চট্টগ্রামের ক্রিকেটরা যথাশীঘ্রই মাঠে নামতে আগ্রহী।

0
35
চট্টগ্রামের ক্রিকেটরা যথাশীঘ্রই মাঠে নামতে আগ্রহী।
মোঃ সিরাজুল মনির, ব্যুরো প্রধান, চট্টগ্রাম বিভাগ:-

মাত্র কদিন হলো সফলতার সাথে শেষ হলো মুজিববর্ষ ফুটবল টুর্নামেন্ট। এই করোনার মাঝেও কোনরকম অঘটন ছাড়াই শেষ হয়েছে প্রায় দশ দিনের এই টুর্নামেন্ট। বলা হয়েছিল ফুটবলের পর শুরু হবে ক্রিকেট টুর্নামেন্ট। আর সে লক্ষ্যে গত ১৪ অক্টোবর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের দুই পরিচালক এবং বাংলাদেশ দলের দুই সাবেক অধিনায়ক আকরাম খান এবং খালেদ মাহমুদ সুজনকে নিয়ে সভাও করেছিল চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থা। তাদের পরামর্শ ছিল এই টুর্নামেন্টে যদি কর্পোরেট হাউজগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করা যায় তাহলে ভাল হয়। কারণ কর্পোরেট হাউজগুলো এগিয়ে এলে টুর্নামেন্ট যেমন আকর্ষণীয় হবে তেমনি ক্রিকেটাররাও কিছু আর্থিক সহযোগিতা পাবে। সে হিসেবে চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থা কর্পোরেট হাউজগুলোর প্রতি আহ্বানও জানিয়েছিল। যদিও মধ্য ডিসেম্বরের আগে এই কর্পোরেট টুর্নামেন্ট শুরু করাটা কঠিন হবে। কারণ মধ্য ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড আয়োজিত পাঁচ দলের টুর্নামেন্ট। যদি টুর্নামেন্টের আকর্ষণ বাড়াতে চট্টগ্রামের বাইরের ক্রিকেটার খেলাতে হয় তাহলে মধ্য ডিসেম্বরের আগে এই টুর্নামেন্ট শুরু করা যাবেনা। সে ক্ষেত্রে আরো প্রায় দেড় মাসেরও বেশি সময় অপেক্ষা করতে হবে ক্রিকেটারদের মাঠে নামতে।
তবে চট্টগ্রামের ক্রিকেটাররা চাইছে শীঘ্রই মাঠে নামতে। তাই তাদের দাবি আপাতত স্থানীয়ভাবে হলেও যেন একটি টুর্নামেন্ট শুরু করা হয়। যাতে তারা মাঠে নামতে পারে। খেলাটা শুরু করতে পারে। সে হিসেবে জেলা ক্রীড়া সংস্থার ক্রিকেট সম্পাদক আবদুল হান্নান আকবর একটি প্রস্তাবও রেখেছে জেলা ক্রীড়া সংস্থার কাছে। যাতে স্থানীয়ভাবে একটি টুর্নামেন্ট মাঠে নামানো হয়। পরে যদি কর্পোরেট টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে চায় জেলা ক্রীড়া সংস্থা তাহলে সেটা করতে পারবে। আর স্থানীয়ভাবে একটি টুর্নামেন্ট নামাতে গেলে তেমন বেশি খরচেরও সম্ভাবনা নেই। পাশাপাশি ক্রিকেটারদের অনুশীলনটাও হয়ে যাবে সে টুর্নামেন্টের মধ্য দিয়ে। জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দিন সে প্রস্তাব বিবেচনায় রাখার আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন ক্রিকেট সম্পাদক। তবে সবকিছুর জন্য অপেক্ষা করতে হবে সংস্থার নির্বাহী কমিটির সভা পর্যন্ত। কারন নির্বাহী কমিটিতে সিদ্ধান্ত হওয়ার আগে কোন কিছু করা সম্ভব নয়।
কদিন আগে ফুটবল টুর্নামেন্ট সফলতার সাথে শেষ হলেও এই টুর্নামেন্টে ঝুঁকি ছিল বেশ। কারন ফুটবল শারীরিক সংঘর্ষ প্রবণ খেলা। ক্রিকেটে অবশ্য সে সম্ভাবনা নেই। ক্রিকেটে শারীরিক সংঘর্ষ হওয়ার সম্ভাবনা একেবারেই নেই। ক্রিকেটে পুরো মাঠজুড়ে থাকবে মাত্র ১৩ জন খেলোয়াড়। তাছাড়া ক্রিকেট সারাদিনের খেলা হওয়াতে মাঠে তেমন দর্শকও আসবেনা। সবকিছু মিলিয়ে করোনার ঝুঁকি ক্রিকেটে অনেকটাই কম। তাই ক্রিকেটাররা চাইছে শীঘ্রই মাঠে নামতে। গত প্রায় আটমাস ধরে বসা রয়েছে ক্রিকেটাররা। ঢাকায় তিন দলের একটি টুর্নামেন্ট হলেও সেখানে খেলতে পারছে কেবল জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা। অন্যদের খেলার সুযোগ নেই। সামনে পাঁচ দলের যে টুর্নামেন্ট হবে তাতেও চট্টগ্রামের ক্রিকেটারদের খেলার সুযোগ বলতে গেলে তেমন নেই। তাই ডিসেম্বরের শেষের দিকে যদি চট্টগ্রামে ক্রিকেট টুর্নামেন্ট শুরু হয় তাহলে ক্রিকেটারদের অপেক্ষার প্রহর আরো লম্বা হবে। আর তাই এত লম্বা সময় আর বসে থাকতে চায়না চট্টগ্রামের ক্রিকেটাররা। তারা চায় যেন সহসা একটি টুর্নামেন্ট শুরু করা হয়। তাছাড়া এম এ আজিজ স্টেডিয়ামের মাঠ এবং উইকেট বলতে সব প্রস্তুত। শুধু একটু পরিচর্যা করলেই টুর্নামেন্ট শুরু করা যায়। তবে সবকিছু নির্ভর করছে জেলা ক্রীড়া সংস্থার নির্বাহী কমিটির সভার উপর। সে সভা কি সিদ্ধান্ত দেয় সেদিকেই তাকিয়ে আছে চট্টগ্রামের ক্রিকেটাররা
গতকাল কথা হয়েছে বেশ কয়েকজন ক্রিকেটারের সাথে। তারা জানান, ঢাকায়ও এ বছর আর কোন লিগ হবেনা। তাই পুরো একটা বছর তাদের বসে থাকতে হচ্ছে। চট্টগ্রামেও এ বছর আর ক্রিকেট লিগ মাঠে গড়াবেনা। কারন ফুটবল লিগও শুরু হয়েছিল মাত্র। একটি করে ম্যাচ খেলেছিল দল গুলো লকডাউনের আগে। তাই সহসা যদি কোন ক্রিকেট টুর্নামেন্ট শুরু না হয় তাহলে তাদের পুরো বছরটা বসে থাকতে হবে। তাই জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদকের কাছে তাদের দাবি যাতে একটি টুর্নামেন্ট যেন শুরু করা হয়। তাহলে তারা অন্তত মাঠে নামতে পারবে। নিজেদের ফিটনেসটা যাচাই করতে পারবে। আর কিছুটা হলেও আর্থিক সংস্থান হবে। বড় বাজেটের ফুটবল সম্পন্ন হওয়ার পর ক্রিকেটারদের দাবিটা আরো জোরালো হয়েছে। তাদের চাওয়া খুব বড় পরিসরে না হোক অন্তত ছোট পরিসরে হলেও একটি টুর্নামেন্ট যেন শুরু করা হয়। যাতে তারা খেলতে পারে।

Leave a Reply