চট্টগ্রাম বন্দর এবং চট্টগ্রাম দুটোর উন্নয়ন একসঙ্গে হতে হবে।

0
12
চট্টগ্রাম বন্দর এবং চট্টগ্রাম দুটোর উন্নয়ন একসঙ্গে হতে হবে।
মোঃ সিরাজুল মনির চট্টগ্রাম ব‍্যুরো।

চট্টগ্রাম বন্দর এবং চট্টগ্রাম, দুটোর উন্নয়নই একসাথে করতে হবে। শুধু বন্দরের সক্ষমতা বাড়ালে হবে না। বরং চট্টগ্রামের অবকাঠামোগত উন্নয়নও করতে হবে সমানতালে। এক্ষত্রে বন্দরে পণ্য আনা নেয়ার পথ তথা চট্টগ্রামের রাস্তাঘাট ব্যবহারে উপযোগী না থাকলে বন্দর উন্নয়নের পুরোপুরি সুফল পাওয়া যাবে না। এছাড়া বন্দরের প্রাণ কর্ণফুলী রক্ষায়ও সমান মনোযোগ দিতে হবে।
চট্টগ্রাম বন্দর উন্নয়ন ও গবেষণা পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। গতকাল সকাল ১০ টায় আন্দরকিল্লাহস্থ চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের আবদুস সাত্তার মিলনায়তনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সাবেক সদস্য (প্রকৌশল) কমোডোর (অব:) জোবায়ের আহমদকে সংগঠনের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। কমোডোর (অব:) জোবায়ের আহমদ বলেন, আমাদের পরিষদ সরকারের বিপক্ষে না, বরং সরকারকে সহায়তা করার জন্য কাজ করবে। বন্দরকে সহায়তা করবে এবং দিকনির্দেশনা দিবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিকতার অভাব নাই। কিন্ত প্রধানমন্ত্রীকে সঠিক জিনিসগুলো সঠিক সময়ে সঠিকভাবে জানানোর অভাব আছে। আশেপাশে যারা লোক আছেন তারা আমরা যা বলতে চাচ্ছি তা অন্যভাবে উপস্থাপন করেন। এ উপস্থাপনের ফলে যে কাজগুলো আমরা দেশের জন্য অত্যন্ত সঠিকভাবে করতে চাচ্ছি তা হয় না। এ বিষয়ে আমরা আমাদের পরিষদ থেকে কার্যকর ভূমিকা রাখার চেষ্টা করবো।
তিনি আরো বলেন, প্রত্যেকটা সরকার চায় বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে। এখানে কতিপয় দুর্নীতিবাজ বাঁধা হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু ঢালাওভাবে দুর্নীতিবাজ বলা যাবে না। কারণ সরকার কখনো দুর্নীতিবাজ হয় না। দেশকে এগিয়ে নেয়ার জন্য সরকারের নির্দিষ্ট ‘গোল’ থাকে। সরকারের ভেতরের কিছু দুর্নীতিবাজ বা তাদের আইডোলজি এগিয়ে যাওয়ার ধারাকে স্তব্ধ করে দেয়। যার কারণে দুর্নীতিটা প্রাধান্য পেয়ে যায়। এসব দুর্নীতিবাজের সংখ্যা ১০ থেকে ১৫ পারসেন্ট। এরাই বাকিদের ‘ইনফ্লুয়েন্স’ করে। আমাদের খুঁজে বের করতে হবে এরা কারা। আমাদের ‘ওয়াচ ডগ’ হিসেবে কাজ করতে হবে।
কমোডোর (অব:) জোবায়ের আহমদ আরো বলেন, প্রাক্তন যারা ফোরামে এসেছে তাদের যে অভিজ্ঞতা তা চট্টগ্রাম বন্দরের অনেকের নাই। বন্দরকে বুঝার জন্য যে সময় দরকার তার আগেই অনেকেই বদলি হয়ে যান। আবার বুঝার আগেই অনেক সিদ্ধান্ত তারা দিয়ে দেন। যেটা অনুকূল হয় না, বরং অনেক ক্ষেত্রে সরকারের বিরুদ্ধেও হয়ে যায়। এগুলোকে এড্রেস করার জন্যই আমাদের পরিষদ।
তিনি আরো বলেন, চাকরিতে থাকার সময় অনেক কিছু বলতে পারিনি। সেটা চাপে পড়ে হোক বা অন্য কারণে। এখন একটা ফ্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে বলতে পারবো, ওই সিদ্ধান্তটা ভুল ছিল। তিনি বলেন, আমরা রাজনৈতিক ফ্ল্যাটফর্ম থেকে না, নৈতিকতার ফ্ল্যাটফর্ম থেকে কাজ করবো। পরে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে জোবায়ের আহমদ বলেন, বন্দরে যারা আছেন তাদের অনেকে অভিজ্ঞ না। তারা হয়তো ডেপুটেশনে আসেন, বিভিন্ন রুটিন কাজ করেন এবং বিভিন্ন সিদ্ধান্ত দিয়ে দেন। আমাদের (বন্দর উন্নয়ন ও গবেষণা পরিষদ) সাথে যারা আছেন তারা বন্দরের অভিজ্ঞ কর্মকর্তা এবং তাদের সুনাম রয়েছে। আমরা খুঁজে বের করবো কোথাও ভুল হচ্ছে কী না। অতীতেও অনেক ভুল হয়েছে। যে ভুলগুলোর খেসারত দিতে হচ্ছে। তাই ভুলগুলো যাতে না হয় তার প্রচেষ্টা থাকবে। আমাদের কথা বলার একটাই উদ্দেশ্য, এক্সপার্ট ওপিনিয়ন দেয়া। বন্দরের সুবিধা মানে দেশের সুবিধা। কিছু অসাধু কর্মকর্তা আছে যাদের সংখ্যা খুব কম। এদের শনাক্তও করাও খুব সহজ।
সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সাবেক সদস্য (অর্থ) মোশারফ হোসেন, সংগঠনের সহ-সভাপতি ইব্রাহিম হোসেন বাবুল, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. মাহফুজুর রহমান খান, গবেষণা উন্নয়ন সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আবদুচ ছবুর, তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক সলিমুল্লাহ খান, সদস্য আতাউর রহমান খান, সিনিয়র সাংবাদিক এম নাসিরুল হক, জসিম চৌধুরী সবুজ, অধ্যাপক ইদ্রিছ আলী, মুক্তিযোদ্ধা ডা. মাহফুজুর রহমান, কালাম চৌধুরী।
আতাউর রহমান খান বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর এবং চট্টগ্রাম, একটার সাথে আরেকটা কো-রিলেটেড। যমজের মতো। একটা থেকে আরেকটা বিচ্ছিন্ন করা যাবে না। দুটোর উন্নয়ন একসাথেই করতে হবে। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা ১০ কোটিকে ৩০ কোটিতে উন্নীত করলাম। কিন্ত এই ৩০ কোটি নেয়ার জন্য যে ইনফ্রাসটাকচার দরকার সেটা না করলে তো হবে না। টার্মিনাল বাড়ালাম কিন্তু কন্টেনার আনা-নেয়ার জন্য ইনফ্রাসটাকচার না থাকলে কন্টেনারের জট পড়ে থাকবে।
নগরের জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল পরিষ্কারের উপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, খাল, নালার গভীরতা যদি আগের জায়গায় ফিরিয়ে আনা যায় তাহলে জলাবদ্ধতা হবে না। সেটা চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলতে পারি। কিন্তু শুধু রাস্তা উঁচু করতে গিয়ে আশেপাশের ভবন নিচে চলে যাচ্ছে।
ইব্রাহিম হোসেন বাবুল বলেন, কর্ণফুলী ভরাট হয়ে যাচ্ছে। প্রশস্ততা কমে যাচ্ছে। কর্ণফুলীকে বাঁচাতে পারলেই আন্দোলন সফল হবে। ইদ্রিস আলী বলেন, কর্ণফুলীকে বাঁচাতে হবে। কর্ণফুলী বাঁচলে বন্দর, ইতিহাস ও ঐতিহ্য বাঁচবে।
জসীম উদ্দিন চৌধুরী সবুজ বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের টাকায় পায়রা বন্দর কেন হবে। চট্টগ্রামের একটি রাস্তার উন্নয়নে তাদের কোন ভূমিকা নাই। কর্ণফুলীর ড্রেজিংয়ের জন্য আবার প্রকল্প নেয়া হচ্ছে। এবার ব্যয় দ্বিগুন হচ্ছে। এখানেই প্রশ্ন, কর্ণফুলীতে পলিথিন আছে সেটা কি আগে জানত না।
এডভোকেট মো. মাহফুজুর রহমান খান বলেন, আমাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে বন্দর সংক্রান্ত গবেষণালব্ধ বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত দিয়ে বন্দর প্রশাসন অথবা সরকারকে বিভিন্ন পরামর্শ দেয়া। যাতে বন্দর কর্তৃপক্ষ বন্দরের উন্নয়নের গতি আরো ত্বরান্বিত করতে পারে এবং আমদানি ও রপ্তানি কন্টেনার, কার্গো হ্যান্ডেলিংয়ে খরচ কমিয়ে আনতে পারে। তিনি বলেন, বন্দরের উন্নয়ন, তথা অপারেশন এবং ব্যবস্থাপনার সুষ্ঠু পরিকল্পনা ও তা বাস্তবয়ান পরামর্শ দেয়া হবে। কর্ণফুলী নদীর নাব্যতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে খনন কাজ ও সংরক্ষণ, চট্টগ্রাম বন্দর ও শহরের যানবাহন চলাচলে শৃক্সখলা আনয়নের ক্ষেত্রে পরিষদ যথাযথ পরামর্শ প্রদান করবে।

Leave a Reply