পাবনার ভাঙ্গুড়ায় ডাক্তারদের অবহেলায় শিশুর মৃত্যু।

0
23

পাবনাঃ- পাবনার ভাঙ্গুড়ায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা না পেয়ে এক শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ করেছেন পরিবারের সদস্যরা।

রবিবার (০৮ নভেম্বর) সকাল ১১টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হাসান নামের শিশুটির মৃত্যু হয়।

শিশুটি ভাঙ্গুড়া পৌরসভার পাথরঘাটা পশ্চিম পাড়ার বাসিন্দা আমিনের ছেলে।

শিশুটির পরিবারের অভিযোগ, শনিবার (০৭ নভেম্বর) সন্ধ্যায় শিশু হাসানের প্রসাব বন্ধ হয়ে যায়।

পরের দিন রবিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ইমারজেন্সি বিভাগে শিশুটিকে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যায় তার পরিবারের লোকজন।

সেখানকার দায়িত্বে থাকা মেডিক্যাল অফিসার ডাক্তার সওগাত এহসান সাম্য মেডিক্যালে উপস্থিত না থাকায় প্যারামেডিক্যাল চিকিৎসক মাসুদ রানা শিশুটিকে বহির্বিভাগে পাঠিয়ে দেন।

বহির্বিভাগে টিকিট কাটতে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকলে শিশুটির অবস্থা আরো খারাপ হয়ে পড়ে।

এ অবস্থায় টিকিট কেটে শিশুটিকে বহির্বিভাগ থেকে আবার ইমারজেন্সিতে নিয়ে আসে।

এ সময় কর্তব্যরত ডাক্তার সওগাত এহসান সাম্য তখনও না আসায় এবং প্যারামেডিকেল চিকিৎসক মাসুদ রানা চিকিৎসা না দিয়ে শিশুটিকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে একটি চেম্বারে পল্লীচিকিৎসকের নিকট পাঠানো হয়।

ওই চিকিৎসক সেখানে প্রাথমিকি চিকিৎসা দিয়ে অক্সিজেন দিতে বলেন। কিন্তু তখনও মেডিক্যাল অফিসার সওগাত এহসান সাম্য মেডিক্যালে আসেননি, তাই শিশুটিকে ভর্তি না করা ও অক্সিজেন দিতে বিলম্ব করা হয়।

এভাবে প্রায় এক ঘন্টা যাবৎ হাসপাতালে ঘোরাঘুরির করেও শিশুটিকে ভর্তি করাতে পারেনি শিশুটির বাবা। কিছুক্ষণের মধ্যেই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেই শিশুটি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। তখন ঘড়ির কাটা ঠিক বেলা এগারোটা।

এ বিষয়ে প্যারামেডিক্যাল ডাক্তার মাসুদ রানা বলেন, শিশুটির অবস্থা এতটা খারাপ ছিল পরিবারের লোক আমাকে জানায়নি।

এদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে ডাক্তার সওগাত এহসান সাম্য দাবি করেন, তিনি হাসপাতালের ওয়ার্ডে পরিদর্শনে ছিলেন। তবে তার আসার আগেই শিশুটি মারা যান।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার হালিমা খানম বলেন, শুনেছি শিশুটিকে বাইরের কোনো ডাক্তারের কাছে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল। পরে ৯:৫৫ টার সময় আমাদের হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছিল। কিন্তু হাসপাতালে আসার পরপরই শিশুটি মারা যায়।

Leave a Reply