চট্টগ্রামে মানছেনা মাস্ক পরিধান করার বাধ্যবাধকতা।

0
16
চট্টগ্রামে মানছেনা মাস্ক পরিধান করার বাধ্যবাধকতা।
মোঃ সিরাজুল মনির, চট্টগ্রাম :-

করোনাভাইরাসের সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ সামলাতে দোকানপাট, মার্কেট ও বিপণিবিতানসমূহে মাস্ক ছাড়া ক্রেতা-বিক্রেতাদের প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ করেছে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি। এসময় মাস্ক ছাড়া মার্কেটে গেলে কোনো ধরনের সেবা দেওয়া হবে না বলেও জানিয়েছিল সংগঠনটি। তবে চট্টগ্রামের কোনো মাকের্ট ও দোকানপাট মানছে না এ নিষেধাজ্ঞা।

গুটিকয়েক মার্কেটে হ্যান্ড স্যানিটাইজার নিয়ে মূল ফটকে লোক দেখানো সিকিউরিটি গার্ড দিয়ে থাকলেও সেসবে কারো গরজ নেই। যে যার মত মাস্ক ছাড়া ঢুকছে আর বের হচ্ছে। শুধু কি তাই? মাস্ক ছাড়া যেখানে বেচাকেনা নিষিদ্ধ সেখানে দোকানদাররা দেদারসে বিক্রি করছেন মাস্কহীন এসবক্রেতাদের কাছে।

দোকানদারগণ আরও এক কদম এগিয়ে নিয়ম না মানার ক্ষেত্রে। তারা নিজেরাও পড়ছেন না মাস্ক, ব্যবহার করছেন না স্যানিটাইজার। ফলে করোনা সংক্রমণের মাত্রা আরো বেড়ে, বড় রকমের ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

আজ সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত চট্টগ্রাম মহানগরীর বহদ্দারহাট বাজার, নিউমার্কেট, রিয়াজউদ্দীন বাজার, ইউনুস্কো সিটি সেন্টার, সেন্ট্রাল প্লাজা ও স্যানমার শপিং মলসহ নগরীর বেশ কয়েকটি মার্কেট সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে মাস্ক পড়ার প্রবণতা নেই অধিকাংশ ক্রেতা-বিক্রেতার। দোকানের বিকিনিকিকে প্রাধান্য দিতে গিয়ে বিক্রেতারা মানছে না বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির নিষেধাজ্ঞা। অন্যদিকে ক্রেতাদের আচরণ ও চলন দেখে বোঝার উপায় নেই করোনা ভাইরাসের প্রকোপ এখনো কাটেনি। শুরু হচ্ছে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ।

রিয়াজউদ্দীন বাজার এলাকার কাপড়ের দোকান রহমানিয়ার দোকানির মুখে মাস্ক ছিল না। করোনার প্রকোপের কথা তার কাছে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, ‘করোনার কারণে দীর্ঘদিন ব্যবসা বন্ধ ছিলো। এখন লোকসান দিয়ে ব্যবসা করছি। এরমধ্যে মাস্ক-টাস্কের খবর থাকে না।

আক্রান্ত হলে নিজের ও নিজের পরিবারের ক্ষতি প্রসঙ্গে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, ‘মাস্ক পড়ি। বাইরে বের হলে মাস্ক পড়েই বের হই। তবে সবসময় মাস্ক পড়ে বসে থাকা সম্ভব না। এরপরেও যতটুকু সচেতন থাকা যায়, থাকি।

নিউমার্কেটের চিত্রও একই রকম। হাতেগোনা কয়েকজনের মুখে মাস্ক থাকলেও অধিকাংশ ক্রেতা-বিক্রেতারা করোনা সংক্রমণের বিষয়ে উদাসীন। এ বিষয়ে কথা বলা হয় বিপনি বিতান মার্চেন্টস্ ওয়েলফেয়ার কমিটির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ খুরশিদ আলমের সাথে।

তিনি বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির নিষেধাজ্ঞা পেয়েছি। আজকে (সোমবার) পুরো মার্কেটে মাইকিংয়ের ব্যবস্থা করেছি এবং সকল সিকিউরিটি ও দোকানদারদের বলেছি। আজ থেকে মাস্ক ছাড়া কাউকে কোনো প্রকার সেবা দেয়া হবে না। আর সিকিউরিটিরা মাস্ক ছাড়া কাউকে মার্কেটে ঢুকতে দিবে না।

সেন্ট্রাল প্লাজা ব্যবসায়ী সমিতির নেতারাও একইভাবে মঙ্গলবার থেকে নিষেধাজ্ঞা মানার প্রতিশ্রুতি দেয়। কিন্তু ক্রেতাদের গাফেলতি ও দোকানিদের উদাসীনতার নজির মিলে ইউনুস্কো সিটি সেন্টার স্যানমার শপিং মলে। এ দুই শপিং মলে ঢুকতে দেখা যায়, মার্কেটের নিরাপত্তাকর্মীরা সবাইকে জীবাণুমুক্তকরণের পানি দিয়ে হাত পরিষ্কার করে দিচ্ছে। কিন্তু অধিকাংশ ক্রেতারা মাস্ক ছাড়া শপিং মলে প্রবেশ করছে। একইভাবে দোকানিরাও পণ্য বিক্রি করতে কোনো প্রকার দ্বিধা রাখছে না।

এ প্রসঙ্গে ইউনুস্কো সিটি সেন্টার সপ ওনার্স এসোসিয়েশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. জোনায়েদ ও স্যানমার শপিং মলের মহাব্যবস্থাপক মো. জসীম উদ্দীন একই কথা বলেন। তারা জানান, করোনার প্রকোপ আসার পর থেকে দীর্ঘদিন মার্কেট বন্ধ ছিলো। তবে গত ৭ জুন থেকে মার্কেট চালু করা হলেও মার্কেটে মাস্ক বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কিন্তু ক্রেতারা এ নীতিমালা অনুসরণ করছে না। ফলে বিব্রতকর অবস্থায় পড়ছেন দোকানিরা। তবে আগামী থেকে এ নীতিমালা কার্যকরে আরো কঠোর হবেন বলে জানান।

এ প্রসঙ্গে জনস্বাস্থ্য অধিকার রক্ষা কমিটির সভাপতি ও মুক্তিযোদ্ধা ডা. মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘সামনের সময় আরো কঠিন হতে পারে। এমনিতে শীতে নিউমোনিয়া সহ ঠাণ্ডাজনিত রোগ বেশি হয়। এর মধ্যে গবেষকরা বলছেন, শীতে করোনার প্রকোপ বাড়বে। তাই সবাইকে নিজ প্রয়োজনে স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে। কারণ সরকারি পর্যায় থেকে জানানো হচ্ছে, দেশে আর লকডাউন হবে না। তাই নিজেকে সুস্থ রাখতে হবে, নিজ পরিবারকে সুস্থ রাখতে হবে। তাই শুধু মার্কেটে নয়, সকল কাজে সকল জায়গায় মাস্ক পড়তে হবে।’
প্রসঙ্গত, ‘মাস্ক নেই, সেবা নেই’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে রোববার (১ নভেম্বর) থেকে দোকানপাট, মার্কেট ও বিপণিবিতানসমূহে মাস্ক ছাড়া ক্রেতা-বিক্রেতাদের প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ করেছে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি।

এরআগে রোববার (১ নভেম্বর) সকালে বঙ্গবন্ধু জাতীয় যুব দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠান উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বর্তমানে আবারও বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসের একটা প্রাদুর্ভাব ব্যাপকভাবে দেখা দিচ্ছে। ইংল্যান্ড থেকে শুরু করে ইউরোপের বিভিন্ন দেশ লকডাউন ঘোষণা দিয়েছে। আমাদের সবাইকে সুরক্ষিত থাকতে হবে। যেকোনো কাজে সবাই মাস্ক ব্যবহার করবেন। আমি হয়তো মাস্ক ছাড়া বক্তব্য দিচ্ছি, কারণ আমার আশপাশে কেউ নেই। সবাই দূরে। সারাক্ষণ পরে থাকতে হবে তা নয়, কিন্তু যখন কারো সয্গে মিশবেন বা কোনো জনসমাগম বা মার্কেটে যাবেন তখন অবশ্যই মাস্ক পরে নিজেকে সুরক্ষিত করবেন এবং অপরকেও সুরক্ষিত করবেন।

Leave a Reply