পাবনায় ধর্ষক জামিনে মুক্তি পেয়ে ধর্ষণের পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি।

পাবনাঃ- পাবনা ঈশ্বরদী উপজেলার মুলাডুলি ইউনিয়নের গোয়াল বাথান গ্রামের পঞ্চম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রী গণধর্ষণের শিকার হয় গত ৭ মাস আগে।

এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি ছিলেন পাবনা ঈশ্বরদী উপজেলার মুলাডুলি শেখ পাড়া মহল্লার মোঃ নিজাম উদ্দিনের ছেলে মোঃ জাহিদ হোসেন।

কয়েকদিন আগে জাহিদ হোসেন জামিনে মুক্ত হয়ে এলাকায় এসে ভুক্তভোগী পরিবারকে মামলা তুলে নিতে নানাভাবে ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে ভুক্তভোগী অসহায় দরিদ্র পরিবার বেশ উৎকণ্ঠার মধ্যে দিনযাপন করছেন।

জানা গেছে, নিরাপত্তাহীনতা ও সম্প্রতি ঘটনা উল্লেখ করে মামলার বাদী মেয়েটির মা থানাতে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের মার্চ মাসের ২৭ তারিখে প্রতিবেশীর বাড়ি থেকে ফেরার পথে গণধর্ষণের শিকার হয় গোয়াল বাথান গ্রামের এক ভ্যান চালকের মেয়ে। ধর্ষণের শিকার মেয়েটি মুলাডুলি গোয়াল বাথান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

এ ঘটনায় মেয়েটির মা নিজে বাদী হয়ে ঈশ্বরদী থানাতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে দুইজনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেন এবছর মার্চের ৩০ তারিখে (অর্থাৎ ঘটনার তিন দিন পর)।

মামলার পর অভিযুক্ত একজন আসামি গ্রেফতার হলেও এখনো আত্মগোপনে রয়েছে মামলার দ্বিতীয় আসামি ওই গ্রামের মৃত আজিবর প্রামানিকের ছেলে মোঃ শান্ত মিয়া।

দীর্ঘ সাত মাস অতিবাহিত হলেও ধর্ষণ মামলার অন্যতম দ্বিতীয় আসামিকে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে পারেনি পুলিশ প্রশাসন।

এ মাসের ১৯ অক্টোবর পাবনা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পান এই মামলার প্রধান আসামি মোঃ জাহিদ হোসেন।

জামিনে মুক্তি পেয়ে ধর্ষণের ভুক্তভোগী পরিবারকে মামলা তুলে নিতে নানাভাবে চাপ ও প্রাণ নাশের হুমকি দিতে থাকে ধর্ষক জাহিদ।

কান্নাজড়িত কন্ঠে মেয়েটির বাবা বলেন, “স্যার মামলা করে আমি মনে হয় ভুল করেছি। মামলার প্রধান আসামি জামিনে মুক্তি পেয়ে আমার বাড়ির সামনে দলবল নিয়ে এসে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। ওরা প্রভাবশালী আমি গরীব মানুষ কি করবো বুঝে উঠতে পারছিনা। মেয়েটির এই রকম সর্বনাশ করে আবার আমাকে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে। গরীবের বিচার পাওয়া খুবই কঠিন স্যার”।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তদন্ত অরবিন্দ সরকার বলেন, মামলাটি এখনো তদন্তাধীন রয়েছে। মামলার প্রধান আসামিকে ঘটনার পরে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছিল। ধর্ষণের ঘটনায় প্রাথমিকভাবে ধর্ষকের বয়স ২১ বছর লেখা ছিল। আসামি পক্ষের আবেদনের আলোকে আদালতের নির্দেশনা নিয়ে ডাক্তারি পরীক্ষার মাধ্যমে ছেলেটির বয়স ১৭ বছর প্রমাণিত হয়েছে।

তবে মেয়েটির ধর্ষণের ডাক্তারি পরীক্ষার রিপোর্ট আমরা হাতে পেয়েছি। সেখানে মেয়েটির ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে বলে চিকিৎসক রিপোর্ট দিয়েছে।

নির্যাতিত মেয়েটি ২২ ধারায় মেজিস্ট্রেটের কাছে জবানবন্দি দিয়েছে। এছাড়া ওই দিনের ঘটনার ওই মেয়েটি পোশাক জব্দ করে আসামিকে সঙ্গে নিয়ে সিআইডির মাধ্যমে ব্যবহার্য পোষাকসহ আলামত ডিএনএ পরীক্ষার জন্য দেওয়া হয়েছে।

রিপোর্টটি এখনো আমরা হাতে পাইনি। রিপোর্ট পাওয়া মাত্রই চার্জশিট দেওয়া হবে।

Author: admin

Leave a Reply