এইচএসসি পরিক্ষায় অটোপাসচট্টগ্রামের ৩০ হাজার পরীক্ষার্থীর জন‍্য আশির্বাদ।

মোঃ সিরাজুল মনির, ব্যুরো প্রধান, চট্টগ্রাম বিভাগ:-

চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের অধীন এইচএসসি পরীক্ষায় প্রতি বছর অন্তত ৩৫ শতাংশ পরীক্ষার্থী কৃতকার্য হতে পারে না। শিক্ষাবোর্ডের বিগত চার বছরের এইচএসসির ফলাফল পর্যালোচনায় পাওয়া গেছে এ তথ্য। এবার চট্টগ্রামে এইচএসসি পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৯৭ হাজার ৯০৫ জন। বিগত বছরগুলোর ধারবাহিকতায় ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ এবার অকৃতকার্য ধরলে পরীক্ষার্থীর (অকৃতকার্য) এ সংখ্যা দাঁড়ায় ৩০ হাজারেরও বেশি। অর্থাৎ এবার এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলে ৩০ হাজারেরও বেশি পরীক্ষার্থীর অকৃতকার্য হওয়ার আশঙ্কা ছিল। সে হিসেবে এই ৩০ হাজারেরও বেশি পরীক্ষার্থীর জন্য যেন আশীর্বাদ হয়ে এসেছে করোনা!

গত ৭ অক্টোবর শিক্ষামন্ত্রী ডা. দিপু মনি ঘোষণা দেন এবার এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা হবে না। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এই সিদ্ধান্তের ফলে একজন পরীক্ষার্থীকেও অকৃতকার্যের শঙ্কায় পড়তে হচ্ছে না। এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের লক্ষ্যে ফরম পূরণ করায় শতভাগ শিক্ষার্থীই এবার পাস করতে যাচ্ছে। অকৃতকার্য হওয়ার সুযোগ থাকছে না একজনেরও। তবে পরীক্ষার্থীর ফলাফল কী হবে সেটি সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীর জেএসসি ও এসএসসি এবং সমমানের পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হবে।
শিক্ষাবোর্ডের চার বছরের এইচএসসির ফলাফল

পর্যালোচনায় দেখা যায়- ২০১৬ সালে ৮৭ হাজার ৪৬৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৬৪.৬০ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে। হিসেবে আরো ৩৫.৪০ শতাংশ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়। ২০১৭ সালে পাশ করে ৬১.০৯ শতাংশ শিক্ষার্থী। আরো ৩৮.৯১ শতাংশ পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় কৃতকার্য হতে পারেনি। ওই বছর (২০১৭ সালে) পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৮৩ হাজার ১৯৩ জন। ২০১৮ সালে ৯৭ হাজার ৬৮৪ জন পরীক্ষার্থীর মাঝে ৬২.৭৩ শতাংশ পাস করে। অকৃতকার্য হয় আরো ৩৭.২৭ শতাংশ পরীক্ষার্থী। একইভাবে গতবার (২০১৯ সালে) ৩৭.৮১ শতাংশ শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় পাস করতে পারেনি। ৯৯ হাজার ৬৫১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৬২.১৯ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করে গতবার।

বোর্ডের তথ্য মতে- এইচএসসিতে বিগত চার বছরে অকৃতকার্যের হার ৩৫ শতাংশের বেশি। বিগত বছরগুলোর ধারবাহিকতায় এবারও ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ অকৃতকার্য হিসেব করলে ফেল করা পরীক্ষার্থীর সংখ্যা দাঁড়ায় ৩০ হাজারেরও বেশি (প্রায় ৩৫ হাজার মত)।

শিক্ষাবোর্ড চেয়ারম্যান প্রফেসর প্রদীপ চক্রবর্তীও বলছেন, পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলে এবারও হয়তো বিগত বছরগুলোর প্রায় সমান বা কিছুটা কম-বেশি হারে পরীক্ষার্থী ফেল করত। এবার যেহেতু পরীক্ষা হচ্ছে না, সব পরীক্ষার্থীকেই পাস করে দেয়া হবে। সেহেতু যারা ফেল করত, তাদের জন্য করোনা তো অবশ্যই আশীর্বাদ। তবে যারা মেধাবী এবং খুব করে প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে, তাদের জন্য হয়তো মন খারাপের কারণ হতে পারে। কিন্তু কী হতে পারত, এখন সেটা বড় বিষয় নয়। পরীক্ষা যেহেতু হচ্ছে না, সেহেতু পরীক্ষার্থীদের একটি অংশ ভাগ্যের জোরে হয়তো সুবিধা পাচ্ছে।

যেহেতু অতীতে শতভাগ পাসের রেকর্ড নেই, সেহেতু পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলে এবারও নিশ্চয়ই শতভাগ পাস করত না বলে মনে করেন শিক্ষাবোর্ডের কলেজ পরিদর্শক প্রফেসর জাহেদুল হক। তিনি বলছেন, অতীতের ধারাবাহিকতায় পরীক্ষার্থীদের উল্লেখযোগ্য একটি অংশ এবারও হয়তো অকৃতকার্যের তালিকায় যুক্ত হত। পরীক্ষা না হওয়ায় এই সংখ্যক শিক্ষার্থীর ভাগ্য সুপ্রসন্ন বলা যায়। সেদিক থেকে পরীক্ষার্থীদের এই একটি অংশের জন্য করোনা নিশ্চয়ই আশীর্বাদ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

Leave a Reply