রংপুরে যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

0
36

রংপুরে যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

এম হামিদুর রহমান লিমন, রংপুর:- রংপুর জেলার সদর উপজেলার চনন্দপাট ইউনিয়নের বাবুর হাটে বাঁশঝাড়ের পাশে এক যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
জানা যায়,রংপুর জেলার সদর উপজেলার ৩ নং চনন্দপাট ইউনিয়নের বাবুর হাট গ্রামের সাইদার মিয়া(৭৫) এর ছেলে আনোয়ারের (৩০) এর লাশ উদ্ধার করেন ৩ নং চন্দনপাট বিট পুলিশং অফিসার ইনচার্জ এস আই মনিরুজ্জামান লিখন সহ সঙ্গীয় ফোর্স।
এস আই মনিরুজ্জামান লিখন বলেন,”আমাকে চেয়ারম্যান সাহেব প্রায় দুপুর দুইটার দিকে মুঠোফোনে জানান যে চন্দনপাট ইউনিয়নের বাবুর হাটে পাশে একটা যুবকের লাশ পাওয়া গেছে। আমি দেরি না করে আমি ও আমার সঙ্গীয় ফোর্স সহ এবং উক্ত ওয়ার্ডের গ্রাম পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনা স্থলে গিয়ে দেখি একটু যুবকের লাশ। আমরা লাশটি উদ্ধার করে আমার উদ্ধতম কর্মকর্তাদের করে আমরা ঘটনার স্থান চিহ্নিত করে রাখি।এবং সাধারণ লোকের প্রবেশ নিষেধ ঘোষণা করি।”

রংপুরে যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

প্রত্যক্ষদর্শী জানান,”আমি দুপুরে আমার ধান ক্ষেত দেখতে গিয়ে দেখে আমার ধান ক্ষেতের পাশে বাঁশ ঝাড়ের পাশে একটি লোক শুয়ে আছে। কাছে গিয়ে দেখি রক্তাক্ত অবস্থায় এক যুবক পড়ে আছে। আমি ভয় পেয়ে চেয়ারম্যানকে অবগত করি এবং চেয়ারম্যান পুলিশকে জানালে পুলিশ এসে লাশটি উদ্ধার করে।এবং পরে অন্য গ্রামবাসী সহ আমরা উদ্ধারকৃত লাশটি সাইদার এর ছেলে আনোয়ার এর লাশ বলে চিন্হিত করি।”

আনোয়ারের মা জানান,এই বছরের রমজান মাসে আনোয়ারের বিয়ে হয় এক গ্রামের বেল্লাল মিয়া(৫৬) এর মেয়ে বেবী নাজনীনের (১৮) সাথে। কিন্তু তাদের পারিবারিক সমস্যার কারণে দু পরিবারের মধ্যে দন্দ্ব হয়। আর সেই দন্দ্বের জের ধরে আবু বক্কর সিদ্দিক (৬৫), বেল্লাল মিয়া(৫৬) সহ তার ভাড়াটিয়া সন্ত্রাস বাহিনী সহ আমার ছেলেকে মেরে ফেলেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তিনি আরো বলেন, গতকাল ইউনিয়ন পরিষদে বিচারের জন্য ডাকা হলে দুই পক্ষ উপস্থিত হলে পুলিশ ও বিচারকেরা শনিবারের কথা বলে।আমরা রাজি হয়ে আসতেছি তখন আমার ছেলের বৌ বেবি নাজনিন আমার ছেলে বলে তোকে মেরে ফেলব তোক খেয়ে ফেলব বলে হুমকি দেয়। সেইদিন রাতে আর বাড়ি ফেরেনা আনোয়ার আর পরেদিন তার লাশ পাওয়া যায় বাঁশ ঝাড়র।আমার আনোয়ারের খুনিদের বিচার চাই বলে অার্তনাদ করেন হতভাগা আনোয়ারের মা।

বেবি নাজনিন বলেন, আমার উপর ও আমার পরিবারের উপর খুনের যে অভিযোগ করেছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমাদের ফাসানোর চেষ্টা করছে।কে বা কাহারা মেরেছে আর আমাদের উপর দোষ চাপাচ্ছে।আমি এই সম্পর্কে কিছু জানি না বলে দাবি করেন বেবি।তবে এলাকাবাসিরা জানান রংপুর শহরের কোন এক যুবকের সাথে বেবির সম্পর্ক ছিল কিন্তু পরবর্তীতে ছেলেকে বেবির পরিবার বাঁধা করলে আর সেই ছেলেটিকে দেখা যায় না,তবে মোবাইল ফোনে কথা হচ্ছিলো কিনা আমরা জানি না।ঐ ঘটনার পরেই আনোয়ার সাথে সম্পর্ক করে বিয়ে করেন বেবি।বেবি প্রথম সম্পর্কের কথা শিকার না করলেও আনোয়ারের সাথে যে সম্পর্ক করে বিয়ে হয়েছে তা শিকার করেন।তবে প্রথম সম্পর্ক অস্বীকার করে বলেন আমার এলাবাসী আমার উপর মিথ্যা দোষারোপ করছেন বলে দাবি করেন।তিনি আরো বলেন যে এখন কতজনে কত কি বলবে আমার সম্পর্কে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার,রংপুর (এ- সার্কেল) আবু তৈয়ব মোহাম্মাদ আরিফ হোসেন জানান,”সাত জনকে সন্দেহবসত জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তবে এর সৃষ্ট তদন্ত করেই আমরা আসল অপরাধীকে খুব তাড়াতাড়ি আইনের আওতায় আনা হবে”
৩ নং চন্দন পাট ইউপির চেয়ারম্যান আমিনুর রহমান বলেন,”আমার নির্বাচিত হবার ৫ দিনের মাথায় আমার ইউনিয়নের যে ঘটনা ঘটেছে তা মর্মান্তিক। আমি মৃত পরিবারের জন্য শোক প্রকাশ করছি। এবং তদন্ত করে সঠিক অপোরাধীকে আইনের আওতায় আনার জন্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী সহ সংশ্লিষ্ট সকলের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”

অতি শীঘ্রই অপরাধীকে আইনের আওতায় নিয়ে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন একাবাসী সহ সচেতন মহলরা।এবং সেই সাথে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী ও সংশ্লিষ্টদের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন

Leave a Reply