চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ-চাক্তাই এখন স্বরূপে ফিরছে।

0
16

চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ-চাক্তাই এখন স্বরূপে ফিরছে।

মোঃ সিরাজুল মনির, চট্টগ্রাম:-

চট্টগ্রামের চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ করোনো আতঙ্ক-শঙ্কা কাটিয়ে ব্যবসায় ফিরছে দেশের ভোগ্যপণ্যের বড় বাজার চাক্তাই-খাতুনগঞ্জে। এক সপ্তাহ ধরে বেচাকেনা ভালো হচ্ছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা। অনেকটা পূর্বের অবস্থায় ফিরছে বলে জানান তারা। ভোগ্যপণ্যের যোগান বাড়ায় কমছে পণ্যের দামও। তবে তেলের দাম পাগলা ঘোড়ার মতো লাফিয়ে চলেছে।

খাতুনগঞ্জ ট্রেড এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সাধারণ সম্পাদক ছৈয়দ ছগীর আহমদ বলেন, ‘দীর্ঘদিন পর আতঙ্ক কাটিয়ে চাঙা হচ্ছে চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ। ব্যবসা-বাণিজ্যের গতি আগের চেয়ে অনেকটা বেড়েছে। বেড়েছে ভোগ্যপণ্যের আমদানিও।’ গতকাল দেখা যায়, স্বাভাবিক সময়ে মতো অসহনীয় যানজট, শত শত শ্রমিক-বণিক, ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান ও ঠেলা-ভ্যানগাড়িতে পণ্য উঠানো-নামানোর ব্যস্ততা ছিল। প্রতিটি দোকানে ক্রেতাদের ভিড়ও দেখা গেছে।

চাক্তাই আড়তদার ও ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘৩-৪ মাস ধরে ব্যবসা-বাণিজ্য অনেকটা স্থিমিত ছিল। মধ্যসারির ব্যবসায়ীরা ক্রমাগত লোকসান দিয়েছেন। এখন কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছে। এক সপ্তাহ ধরে বেচাকেনা অনেকটা বেড়েছে।’ খাদ্যপণ্যের আমদানি ও মজুদ কয়েক গুণ বেড়েছে। ভোগ্যপণ্যের জোগান বাড়ায় কমতে শুরু করেছে পণ্যের দামও।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, আমদানি করা ছোলা মণপ্রতি ২৫শ টাকা থেকে কমে বিক্রি হচ্ছে ২২৫০ টাকা, মসুর ডাল ২২শ টাকা থেকে কমে বিক্রি হচ্ছে ২১৫০ টাকা, মটর ডাল কেজিতে ৩৪ টাকা থেকে কমে ৩২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

তবে ভোজ্যতেলের দাম দ্ধুসঢ়;ই মাস ধরে উত্থান-পতনে রয়েছে। চলতি সপ্তাহে সয়াবিন তেলের দাম মনপ্রতি একশ টাকা বেড়েছে। গতকাল বিক্রি হয়েছে ৩৬৬০ টাকা দরে। পাম অয়েলও ৩১৫০ টাকা থেকে বেড়ে বিক্রি হয়েছে ৩২৬০ টাকা দরে। চিনির দামও মণপ্রতি ২১১০ টাকা থেকে বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ২১৫০ টাকা দরে।

চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ আড়তদার ও ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. মহিউদ্দিন বলেন, ‘করোনাভাইরাসের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা-বাণিজ্যের গতি মন্থর ছিল। এখন একটু চাঙা হয়েছে। বেচাকেনা স্বাভাবিক হচ্ছে। অর্থনীতির গতি ফিরছে। পাইকারি মোকামে ভোগ্যপণ্যের মজুদও অনেকটা বেড়েছে। কমছে পণ্যের দামও।

দেখা যায়, চাক্তাই-খাতুনগঞ্জে ট্রাক-কাভার্ডভ্যানের যানজট আশপাশ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। প্রতিটি ট্রাক-কাভার্ডভ্যানে ছিল ভোগ্যপণ্য। এছাড়াও বিপুল পরিমাণ পেঁয়াজ, রসুনও আমদানি হয়েছে। করোনাসংক্রমণের কারণে ৪-৫ মাস ধরে ব্যবসা-বাণিজ্যের গতি স্থিমিত ছিল। বিশেষ করে মসলাজাতীয় পণ্যের ব্যবসায়ীরা বড় ক্ষতির মুখে পড়েছেন। গুনেছেন লোকসানও।

পাইকারি মোকামে গত সপ্তাহের তুলনায় পেঁয়াজের বাজারও এখন নিম্নমুখী। ভারত সরকার পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ ঘোষণার পর বিভিন্ন দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি বেড়ে যাওয়ায় পাইকারি বাজারে দামও কিছুটা কম। খাতুনগঞ্জের আড়তদার মো. জাবেদ ইকবাল বলেন, বাজারে প্রচুর পেঁয়াজ রয়েছে। বিভিন্ন দামে বিক্রি হচ্ছে। দাম কমায় বেচাকেনায় ভালো হচ্ছে।

তিনি বলেন, গতকাল মিয়ানমারের আমদানি করা ভালোমানের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে কেজিতে ৫০ টাকা দরে। আর নিম্ম মানের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ২০-৩০ টাকা দরে। দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৭০-৭২ টাকায়। তুর্কি পেঁয়াজ ৫০-৫৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। মিশর, চায়না ও তুরস্কের ভালোমানের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে কেজিতে ৪৫ টাকা দরে। আর মধ্য-নি¤œমানের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ২০-৩০ টাকা দরে।

আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীরা জানান, আমদানি করা পেঁয়াজের মধ্যে মিয়ানমারের পেঁয়াজের মান খারাপ পড়ছে। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কন্টেইনারে দীর্ঘদিন থাকার কারণে ঠাণ্ডায় বীজ গজে যাচ্ছে বলে জানান তারা। এতে লোকসান গুনতে হচ্ছে তাদের।

Leave a Reply