চমেক হাসপাতালে জনবল নিয়োগে যথ অনিয়ম।

0
20
চমেক হাসপাতালে জনবল নিয়োগে যথ অনিয়ম।
মোঃ সিরাজুল মনির ব‍্যুরো প্রধান চট্টগ্রাম।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে জনবল নিয়োগ শুরু হয় ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে। দরপত্র বিজ্ঞপ্তিতে ওই সময়ে ছিল না কোন শর্তই। নতুন হিসেবে ওই সময়ে দরপত্রপ্রাপ্ত হয় শাপলা ও জমজম এন্টারপ্রাইজ নামে দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। অথচ ঠিক পরবর্তী ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে এসে অভিজ্ঞতার ‘শর্ত’ জুড়ে দেয়া হয়। এতে আলোচ্য দুটি প্রতিষ্ঠান ছাড়া অংশগ্রহণের সুযোগই পায়নি অন্য কোনো ঠিকাদার। এমন সুযোগে ২০১৭ সাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত জনবল সরবরাহ করে আসছে এ দুটি প্রতিষ্ঠান।

এ যেমন চলতি বছরে এপ্রিল মাসে দরপত্র আহ্বান করে প্রকাশ করা হয় একটি বিজ্ঞপ্তি। তাতে দরপত্রদাতার যোগ্যতা প্রসঙ্গে ৮শ’ থেকে ১ হাজার শয্যার টারশিয়ারি লেভেল হাসপাতালে তিন বছর সংশ্লিষ্ট মালামাল সরবরাহের শর্ত আরোপ করা হয়। যদিও দেশের প্রথম সারির আটটি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের কোনটিতেই নজির নেই এমন শর্তের।

মূলত ৮শ’ থেকে ১ হাজার শয্যার আর কোন হাসপাতাল চট্টগ্রামে না থাকায় সব টেন্ডারেই চলে যায় এককেন্দ্রিক সিন্ডিকেটের কাছে। দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদকের অনুসন্ধানেই পাওয়া গেল এমন চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। সংশ্লিষ্টদের মতে, মূলত ‘শর্ত’ দিয়েই আউটসোসিয়েং টেন্ডার নিজেদের কব্জায় রাখতে এমন কৌশল।

দুদকের অনুসন্ধান সূত্রে জানা যায়, গেল এক যুগ ধরে এমন কিছু ‘শর্ত’ জুড়ে দিয়ে নির্দিষ্ট সিন্ডিকেট প্রতি বছর কাজ পেয়ে আসছে। এসব কৌশল অবলম্বনের পেছনে জড়িত আছেন স্বয়ং হাসপাতালের টেন্ডার শাখাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। যাদের বিষয়ে ইতোমধ্যে তথ্য সংগ্রহ করেছে সংস্থাটি। ইতোমধ্যে হাসপাতালে দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে নিয়মিত সরবরাহ করা ৯ ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক। এরমধ্যে চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। দুদকের উপ-সহকারী পরিচালক মো. শরীফ উদ্দিনের নেতৃত্বে একটি টিম পৃথকভাবে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে। তার আগে গত সোমবার জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় আরও পাঁচ ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের মালিককে। যাদের কাছ থেকে পাওয়া গেছে এমন অনিয়মের বেশ তথ্যও।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুদকের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘সব ঠিকাদারেরই আছে একটি সিন্ডিকেট। যারা নিজেদের মধ্যেই আগে থেকে কাজ ভাগাভাগি করে নেন। এরপর তারা টেন্ডার ড্রপ করে থাকেন। মূলত দরপত্রে এমন কিছু শর্ত তারা দিয়ে দেন, যাতে নির্দিষ্ট এসব ঠিকাদার ছাড়া অন্যকোনো প্রতিষ্ঠানের টেন্ডার পাওয়ার সুযোগ থাকে না। মূলত হাসপাতালের একটি চক্র এমন অনৈতিক কাজে জড়িত আছেন। ইতোমধ্যে তাদের বিষয়ে খোঁজ নেয়া হচ্ছে। তাদেরকেও এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।’

এদিকে, জিজ্ঞাসাবাদ করা চার ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান মালিকদের কাছ থেকে নতুন কিছু তথ্য পাওয়া গেছে জানিয়ে দুদকের এ কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘জিসান এন্টারপ্রাইজ, মেসার্স ফেরদৌস ট্রেডার্স, আলী এসোসিয়েট ও মেসার্স মুনিরিয়া ফুড প্রোডাক্টস নামে চার প্রতিষ্ঠানের মালিককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। এরমধ্যে আলী এসোসিয়েট ও মুনিরিয়া ফুড প্রোডাক্টসের মালিক একই ব্যক্তি। তারা নিয়মিতভাবেই হাসপাতালে মালামাল সরবরাহ করে আসছেন। তাদের থেকে পাওয়া তথ্যগুলোও যাচাই-বাছাই করা হবে। যাদের নাম পাওয়া যাচ্ছে, তাদেরকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানান তিনি।

Leave a Reply