নওগাঁ-৬ (আত্রাই-রাণীনগর) আসনের উপ-নির্বাচন

0
6

নওগাঁ-৬ (আত্রাই-রাণীনগর) আসনের উপ-নির্বাচন

নাদিম আহমেদ অনিক, নওগাঁ প্রতিনিধি- নওগাঁ-৬ (আত্রাই-রাণীনগর) আসনের উপনির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি সকালে বেশি হলেও দুপুরের পর ছিল কম। নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগে ভোট বর্জনের ঘোষনা দেন বিএনপির প্রার্থী রেজাউল ইসলাম। গতকাল শনিবার সকাল ৯টা থেকে শুরু হয়ে বিরতিহীনভাবে ভোট গ্রহন চলে বিকেল ৫টা পর্যন্ত।

সকাল থেকে রাণীনগর ও আত্রাই উপজেলার বিভিন্ন কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, কেন্দ্রগুলোতে ভোটার উপস্থিতি সকালে বেশি থাকলেও দুপুরের পর কম। দুপুর ১২টায় আত্রাই উপজেলার ভবানীপুর জিএসউচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, কেন্দ্রটিতে ভোটারদের কোনো সারি নেই। কিছুক্ষণ পরপর একজন-দুইজন করে ভোটার ভোট দিয়ে যাচ্ছেন। ওই কেন্দ্রে মোট ভোটার ২ হাজার ৩৭৮জন। দুপুর ১২টা পর্যন্ত ভোট পড়েছে ২৮০টি। যা মোট ভোটারের ১২ শতাংশের কিছু কম। ওই কেন্দ্রে ছয়টি বুথের কোনোটিতে বিএনপির এজেন্ট পাওয়া যায়নি। ওই কেন্দ্রের বাইরে আব্দুর কাদের নামে এক ব্যক্তি দাবি করেন তিনি বিএনপি প্রার্থীর এজেন্ট ছিলেন।

প্রিসাইডিং অফিসার মোজাম্মেল হক জানান, সকালে বিএনপির এজেন্টরা তালিকা দিয়ে ভোট কক্ষে বসেছিলেন। কিন্তু কিছুক্ষণ পর তারা নিজেরাই চলে যান। তাদেরকে জোর বের করে দেওয়ার কোনো অভিযোগ পাইনি। সকাল থেকে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটাররা ভোট দিয়েছেন। বিকেল ৩টায় আত্রাই উপজেলার আহসানগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, ওই কেন্দ্রের ৮টি বুথে বিকেল ৩টা পর্যন্ত ভোট পড়েছেন ৬৫৮টি। ওই কেন্দ্রে মোট ভোটার ৩ হাজার ৪৫৬জন। এই হিসেবে বিকেল ৩টা পর্যন্ত কেন্দ্রটিতে ভোট পড়েছে ১৯ শতাংশ। বিভিন্ন কেন্দ্রে সাধারণ ভোটারদের ভোট দানে বাধা দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এদিকে বিকেল সাড়ে ৩টায় আত্রাই উপজেলার সদরের নাহার গার্ডেন মার্কেটে সংবাদ সম্মেলন করে নানা অনিয়মের অভিযোগে এই নির্বাচনকে প্রহসনের নির্বাচন উলে­খ করে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন।

সংবাদ সম্মেলনে রেজাউল ইসলাম বলেন, নির্বাচনের আগে দুই তিন দিন ধরে বিএনপির নেতাকর্মীদের মারধর করে ভোটের মাঠ থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছে আওয়ামী প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকেরা। গতকাল ভোটের দিন সকাল থেকেই ভোটকেন্দ্রগুলোতে বিএনপির সমর্থক ও সাধারণ ভোটারদের ভোট দিতে বাধা দেয় আওয়ামী প্রার্থীর লোকজন। তিনি আরও বলেন, ১০৪টি ভোট কেন্দ্রের প্রত্যেকটি বুথে ধানের শীষের এজেন্ট দেওয়া হয়েছিল। ৯টার সময় ভোট শুরুর পর পরেই আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকেরা বিএনপির এজেন্টদের মারধর করে বের করে দেয়। অনেক কেন্দ্রে বিএনপির সমর্থক হিসেবে পরিচিত এবং কোনো দল করে না এমন অনেক সাধারণ ভোটারদের ভোট দিতে বাধা দেওয়া হয়েছে। কোনো কোনো কেন্দ্র সাধারণ ভোটাররা ভোট দিতে বুথে প্রবেশ করলেও তার ভোটার পরিস্থিতি চিহ্নিত করার পর প্রতীকে নির্বাচনের আগেই তাদের বের করে দিয়ে আওয়ামী লীগের এজেন্টরা পরে তারাই সুইচ টিপে নৌকা প্রতীকে ভোট দিয়ে দেন। এ ধরণের নির্বাচনে নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে এই নির্বাচনকে প্রহসনের নির্বাচন উলে­খ করে ভোট বর্জণের ঘোষণা দেন বিএনপির প্রার্থী।

রাণীনগন ও আত্রাই উপজেলা নিয়ে গঠিত এই নির্বাচনী এলাকায় মোট ভোটার ৩ লাখ ৬ হাজার ৭২৫ জন। ১০৪টি কেন্দ্রে ইলেক্ট্রনিং ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) মাধ্যমে ভোট নেওয়া হয়। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রার্থী ছাড়াও ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) প্রার্থী ইন্তেখাব আলম নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

পুলিশ সুপার আব্দুল মান্নান বলেন, ভোটের সুষ্ঠ পরিবেশের স্বার্থে ম্যাজিস্ট্রেট ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মীরা সার্বক্ষণিক মাঠে ছিলেন। এছাড়া প্রতিটি ভোট কেন্দ্র এবং ভোটারদের নিরাপত্তার জন্য পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি এবং আনছার বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল। আর প্রতিটি ইউনিয়নে একজন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সার্বক্ষনিক দায়িত্ব পালন করেছেন। কোথাও কোন ধরনের অপ্রিতীকার ঘটনা ঘটেনি।

উলে­খ্য, গত ২৭ জুলাই এ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ইসরাফিল আলম মারা গেলে আসনটি শূন্য ঘোষনা করা হয়।

Leave a Reply