উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা গো খাদ্যের সংকট কথা স্বীকার করে জানান,খড়ের ওপর নির্ভরশীল না হয়ে বিকল্প হিসাবে চাষ করা ঘাস ও দানাদার খাদ্যে নির্ভরশীল হতে পরামর্শ দেন।

তথ্যসংগ্রহ সাংবাদিক প্রভাষক সাজেদুর রহমান।

Leave a Reply