নাটোরে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে সনাতন ধর্মবলম্বীদের শারদীয় দূর্গোৎসবের সমাপ্তি

নাটোরে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে সনাতন ধর্মবলম্বীদের শারদীয় দূর্গোৎসবের সমাপ্তি

পিন্টু স্যার নাটোর প্রতিনিধি:-

পুজা অর্চনা, সিঁদুর খেলা এবং নাচ গানের মধ্যে দিয়ে সারা দেশের মতো নাটোরেও আজ শেষ হলো সনাতন ধর্মালম্বীদের ৫দিনের শারদীয় দূর্গোৎসব।সকালে নাটোর শহরের পূজা মন্ডপগুলোতে মা দূর্গাকে শেষ বিদায় জানাতে ভিড় করেন সনাতন ধর্মালম্বীরা।

এসময় পূজা অর্চনা শেষে মায়ের পা থেকে সিঁদুর সংগ্রহ করেন তারা। পরে একে অপরকে সিঁদুর পড়িয়ে দিয়ে খেলায় মত্ত হয়ে উঠে। এসময় বিগত দিনের সকল গ্লানি ভুলে গিয়ে নাচ-গানে আনন্দে মেতে উঠে সনাতন ধর্মালম্বীরা।

করোনার কারনে উৎসবে কিছুটা ভাটা পড়লেও আগামী দিনে সকল অশুভ শক্তি বিনাশ করে মা দূর্গা আবিভাব হবে এই প্রার্থনা সনাতন ধর্মালম্বীদের

আর এর মাধ্যমে শারদীয় দূর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতার সমাপ্তি ঘটে। বিকেল ৩ টার দিকে সকল মন্দির থেকে ট্রাকে প্রতিমা তুলে বিসর্জন স্থল নাটোর রাণীভবানী রাজবাড়ির বাহিরের লেকে নিয়ে যাওয়া হয়।

পরে সেখানে প্রতিমাগুলো বিসর্জন দেওয়া হয়।শহরের অধিকাংশ প্রতিমা সন্ধ্যা ৭ টার আগেই বিসর্জন হয়ে যায়। ভক্তবৃন্দ বিষন্ন মনে করোনামুক্ত বিশ্ব প্রাপ্তির আশায় মায়ের শেষ বিদায়ের সময় প্রার্থনা জানায়।

দুর্গতিনাশিনী মাকে বিদায় দিয়ে বিষন্ন মনে ঘরে ফিরবে সবাই। মিলিত হবে আত্মীয় স্বজনের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময়ের জন্য।

করোনা কারণে সারাদেশের ন্যায় নাটোরের গুরুদাসপুরেও অনেকটা সাদামাঠা পরিবেশে নন্দকুর্জা নদীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যে দিয়ে শেষ হয়েছে বাঙ্গালী হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দূর্গাপূজা।

সকালে পূজা-অর্চনা,অঞ্জলী,দর্পন বিসর্জন আর সিঁদুর খেলার মধ্য দিয়ে ৫দিনের শারদীয় দূর্গা পূজার দশমী পূজা সম্পন্ন হয়। এবং দুপুর থেকে গুরুদাসপুর পৌরসদরের সব পূর্জামন্ডপের প্রতিমাগুলো নন্দকুর্জা নদীতে রাখা নৌকাতে উঠাতে থাকে।

পরে একযোগে উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশে প্রতিমা নৌকাগুলো সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে কয়েকবার ঘোরাঘুরি শেষে ধর্মীয় সকল নিয়ম কানুন মেনে নদীতে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়। প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে সনাতন ধর্মবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দূর্গোৎসবের সমাপ্তি হয়েছে।

গুরুদাসপুরের হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দূর্গাপূজা এবং নদীতে প্রতিমা বিসর্জন দেখতে দূর দূরান্ত থেকে আসা নদীর উপর নির্মিত ব্রীজ ও নদীর দুইপাশে অনেক লোকজনের সমাগম হতে দেখা যায়।

উল্লেখ্য যে,এবার গুরুদাসপুর উপজেলায় মোট ৩০টি পূর্জামন্ডপে শারদীয় দূর্গোৎসব পালিত হয়েছে।

Author: admin

Leave a Reply