অ্যাডভেঞ্চার প্রেমীদের জন্য বাদুড় গুহা, চট্টগ্রাম

0
43
বাদুড় গুহার যাত্রায় রয়েছে এমন উঁচু নিচু নানান পথের; ছবি : সংগৃহীত

অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমীদের জন্য বাদুড় গুহা, চট্টগ্রাম

চট্টগ্রামের পদুয়া ইউনিয়নের পটিয়ায় বাদুড় গুহা অবস্থিত

অ্যাডভেঞ্চার প্রেমীদের জন্য বাদুড় গুহা, চট্টগ্রাম
বাদুড় গুহার যাত্রায় রয়েছে এমন উঁচু নিচু নানান পথের; ছবি : সংগৃহীত

সমুদ্র পাহাড় বেষ্টিত চট্টগ্রামের বিভিন্ন জায়গা অ্যাডভেঞ্চার এবং ভ্রমণপিপাসু পর্যটকদের কাছে বেশ উপভোগ্য। এই উপভোগ্যতার পালে নতুন হাওয়া দিতে যোগ হয়েছে বন্দর নগরীর রঙ্গুনিয়া উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের পটিয়ার সীমান্তবর্তী গহীন অরণ্যে দুর্গম পাহাড়ি এলাকার সদ্য আবিষ্কৃত গা ছমছমে একটি সুড়ঙ্গ। স্থানীয় লোকজনের কাছে এটি ‘বাদুড় গুহা’ নামে পরিচিত।

জানা যায়, স্থানীয়রা গুহা সংলগ্ন বন থেকে কাঠ কাঁটার জন্য গেলে এই প্রাচীন গুহামুখ দেখতে পায়। ধারণা করা হয়, প্রায় ১৫০ বছর আগের এই গুহা তৈরি হয়েছিল আরকান রাজার যুদ্ধবিগ্রহের রহস্যজনক নিরাপত্তার সুড়ঙ্গ হিসেবে। তবে, অনেকে বিশ্বাস করেন প্রাকৃতিকভাবেই সৃষ্ট এই গুহা।

একসময় এই গুহাতে বাস করত প্রচুরসংখ্যক বাদুড় যার কিছুর হদিস এখনও পাওয়া যায় আর এই গুহামুখ পর্যন্ত পাহাড়ি রাস্তায় দেখা মিলত হিংস্র জীবজন্তু এবং বন্য হাতির। এখন অবশ্য জীবজন্তুর ভয় কমে গেলেও অ্যাডভেঞ্চারে পাহাড়ি রাস্তায় হেঁটে চলা নিতান্ত কম কিছু নয়।

বাদুড় গুহায় একটি অ্যাডভেঞ্চারের জন্য, পাহাড় বেয়ে বেশ খানিকটা ওপরে উঠতে হবে। মূল গুহাটি ছাড়াও এই পাহাড়ের তিন ধাপে আরও তিনটি গুহা বা সুড়ঙ্গ রয়েছে। প্রধান গুহার দৈর্ঘ্য অর্ধ কিলোমিটার এবং এর মুখ বেশ সরু হলেও ভেতরটা তুলনামূলক খোলামেলা। গুহার শেষ অবধি আবার সরু এবং একই পথে বের হতে হয়। ভেতরে যাত্রার শুরুতেই সামান্য পানি পেরিয়ে যেতে হবে। মশাল হাতে অচিন এই গুহার রাজ্যে পা ফেলা বেশ একটা অ্যাডভেঞ্চারের মতই বোধ হবে।

যেভাবে যেতে হবে বাদুড় গুহায়

বন্দর নগরী চট্টগ্রাম থেকে কাপ্তাইয়ের দিকে ৪৫ কিলোমিটার পর্যন্ত গেলেই দেখা মিলবে সদ্য আবিষ্কৃত এই বাদুড় গুহার। আবার রঙ্গুনিয়া উপজেলা থেকে গোডাউন সরফভাটা কালিন্দি রানি সড়ক হয়ে যেতে পাড়ি দিতে হবে প্রায় ২০ কিলোমিটার পথ। স্থানীয় লোকালয় থেকে মাত্র ৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই গুহা। এর মধ্যে সড়কপথে যানবাহন ব্যবহার করে যাওয়া যায় পদুয়া ইউনিয়নের রাজার হাটের আগে পেকুয়াপাড়া পর্যন্ত।

এপথে দেড় কিলোমিটার হাঁটাপথে এগিয়ে উঁচু পাহাড় পার করে ‘ভান্ডালজুড়ি ছড়া’ ধরে পাহাড়ি উঁচুনিচু রাস্তা আর ছড়া পেরিয়ে পৌঁছতে হয় বাদুড় গুহায়। এই হাঁটাপথের দৈর্ঘ্য প্রায় ৫ কিলোমিটার। গুহায় প্রবেশের আগে পাহাড়ের খাদ বেয়ে বেশ কিছুটা নিচের দিকে নামতে হয় বলে গুহা অবধি যাত্রা বেশ ঝুঁকিপূর্ণও বলা যায়। গুহা অবধি গেলে দেখা মিলবে বেশ কিছু বাদুড়ের।

যা মনে রাখা উচিত

পাহাড়ি রাস্তা, খাদ এবং বেশ খানিকটা হাঁটাপথ রয়েছে বিধায় শারীরিকভাবে সক্ষম পর্যটকদেরই বাদুড় গুহার অ্যাডভেঞ্চারে অংশ নেয়া উচিত। জনমানবশূন্য এই জংলা পাহাড়ে যাবার সময় স্থানীয়দের সাহায্য নিয়ে যাওয়াই ভাল। এছাড়া বর্ষাকালে পাহাড়ে চলাচলে অসুবিধা হয় এবং নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে শুকনো মৌসুমে বাদুড় গুহায় যাওয়া উচিত।

বি:দ্র: যেকোনো জায়গায় গেলে সেখানকার পরিবেশ দূষিত হয় এমন কাজ থেকে বিরত থাকা এবং স্থানীয়দের প্রতি সদয় হওয়া আমাদের দায়িত্ব।


তথ্যসূত্র:
১। www.prothomalo.com

২। www.travelbd.xyz

Leave a Reply