চসিক প্রশাসকের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শন। কাজ শেষ করার তাগিদ।

0
32
চসিক প্রশাসকের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শন। কাজ শেষ করার তাগিদ।
মোঃ সিরাজুল মনির, ব‍্যুরো প্রধান, চট্টগ্রাম:-

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আলহাজ্ব মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন নগরীর জনদুর্ভোগ ও ভোগান্তি লাঘবে বাস্তবায়নাধীন দু’টি প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনকালে বলেন, এই প্রকল্প দুটির সুফল নগরবাসীর জীবনমান উন্নয়নে বড় অবদান রাখবে। নাগরিক দুর্ভোগের প্রধান কারণ জলাবদ্ধতা ও যানজট। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই দুইটি সমস্যা নিরসনের অংশ হিসেবে চসিক নগরীতে পূর্ব বাকলিয়ায় বলিরহাটে বারইখাল খনন প্রকল্প ও কুলগাঁওয়ে বালুছড়া বাস টার্মিনাল প্রকল্প বাস্তবায়নে পদে পদে সকল বাধা অতিক্রম করে এখন স্বপ্ন ও প্রত্যাশার প্রাপ্তিযোগ ঘটাতে যাচ্ছে। তিনি আরো বলেন, অত্যাধুনিক আন্তর্জাতিক মানের নগরী হিসেবে গড়ে উঠতে প্রাকৃতিক বন্দর সহ সকল উপাদান বিদ্যমান থাকা সত্তে ও চট্টগ্রাম তা হতে পারেনি। একটি পরিকল্পিত নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে হলে যে ধরণের যুগোপযোগী পরিকল্পনা থাকা দরকার তা এতদিন ছিল না। ফলে এক সময়ের ছোট-খাট সমস্যাগুলো এখন আমাদের মাথা ব্যথার বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর বড় প্রমাণ জলাবদ্ধতা ও যানজট। চাক্তাই খাল দখল এবং প্রায় দু’ডজন খাল বিলুপ্তি নগরীতে জলাবদ্ধতার মূল উৎস এবং গণ ও পণ্য পরিবহনের জন্য বড় টার্মিনাল না থাকায় যেখানে সেখানে অবৈধ পরিবহন স্ট্যান্ডগুলো যানজট সমস্যাকে অনিবার্য করে তুলেছে। তাই এই দুইটি বিষয়কে মাথায় রেখে আমাদেরকে এগুতে হবে এবং প্রধানমন্ত্রী সেই ভাবেই এগুতে আমাদের নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই দু’টি বাস্তবায়নাধীন প্রকল্প নগরীতে জলাবদ্ধতা ও যানজট সংকট নিরসনের সবুজ সংকেত। তিনি পূর্ব বাকলিয়া বলিরহাটে জাইকার অধীনে ১৩’শ কোটি টাকা ব্যয় বরাদ্দকৃত বারইখাল খনন প্রকল্পটির বিবরণী তুলে ধরে জানান, ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এই খালটি সরাসরি চাক্তাই খালের সাথে যুক্ত হবে এবং ওই খাল হয়ে পানি কর্ণফুলী নদীতে গিয়ে পড়বে। খালটির প্রশস্থ ৬৫টি ফুট। দু’পাশে থাকবে ২০ ফুট প্রশস্থ সড়ক ও ৬ ফুট প্রশস্থ ওয়ার্কওয়ে। বিগত ৬ বছর ধরে বিভিন্ন কারণে এই প্রকল্পটির বাস্তবায়ন কাজ ঝুলে ছিল। আমরা প্রয়োজনীয় দেনদরবার করে প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ আবার শুরু করতে পেরেছি। চসিকের প্রকৌশল সহ সংশ্লিষ্ট বিভাগকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং প্রকৌশলীদের এই ব্যাপারে অর্পিত দায়িত্ব পালন করার জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। তিনি কুলগাঁও বালুছড়াই ৮.১ একর জায়গার ওপর চসিকের উদ্যোগে বাস্তবায়নাধীন বাস টার্মিনাল প্রকল্প এলাকা পরিদর্শণকালে জানান, এই প্রকল্পটি ভূমি অধিগ্রহণের কাজ চলমান রয়েছে। ইতোপূর্বে চসিক ভূমি অধিগ্রহণের জন্য সরকারের ভূমি অধিগ্রহণ বিভাগকে ১৩০ কোটি টাকা প্রদান করেছে। এই প্রক্রিয়াটি করোনাকালে কিছুটা গতি হারালেও তাকে আবারও চাঙ্গা করার জন্য আমি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে প্রয়োজনীয় যোগাযোগ ও তাগিদ প্রদান করে আসছি। আশাকরি এ ক্ষেত্রে আর কোন সময় ক্ষেপন করা হবে না এবং অধিগ্রহণ কাজ সমাপ্ত হলে ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে অবকাঠামো নির্মাণ কাজ বাস্তবায়ন শুরু হবে। তিনি বলেন, এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে সমগ্র উত্তর চট্টগ্রাম এবং পাবর্ত্য রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলার মধ্যে বিদ্যমান যানজট সমস্যা আর থাকবে না। খুব সহজেই এই বাস টার্মিনাল থেকে পরিবহন মালিক, চালক, শ্রমিক এবং যাত্রী সাধারণ বিড়ম্বনামুক্ত আরামদায়ক সহজলব্য সেবা পাবেন। এর আগে তিনি প্রকল্প পরিদর্শনের জন্য যাবার পথে বহদ্দারহাট মোড়ে রাস্তার উপর যত্রতত্র ভাবে বিভিন্ন রিক্সা, ভ্যান, সিএনজি ট্যাক্সির যানবাহনের স্ট্যান্ড দেখে গাড়ী থেকে সেখানেই নেমে পড়েন এবং নিজ উদ্যোগে রাস্তার উপর দাঁড়িয়ে থাকা যানবাহনগুলোকে সরে যাওয়ার জন্য তাৎক্ষণিক নির্দেশ দেন। ফলে খুব দ্রæতই এই প্রশস্থ সড়কটি জন ও যানবাহন চলাচলে উপযোগী হয়ে ওঠে। এ জন্য এলাকাবাসী এগিয়ে এসে প্রশাসককে ধন্যবাদ জানান। এ সময় অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম মানিক, তত্ত¡বধায়ক প্রকৌশলী কামরুল ইসলাম, আবু ছালেহ, প্রশাসকের একান্ত সচিব মুহাম্মদ আবুল হাশেম, নির্বাহী প্রকৌশলী ফরহাদুল আলম, আবু সিদ্দীক, শাহিনুল ইসলাম, এস্টেট অফিসার মো. কামরুল ইসলাম চৌধুরী, প্রকৌশলী মফিজুল ইসলামসহ চসিকের প্রকৌশলী ও পরিচ্ছন্ন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

পিসি রোড পরিদর্শকালে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে সুজনঃ

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আলহাজ্ব খোরশেদ আলম সুজন ৩০ নভেম্বরের মধ্যে ‘চট্টগ্রামের দুঃখ’ বলে খ্যাত পোর্ট কানেকটিং রোড (পিসি রোড) এর ৭০ শতাংশ কাজ শেষ করতে ঠিকাদারদের সময়সীমা বেধে দিয়েছেন। এই সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করলে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কৃত করা হবে বলে তিনি ঘোষণা করেন। আর তাই সময়সীমার মধ্যে কাজ শেষ না করলে কার্যাদেশ পাওয়া ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে কালো তালিকাভূক্ত ও গণদুশমন হিসেবে চিহ্নিত করে তাদের তালিকা নগরবসাীর সামনে প্রকাশ করা হবে। তিনি গত শুক্রবার বিকাল ৩টায় পোর্ট কানেকটিং রোডের চলমান উন্নয়ন কাজ পরিদর্শনে গিয়ে একথা বলেন। এসময় মেয়রের একান্ত সচিব মো. আবুল হাশেম, জাইকার সিনিয়র প্রকৌশলী নাছির উদ্দিনসহ স্থানীয় জনগণ প্রশাসকের সাথে ছিলেন।

প্রশাসক প্রথমে পাহাড়তলী সাগরিকা রোড পোর্ট কাস্টমস একাডেমি এলাকায় প্রায় ১২০ ফিট দৈর্ঘ্যের কালভার্টের চলমান নির্মাণ কাজ প্রত্যক্ষ করেন। জাইকা ও সিটি কর্পোরেশনের অর্থায়নে এই পিসি রোডের উন্নয়ন কাজ চলছে। তিন লটে ভাগ হওয়া এই পুরো পিসি রোডের উন্নয় কাজ করছে রানা বিল্ডার্স ও তাহের এন্ড ব্রাদার্স। প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন তাহের এন্ড ব্রাদার্সের কাজের অগ্রগতিতে সন্তোষ ও রানা বিল্ডার্স এর কাজের ধীর গতিতে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেন। যে তিন লটে চলমান উন্নয় কাজ চলছে সেই স্থানগুলো হলো নীমতলা হতে তাসফিয়া মোড়, তাসফিয়া মোড় হতে কলকা মোড়, কলকা হতে সাগরিকা। জাইকার সূত্রে জানা যায়, এই পুরা পিসি ােডের উন্নয়ণ কাজে মোট ১৬৮ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। ফেব্রæয়ারিতে এর কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। বৃষ্টি না হলে নভেম্বরের মধ্যে ৭০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হবে বলে প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন আশা প্রকাশ করেন।
পরিদর্শন কালে প্রশাসক সড়কটির বিভিন্ন স্পটে হেটে উন্নয়ন কাজ, বর্তমান অবস্থা প্রত্যক্ষ্য করেন ও জনগণের সাথে কথা বলেন। এই সময় নয়াবাজার বিশ্বরোড এলাকার স্থানীয় দুই বাসিন্দা মনজুরুল আলম ও মো. ইলিয়াছ দীর্ঘ ৪ বছর যাবৎ সড়কটি ভাঙা থাকায় তাদের দুর্গতির কথা প্রশাসককে জানালে তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, এই সড়কের কাজ একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ঠিকভাবে করলেও অন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ করছে ঢিমেতালে। তাকে সতর্ক করছি। এখন কথা না শুনলে নগরবাসীকে নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তুলবো।
তিনি বলেন, নগরীর ৬০ লাখ অধীবাসীর দৃষ্টি এই পিসি রোডের দিকে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শেষ করতে আমি সবধরনের সহযোগীতা করতে প্রস্তুুত। তিনি ঠিকাদারদের প্রতি আহŸান জানিয়ে বলেন, আমাকে জনগণের কাঠ গড়ায় দাড় করাবেন না। পরিদর্শনকালে সড়কের বেশ কিছু স্থানে গর্ত থাকায় তা মেকাডাম দিয়ে ভরাট করে গাড়ি চলালের উপযোগী ও ধুলা উড়তে দেখে পানি ছিটাতে ঠিকাদারের লোকজনদের নির্দেশ দেন প্রশাসক। তখন সড়কে সড়কে বেশ কিছু চলমান কন্টেইনারবাহী লরী থামিয়ে চালকদের কাছে কন্টেইনার ও গাড়ির ওজন কত জানতে চান?
প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন বলেন, সাময়িক দায়িত্ব পেয়েও আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি নগরীকে পরিচ্ছন্ন ও মানবিক শহরে পরিণত করতে। তিনি আরো বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর, রেলওয়ে, ইপিজেড, বিজিএমইএ, বেসরকারি রি-রোলিং স্টিল মিলসহ যারা ব্যবসার প্রয়োজনে আমাদের এই বন্দর নগরীর সড়কগুলো ব্যবহার করছেন তাদের কাছে আমি ১ শতাংশ সার্ভিস চার্জ চেয়েছি। যাতে নগরীর সড়কগুলো টেকসই করে নির্মাণ করতে পারি। কর্পোরেশন বেসরকারি খাতে নগরবাসীর ওপর করের বোঝা চাপাতে চায় না। সরকারি প্রতিষ্ঠান যারা নগরীর সুবিধা ভোগী তারা ১ শতাংশ সার্ভিস চার্জ দিলে নগরীর অবকাঠামোগত উন্নয়নে দৃশ্যমান পরিবর্তন আসবে। প্রশাসক নগরীর ৬০ লাখ অধীবাসীকে সার্ভিস চার্জের বিষয়ে তার সাথে আওয়াজ তুলতে বলেন।

Leave a Reply