পাবনার ভাঙ্গুড়ায় খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল আত্মসাৎ করার অভিযোগ।

0
28

পাবনাঃ- পাবনা ভাঙ্গুড়া উপজেলার সদর ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নং ওয়াডের ইউপি সদস্য মোঃ জাহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে দামী কার্ড বানানোর কথা বলে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল আত্মসাত করার অভিযোগ উঠেছে।

এই ঘটনায় ভুক্তভোগীর ছেলে আলতাব হোসেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
ঘটনার পর থেকে এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, ভাঙ্গুড়া ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নং ওয়ার্ড কৈডাঙ্গা গ্রামের মৃত আমজাদ খাঁর স্ত্রী মোছাঃ আলেয়া খাতুন(৬০) ইউপি সদস্য মোঃ জাহিদুল ইসলামের কাছে জমা দেন।

জাহিদুল ইসলাম তাদের না জানিয়ে তাদের নামে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির কার্ড ইস্যু করেন। ইউপি সদস্য ডিলারের সঙ্গে যোগসাজসে দীর্ঘ তিন বছর ধরে তাদের কার্ডের চাল উত্তোলন করে আত্মসাৎ করে আসছেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, পরে তারা ইউনিয়ন পরিষদে খোঁজ নিয়ে ইউপি সদস্যের চাল আত্মসাতের বিষয়টি নিশ্চিত হন।

ইউনিয়ন পরিষদ থেকে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির তালিকায় নাম দেখে তারা তাদের নামের চাল উত্তোলনের জন্য ডিলারের কাছে যান। সেখানে গিয়েও তারা তালিকায় তাদের নাম দেখতে পান। কিন্তু এ নামের চাল উত্তোলন করে নেওয়া হয়েছে বলে ডিলার তাদেরকে জানান।

এবিষয়ে অভিযোগকারী মোঃ আলতাব হোসেন বিষয়টি সংবাদ কর্মীদের জানালে ইউপি সদস্য জাহিদুল ইসলাম আলতাবকে মুঠো ফোনে বিভিন্ন ভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে বলেন, “কার্ড নিয়ে চাউল উত্তোলন করেছি তাতে কি হয়েছে। তুই সাংবাদিকদের বলে ভাল করিস নাই। গ্রামে বসবাস করতে হবে কথাটা মনে রাখিস”।

ভুক্তভোগীর ছেলে আলতাব হোসেন বলেন, আমরা ডিলারের কাছে চাল আনতে যাই। ডিলার আমাদের বলে আপনাদের নামের চাল উত্তোলন করে নিয়ে গেছে। এজন্য আমি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছি।

ইউপি সদস্য জাহিদুল ইসলাম অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, কার্ড নিয়ে চাল উত্তোলন করে অন্য একজনকে দিয়েছি তবে কার্ড ফেরত দেওয়ার সময় তার কাছে আমি ক্ষমা চেয়ে নিয়েছি।

খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ডিলার ইমন বলেন, আমি চাল বিতরণ করেছি। তবে কে কে চাল নিয়েছে আমি দেখিনি। বঞ্চিতরা আমার কাছে এসেছিল।

ভাঙ্গুড়া ইউপি চেয়ারম্যান বেলাল হোসেন খান বলেন, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চালের সম্পূর্ণ দায়-দায়িত্ব ডিলারের ও মেম্বরের এখানে চেয়ারম্যানের কী করার আছে?

ভাঙ্গুড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ আশরাফুজ্জামান অভিযোগ প্রাপ্তি স্বীকার করে বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply