দলীয় মনোনয়ন নিয়ে এবারো আশাবাদী মেয়র শাহনেওয়াজ

পিন্টু স্যার,নাটোর প্রতিনিধি:-

ঘনিয়ে আসছে পৌরসভা নির্বাচনের সময়। তবে এবারের নির্বাচনকে ঘিরে দলীয় সমর্থন ও সর্বসাধারনের জনমত সৃষ্টির লক্ষ্যে উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডের পাশাপাশি নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যাস্ত সময় কাটাচ্ছেন উপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক ও দুইবারের নির্বাচিত পৌর মেয়র মো. শাহনেওয়াজ আলী।

দেখা গেছে, পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের আ’লীগ দলীয় তৃণমুল পর্যায়ের নেতাকর্মিদের সাথে নিয়ে মেয়র শাহনেওয়াজ আলীর পক্ষে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন সভা, সমাবেশে এবং নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে ভোট প্রার্থনা করছেন সমর্থকগণ।

তাঁকে নিয়ে চা ষ্টল, হোটেল, রেষ্টুরেন্টেতো চা চুমুকের সাথে চলছে আলোচনার ঝড়। জনপ্রিয়তা ও তাঁর প্রতি জনগণের ভালোবাসায় আবারো তাঁর নির্বাচনী মাঠে কড়া নাড়ছে দলীয় মনোনয়ন। সব মিলিয়ে মেয়র শাহনেওয়াজ আলীই নৌকার প্রার্থী হবেন এমন বিশ্বাস এখন তাঁর কর্মি সমর্থকগণের মুখে মুখে শোনা যাচ্ছে।
দলীয় মনোনয়ন নিয়ে এবারো আশাবাদী মেয়র শাহনেওয়াজ

মেয়র শাহনেওয়াজ বলেন, আমি ২০১১ সালে প্রথম মেয়র নির্বাচিত হই। জনগনের সাথে সুন্দর ব্যবহার, ছোটদের স্নেহ করা, আদব কায়দা মেনে চলার কারনে জনগন তাদের প্রয়োজনে আমাকে ভোট দিয়ে সেবা করার সুযোগ করে দিয়েছে।

আমার ইচ্ছে ছিলো দলীয় প্রতীক নৌকা নিয়ে নির্বাচন করব। ২০১৬ সালে শেখ হাসিনা আমার অবস্থান দেখে সেই সুযোগ করে দিয়েছিলেন। আমি বিপুল ভোটে নৌকা প্রতীক নিয়ে মেয়র নির্বাচিত হই।

পৌরসভার বিভিন্ন রাস্তাঘাট, ড্রেন, ব্রীজ-কালভার্ট সংস্কার ও নির্মানসহ প্রতিনিয়ত হাট বাজার পরিষ্কার রাখা, পৌরবাসীর জন্য পানির ব্যবস্থা, লাইটিংয়ের ব্যবস্থা করেছি।

এসময় গুরুদাসপুরের সর্বস্তরের আ’লীগ নেতাকর্মির বরাত দিয়ে মেয়র শাহনেওয়াজ আলী বলেন, দলীয়ভাবে গুরুদাসপুর উপজেলা ও পৌরসভার আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, কৃষকলীগ, শ্রমিকলীগসহ সর্বস্তরের নেতৃবৃন্দের সাথে আমার ভালো সম্পর্ক রয়েছে।

দলীয় মনোনয়ন নিয়ে এবারো আশাবাদী মেয়র শাহনেওয়াজ
তারা সর্বদা আমার পাশে রয়েছেন। আমি মনে করি, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আওয়ামীলীগ করি এবং বঙ্গবন্ধুর আদর্শ নিয়েই জনগনের জন্য কাজ করে যাচ্ছি।

বর্তমানে আমাদের প্রিয় নেত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত কাজ সম্পাপ্ত করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন। ইতিমধ্যে আমরা শেখ হাসিনার হাত ধরে নিম্ন আয়ের দেশ থেকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নিত হয়েছি। এই নেত্রীর হাত দিয়েই সোনার বাংলাদেশ হবে।

নেত্রীর সহায়তা ও চেষ্টায় করোনা দূর্যোগ, আম্ফান ঝড় ও পরপর দুইবার বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের কেউ না খেয়ে থাকেনি। ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাড়িয়েছেন, তাদের জন্য খাবার পৌঁছে দেওয়াসহ সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করেছেন।

স্থানীয় সাংসদের প্রতি বিষোদগার করে মেয়র বলেন, আমাদের সব থেকে বড় সার্থকতা আমরা আওয়ামীলীগ করি। এই দেশ যার নেতৃত্বে স্বাধীন হয়েছে, যার জীবন যৌবন জেলখানায় কাটিয়ে দিয়েছেন সেই বঙ্গবন্ধুর দল করি। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার দল করি। নৌকার দল করি।

ইতিমধ্যে স্থানীয় সাংসদ আলহাজ্ব অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুস এমপি মহোদয় আমার বিরুদ্ধে অনেক প্রার্থী দাঁড় করিয়ে দিয়েছেন। উনি শুধু আমার বিরুদ্ধেই নয়, শেখ হাসিনার নৌকার বিরুদ্ধেই কথা বলেন। উনি ও উনার প্রার্থী নৌকা পেলে শাল কাঠের নৌকা হয় আসল নৌকা হয়। আর আমরা নৌকা পেলে ভেন্না কাঠের নৌকা হয়, শেখ হাসিনার নৌকা নয়।

নির্বাচনে নিজের পজিশন নিয়ে মেয়র শাহনেওয়াজ আলী বলেন, আসন্ন নির্বাচনে যদিও এমপি সাহেব অনেক প্রার্থী দাঁড় করিয়ে দিয়েছেন আমাকে হারানোর জন্য। তবে আমি বিশ্বাস করি নৌকা প্রতীক পেলে আর এই ধুম্রজাল থাকবে না। সকল প্রার্থীতা সড়ে দাঁড়াবে। এমনও হতে পারে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে যাব। এ ব্যাপারে আমি শতভাগ আশাবাদী। ইনশাল্লাহ নৌকা প্রতীক আমিই পাবো।

জনগণকে দেওয়া বিভিন্ন প্রতিশ্রুতির ব্যাপারে মেয়র শাহনেওয়াজ আরো বলেন, বিগত নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ইতিমধ্যে আমি পৌরসভার ৭০% কাজ সম্পন্ন করেছি। বাকি কাজগুলো চলমান রয়েছে। করোনা, অতিবৃষ্টিসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারনে কাজ বন্ধ ছিলো। ইনশাআল্লাহ আগামী মাসের মধ্যেই সকল কাজ সম্পন্ন করে ফেলব।

দেখা গেছে, জনগণের জীবনযাত্রা ও পৌর এলাকার নাগরিকসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি রাস্তাঘাট নির্মাণ, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, আধুনিক পৌরভবন, পৌরসভার অভ্যন্তরে বিভিন্ন মসজিদ-মাদরাসার উন্নয়নে পৌরসভা ও নিজ তহবিল থেকে অর্থ প্রদান করে চলেছেন দানবীর খ্যাত মেয়র শাহনেওয়াজ আলী।

শিক্ষানুরাগী এই মেয়র স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডেও অবদান রেখেছেন। পৌরসভার রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি করে ‘খ’ শ্রেণি থেকে ‘ক’ শ্রেণিতে উন্নীত করেছেন। আবার করোনা মহামারির এই সময়ে সরকারি সহায়তার পাশাপাশি ব্যক্তিগত উদ্যোগে খাদ্য ও আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন মেয়র শাহনেওয়াজ।

অসহায় মানুষকে সাহায্য সহযোগিতা করতে “শাহনেওয়াজ আলী মেয়র জনকল্যাণ ট্রাস্ট” স্থাপন করেন তিনি। পৌর এলাকার বাইরেও এই সহযোগিতা প্রদান করেছেন। এছাড়া হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা অসহায় মানুষের বাড়িতে গিয়ে খাদ্যসামগ্রী ও প্রয়োজনীয় ওষুধ পৌঁছে দিয়েছেন।

এসব বিভিন্ন অবদানের কারণে জনসাধারণের মুখে ত্রাণকর্তা হিসেবেও অভিহিত হয়েছেন মেয়র শাহনেওয়াজ আলী।

আজ রোববার বিকেলে চাঁচকৈড় ‘যাদের রক্তে স্বাধীন এদেশ” মুক্তমঞ্চে মেয়র শাহনেওয়াজের সমর্থনে জনসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় আবারো দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার দৃঢ় প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন অনুষ্ঠানের প্রধান বক্তা মেয়র মো. শাহনেওয়াজ আলী।
দলীয় মনোনয়ন নিয়ে এবারো আশাবাদী মেয়র শাহনেওয়াজ

পৌর আ’লীগের সভাপতি আলহাজ মো. জাহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন উপজেলা আ’লীগের সভাপতি এ্যাড. আনিসুর রহমান। সভায় আরো বক্তব্য রাখেন উপজেলা আ’লীগের সিনিয়র সহসভাপতি আলহাজ আব্দুল বারী, নাজিরপুর ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আইয়ুব আলী, রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আহম্মদ আলী মোল্লা, আ’লীগ নেতা প্রভাষক হেলাল উদ্দিন, মশিন্দা ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি আব্দুল বারী, নাটোর জেলা পরিষদের সদস্য সরকার মেহেদী হাসান প্রমূখ।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন পৌর আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান মোল্লা।

মেয়র মো. শাহনেওয়াজ আলী বলেন, গত দুই যুগেও যা হয়নি তা আমি মেয়র হওয়ার পর করেছি। দলমত নির্বিশেষে সবাই এখন উন্নয়নের সুফল ভোগ করছেন। গুরুদাসপুর পৌরসভায় মাদক, ঘুষ, দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজদের কোনো স্থান নেই।

বিগত নির্বাচনের সময় যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম তার প্রায় শতভাগ পূরণ করেছি। নাগরিকদের কাঙ্খিত সেবা নিশ্চিত করতে ও পৌরসভার মান উন্নয়নে আমার এবং কাউন্সিলরদের আন্তরিকতার কোনো কমতি নেই। জনগণের উন্নয়নের প্রত্যাশা অনুযায়ী চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করে যাচ্ছি।

Leave a Reply