ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া ইবিতে মক্কায়-জমজম কূপকে তাচ্ছিল্য করে স্ট্যাটাস

0
23

ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া ইবিতে মক্কায়-জমজম কূপকে তাচ্ছিল্য করে স্ট্যাটাস

আব্বাস আলী। ঝিনাইদহ

ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের জেরে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবী ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের এক শিক্ষার্থীর ছাত্রত্ব বাতিল ও স্থায়ী বহিষ্কারের সুপারিশ করেছে তার বিভাগ। সুপারিশকৃত ঐ শিক্ষার্থী সাইফুল্লাহ আল হাদী। তিনি উক্ত বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।

আজ শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে বিভাগের একাডেমিক সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এ সিদ্ধান্ত গৃহিত হয় বলে জানিয়েছেন বিভাগীয় সভাপতি অধ্যাপক মোস্তাক মোক্তাদির মনোয়ার আলী।
তিনি বলেন, বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। আমরা বিভাগীয় একাডেমিক সভায় তার বিরুদ্ধে সবাই একমতে এসেছি। বিভাগ থেকে তার ছাত্রত্ব বাতিল ও স্থায়ী বহিষ্কারের সুপারিশ করা হয়েছে এবং রেজিস্ট্রার বরাবর সুপারিশ পাঠানো হচ্ছে।

ফ্রান্সের ম্যাগাজিনে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সঃ) এর ব্যাঙ্গচিত্র ছাপানোয় সারাদেশের মুসলমানরা ফরাসি পণ্য বর্জনের দাবিতে যখন সোচ্চার। ঠিক তখনই পণ্য না বর্জনের পক্ষে যৌক্তিকতা তুলে ধরে শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) দুপুর ২টার দিকে নিজ টাইমলাইনে পোস্ট করেন ঐ শিক্ষার্থী। তিনি ঐ পোস্টে পবিত্র মক্কা শরীফ ও পবিত্র জমজম কূপকে তাচ্ছিল্য ও খাটো করে স্ট্যাটাস দেন। পরে মুহুর্তের মধ্যে তার ঐ স্ট্যাটাসটি ভাইরাল হলে তার সহপাঠীসহ সচেতন শিক্ষার্থীরা ফেসবুকে প্রতিবাদের ঝড় তোলে। এসময় শিক্ষার্থীরা বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে তার বিরুদ্ধে আইনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ ও বিশ^বিদ্যালয় থেকে স্থায়ী বহিষ্কারের দাবি জানান।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে তার এক সহপাঠী বলেন, সে ধর্ম নিয়ে এমন বাড়াবাড়ি এর আগেও কয়েকবার করেছে। মাঝে আরো একবার ধর্ম নিয়ে কটুক্তি করায় প্রতিবাদের ঝড় উঠলে সে তার আইডি ডিজেবল করে রাখে। এবার তার কঠোর শাস্তি দাবি করছি।

প্রতিবাদের ঝড় উঠলে সন্ধ্যা ৬ টার দিকে হাদী তার টাইমলাইন থেকে পোস্টটি সরিয়ে নেন। এর আগেও তার বিভিন্ন পোস্টে ইসলাম, মুসলমান ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের কুকীর্তিগুলো উঠে আসে। গেল কুরবানীর ঈদের সময় পশু কোরবানী নিয়েও তিনি ফেসবুকে বিরুপ মন্তব্য করেন। সেই পোস্টে তিনি লেখেন, ‘বিশ্বের যেসব অঞ্চলে পশু কোরবানির সংস্কৃতি প্রচলিত আছে সেসব অঞ্চলে মানুষ জবাইয়ের অপরাধও সংগঠিত হয়।’ এসব পোস্টে বিতর্কের জন্ম দিলেই পোস্ট সরিয়ে নিতেন ওই শিক্ষার্থী।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) এস এম আব্দুল লতিফ বলেন, আমরা এখনও কোন চিঠি পাইনি। চিঠি পেলে উপাচার্য বরাবর পাঠাবো। পরে উপাচার্য পরবর্তী ব্যবস্থা নিবেন।

Leave a Reply