পাবনার ঈশ্বরদীতে মা ইলিশ ধরা বন্ধে ঈশ্বরদী থানা পুলিশের বিশেষ নজরদারি।

0
17

পাবনাঃ মা ইলিশ ধরা বন্ধে ও মা ইলিশ রক্ষায় বিশেষ নজরদারিতে পাবনার ঈশ্বরদী থানা পুলিশের নজরদারিতে রয়েছে।

ইলিশের প্রজনন মৌসুমে ইলিশ রক্ষায় ১৪ অক্টোবর থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত ইলিশ মাছ ধরা সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী বন্ধ আছে। অসাধু জেলেরা গোপনে যাতে ইলিশ ধরতে না পারে সেজন্য ঈশ্বরদী থানা পুলিশের বিশেষ নজরদারি থাকছে পাবনা পাকশীর পদ্মা নদীর বিভিন্ন স্থানে। এছাড়াও ইলিশ বিপনন, মজুদও সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকায় ঈশ্বরদী বাজার ও আশেপাশে হাটবাজারেও প্রশাসনের বিশেষ তৎপরতা থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা গেছে।

সরকারিভাবে নিষিদ্ধ রয়েছে ইলিশ শিকার। এ মৌসুমে ইলিশ মাছ না ধরতে জেলেদের নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতার লক্ষ্যে গত এক সপ্তাহ ধরে ঈশ্বরদী থানার পদ্মা নদীর আশেপাশে গ্রাম গুলোতে সর্বত্র সচেতনতামূলক কার্যক্রম করে আসছে ঈশ্বরদী থানা প্রশাসন ও মৎস বিভাগ। এছাড়াও মাছ ধরা বন্ধের এই সময়টুকুতে জেলেদের জন্য বিশেষ বরাদ্দ নিয়েছে প্রসাশন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতি বছর ইলিশের প্রজনন মৌসুমে পাকশী পদ্মার পাড়ে কিছু এক শ্রেণির অসাধু জেলেরা গোপনে ইলিশ শিকার করে। এসকল ইলিশ পদ্মা নদীর আশেপাশে এলাকা থেকে সাধারন মানুষের কাছে বিক্রি করে এবং তারা গরুর গোয়ালে রান্না ঘরে, কিনবা মাটিতে গর্ত করে সংরক্ষণ করে।

প্রশাসনের কঠোর নজরদারির মধ্যেও তাদের চোখ ফাঁকি দিয়ে গভীর রাতে শিকার করা ইলিশ সস্তায় বিক্রি করে জেলেরা। এ সময়ে ইলিশ মাছ কিনতে পদ্মার পারে ভিড় জমায় অনেকেই।

পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশী, ঈশ্বরদী, ঈশ্বরদী ইপিজেড মোড়, বাঘইল, রুপপুর, দিয়াড়বাঘইল, পিয়ারপুর, মাঝদিয়া, আরামবাড়িয়া, লক্ষিকুন্ডা, বিলকাদা, সাঁড়া ঝাউদিয়া, সাঁড়াঘাট এলাকায় ইলিশ শিকারের নিষিদ্ধ সময়ে “ইলিশের হাট” বসে বাড়ি বাড়িতে।

কমদামে ইলিশ কিনতে পাড়ায় দূর-দূরান্ত থেকে শত শত মানুষ ভিড় করে পদ্মার পাড়ে। ঈশ্বরদী থানা পুলিশের সূত্রে জানা গেছে, এবছরে ইলিশ শিকারের নিষিদ্ধ মৌসুমে ইলিশ শিকার কঠোর হাতে দমন করবে প্রশাসন।

গত মৌসুমেও প্রতিদিন অভিযান চালিয়ে অসাধু জেলে, ক্রেতা-বিক্রেতাদের সাজা দিয়েছে। এবছর আরোও কঠোর অবস্থানে থাকবে প্রশাসন। ইলিশ ধরা বন্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান নিয়মিত চলবে পদ্মায়। ঈশ্বরদী থানা পুলিশের ইলিশ শিকারি জেলেদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। ইলিশ মাছ না ধরতে তাদের নিয়ে একাধিক সচেতনতামূলক সভায় হুঁশিয়ারি দিয়েছে প্রশাসন। এছাড়া ঈশ্বরদী উপজেলা ম্যাজিস্ট্রেট ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করবেন।

ঈশ্বরদী থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ( ওসি) নাসির উদ্দিন বলেন, মা ইলিশ ধরা বন্ধের জন্য ঈশ্বরদী থানা পুলিশকে একটি স্পিরিটবোড প্রদান করেছে জেলা পুলিশ । ইলিশ মাছ ধরা বন্ধে ঈশ্বরদী থানা পুলিশের বিশেষ দল সার্বক্ষণিক টহল দিবে এবং সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় মা ইলিশ রক্ষায় আমরা কাজ করে যাবো।

Leave a Reply