ক্ষমতসীন প্রেসিডেন্টকে এমন চ্যালেঞ্জ জানাননি আর কেউ।

ক্ষমতসীন প্রেসিডেন্টকে এমন চ্যালেঞ্জ জানাননি আর কেউ।

যুক্তরাষ্ট্রের দুই প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প ও জো বাইডেনফাইল ছবি: রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে পরিচালিত সব জনমত জরিপে সুস্পষ্টভাবেই এগিয়ে রয়েছেন ডেমোক্রেটিক দলের প্রার্থী জো বাইডেন। শুরু থেকে এখন পর্যন্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জরিপে ডোনাল্ড ট্রাম্প থেকে এগিয়ে রয়েছেন সাবেক এই ভাইস প্রেসিডেন্ট। না, নির্বাচন এখনো হয়নি। আর ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পেরও জয়ের সম্ভাবনা এখনো রয়েছে। কিন্তু জো বাইডেন যে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন, তা ডেমোক্র্যাটদের উদ্দীপ্ত করতেই পারে। কারণ, ১৯৩৬ সালের পর মার্কিন নির্বাচন সামনে রেখে জনমত জরিপের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত কোনো ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টকে বাইডেনের মতো করে এমন চ্যালেঞ্জ জানাতে পারেননি আর কেউ।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়, এবিসি নিউজ ও ওয়াশিংটন পোস্টের যৌথভাবে পরিচালিত জরিপের ফলও গেছে জো বাইডেনের পক্ষে। গতকাল রোববার প্রকাশিত জরিপে দেখা যায়, এতে অংশ নেওয়া সম্ভাব্য ভোটারদের মধ্যে ৫৫ শতাংশই বাইডেনকে সমর্থন জানিয়েছেন। বিপরীতে ট্রাম্পকে সমর্থন জানিয়েছেন ৪৩ শতাংশ।

এই সপ্তাহে এ নিয়ে তিনটি উচ্চ মানসম্পন্ন জরিপের ফল প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে বাইডেন ট্রাম্প থেকে কমপক্ষে ১০ শতাংশ ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন। তিনটি জরিপেই অংশগ্রহণকারীদের ৫০ শতাংশের বেশি লোক বাইডেনকে সমর্থন জানিয়েছেন। এ সম্পর্কিত অন্য দুটি জরিপের একটি সিএনএন/এসএসআরএস ও অন্যটি ফক্স নিউজ পরিচালিত।

এবিসি নিউজ ও ওয়াশিংটন পোস্টের সর্বশেষ জরিপে ১২ শতাংশ ব্যবধানে পিছিয়ে ট্রাম্প

গড়ে প্রতিটি জরিপে বাইডেনের পক্ষে সমর্থন জানিয়েছেন অংশগ্রহণকারীদের ৫২-৫৩ শতাংশ। ডোনাল্ড ট্রাম্প থেকে তিনি জনসমর্থনে এগিয়ে রয়েছেন ১০-১১ শতাংশ ব্যবধানে। নির্বাচনের মাত্র ২৩ দিন আগে এমন চ্যালেঞ্জের মুখে যুক্তরাষ্ট্রের আর কোনো প্রেসিডেন্টকে পড়তে হয়নি।

সিএনএন জানায়, মার্কিন নির্বাচনের আগে জাতীয় পর্যায়ে জনমত জরিপ পরিচালনার বিষয়টি মোটাদাগে শুরু হয় ১৯৩৬ সাল থেকে। সে সময় থেকে এখন পর্যন্ত বিদ্যমান প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে নির্বাচনের মাত্র তিন সপ্তাহ আগেও জনমত জরিপে উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে এগিয়ে থাকতে পেরেছিলেন মাত্র পাঁচজন।

এদের মধ্যে মাত্র একজন বিদ্যমান প্রেসিডেন্ট থেকে ৫ শতাংশ পয়েন্টের বেশি ব্যবধানে এগিয়ে ছিলেন। ১৯৯২ সালে এই চ্যালেঞ্জটি জানিয়েছিলেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন। তবে ওই চ্যালেঞ্জারের কেউই ৪৮ শতাংশের বেশি জনসমর্থন নিজের দিকে টানতে পারেননি। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসেই নির্বাচনের একেবারে কাছাকাছি দাঁড়িয়ে ৫০ শতাংশের বেশি জনসমর্থন নিয়ে বিদ্যমান প্রেসিডেন্টকে চ্যালেঞ্জ জানানো একমাত্র ব্যক্তি হলেন বাইডেন।

এই একই কারণে গত নির্বাচনের প্রচার থেকে এবারেরটি আলাদা হয়ে গেছে। গত নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের চেয়ে হিলারি ক্লিনটন জনমত জরিপে ৭ শতাংশ ব্যবধানে এগিয়ে ছিলেন। কিন্তু কোনো জনমত জরিপেই তিনি ৫০ শতাংশের বেশি লোককে নিজের দিকে টানতে পারেননি। এ অবস্থায় ডোনাল্ড ট্রাম্প সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগা নিরপেক্ষ ভোটারদের নিজ দলে টেনে নিয়ে শেষ মুহূর্তে বিজয় নিশ্চিত করেন। কিন্তু এবার এরই মধ্যে ৫০ শতাংশের বেশি মানুষের সমর্থন আদায়ের মধ্য দিয়ে হিলারির তুলনায় বাইডেন কিছুটা নিরাপদ অবস্থান তৈরি করতে পেরেছেন বলে ধরা যায়। কারণ, এখন সব নিরপেক্ষ ভোটারদের নিজ দলে টানলেও ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষে জাতীয় পর্যায়ে জয়ী হওয়াটা কঠিন হয়ে পড়বে।বিজ্ঞাপন

তবে এখনো বড় প্রশ্নটি রয়ে গেছে ইলেকটোরাল কলেজ ঘিরেই। তবে জাতীয়ভাবে ৫-৬ শতাংশ পয়েন্টের ব্যবধানে পরাজিত হলে ইলেকটোরাল কলেজেও একজন প্রার্থীর হারার কথা। কারণ, বাইডেন শুধু জাতীয়ভাবেই এগিয়ে নেই, তিনি সুইং স্টেট খ্যাত অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যেও এগিয়ে রয়েছেন। গতকাল রোববার প্রকাশিত সিবিএস নিউজ/ইউগভ পরিচালিত জরিপের ফল থেকে দেখা যায়, গুরুত্বপূর্ণ কিছু অঙ্গরাজ্যে বাইডেনের প্রতি জনসমর্থন ৫০ শতাংশের ওপরে। মিশিগান ও নেভাদায় তাঁর জনসমর্থন ৫২ শতাংশ, যেখানে ট্রাম্পের জনসমর্থন ৪৬ শতাংশ। আইওয়ায় অবশ্য দুজনই বেশ শক্ত অবস্থানে। দুজনের প্রতিই জনসমর্থন ৪৯ শতাংশ।

বাইডেনের প্রতি এ জনসমর্থনের কারণ করোনা মহামারি মোকাবিলায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ব্যর্থতা। এ ছাড়া বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের চেয়ে বাইডেনকে বেশি বিশ্বাস করছে মানুষ। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাস বলে জনমত জরিপ শুরু হওয়ার পর যে তিনজন বিদ্যমান প্রেসিডেন্টকে সরিয়ে ক্ষমতায় বসতে পেরেছিলেন, তাঁদের ক্ষেত্রেও বিষয়টি ছিল এমন। জিমি কার্টার, রোনাল্ড রিগ্যান ও বিল ক্লিনটন—তিনজনের ক্ষেত্রেই বিদ্যমান প্রেসিডেন্টের চেয়ে তাঁদের চ্যালেঞ্জারদেরই বেশি বিশ্বাস করেছিল মানুষ। ফলে ডেমোক্র্যাট শিবির স্বপ্ন দেখতেই পারে। কারণ, এই তিনজনের কেউই ভোটারদের ৫০ শতাংশকে নিজেদের দিকে টানতে পারেননি। বাইডেন তো সে ক্ষেত্রে আরও এগিয়ে।

সূত্র:- প্রথম আলো।

Author: admin

Leave a Reply