চট্টগ্রামের উত্তর কাট্টলী অগ্নিকান্ড নিয়ে কেজিসিডিএল পিডিবি মুখোমুখি।

0
17
চট্টগ্রামের উত্তর কাট্টলী অগ্নিকান্ড নিয়ে কেজিসিডিএল পিডিবি মুখোমুখি।
মোঃ সিরাজুল মনির, চট্টগ্রাম:-
চট্টগ্রামের উত্তর কাট্টলীর অগ্নিকাণ্ডে ৯ জনের দগ্ধ হওয়ার ঘটনাটি নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য পাওয়া গেছে। কেউ বলছেন, গ্যাস লাইনে বিস্ফোরণ, কেউ বলছেন বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট। তবে গ্যাস-বিদ্যুতের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেও তারা তাদের লাইনে কোন ত্রুটি পাননি বলে জানিয়েছেন। পরে ঘটনার বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বদিউল আলমকে আহবায়ক করে ৫ সদস্যের কমিটি গঠন করেন জেলা প্রশাসন। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন, পিডিবি খুলশী বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী কেনোয়ার হোসেন, সিএমপির পাহাড়তলী জোনের সহকারী কমিশনার মো. আরিফ হোসেন, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অথরাইজড অফিসার মো. ইলিয়াছ এবং চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্সের উপ-সহকারী পরিচালক আলী আকবর। আগামী ৭ দিনের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

প্রসঙ্গত, রোববার (৮ নভেম্বর) রাত পৌনে ১০টায় নগরীর আকবর শাহ থানাধীন উত্তর কাট্টলীর মুরাদ চৌধুরী বাড়ি এলাকার মরিয়ম ভবন নামের ছয় তলা ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ওই ঘটনা ঘটে। এতে ৯ জন দগ্ধ হয়। তন্মধ্যে চমেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পেয়ারা বেগম নামের ৬৫ বছর বয়সী এক মহিলার মৃত্যু হয়। মুমুর্ষু ৬জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় প্রেরণ করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উত্তর কাট্টলীর অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাস্থলটি পিডিবির পাহাড়তলী বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নিয়ন্ত্রণাধীন। অন্যদিকে জেলা প্রশাসনের গঠিত কমিটির সদস্য খুলশী বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী কেনোয়ার হোসেন বলেন, ‘ঘটনাটি আমার জুড়িডিকশনের মধ্যে নয়। ঘটনাটি সম্পর্কে আমি অবগতও নই। তারপরেও আমাকে জেলা প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে বলে শুনেছি।’
এরপর যোগাযোগ করা হলে দক্ষিণাঞ্চল পিডিবির প্রধান প্রকৌশলী শামছুল আলম চট্টগ্রামের বাইরে সফরে রয়েছেন। পরে তিনি খোঁজ নিয়ে  বলেন, ‘উত্তর কাট্টলীর ৬ তলা ভবনটির ৫ তলায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার সকালে পুলিশ ও পিডিবির লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়েছে। সেখানে বিদ্যুতের লাইনগুলোতে কোন ত্রুটি পাওয়া যায়নি। মূলত গ্যাস লাইন লিকেজের কারণে ভিকটিমদের কেউ আগুন ধরাতে দিয়াশলাই কিংবা গ্যাস লাইট জ্বালালে আগুন লেগে যায়।
পরে সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় পিডিবি পাহাড়তলী বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী নুর উদ্দিন  প্রতিবেদককে ফোন করে জানান, আমাদের সহকারী প্রকৌশলী ও উপ-সহকারী প্রকৌশলীরা পুলিশের সাথে সাইটটি পরিদর্শন করেছেন। তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে বৈদ্যুতিক সার্কিট, লাইন সবকিছু ঠিক পেয়েছেন। মূলত গ্যাসের লাইন লিকেজের কারণে ওই বাসাটি গ্যাস চেম্বারে পরিণত হয়েছিল। কেউ একজন আগুন জ্বালাতে গেলে বিস্ফোরণ হয়ে আগুন লেগেছে। বিস্ফোরণে বাসার জানালা উড়ে গেছে বলে আমাদের প্রকৌশলীরা জানিয়েছেন।

ঘটনায় ভুক্তভোগী চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সালমা জাহান হাসপাতালে সাংবাদিকদের বলেন, ‘পৌনে ১০টার দিকে পাশের ফ্ল্যাটের চুলায় আগুন জ্বালাতে গেলে লাইন গ্যাসের বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।
তবে কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (কেজিডিসিএল) মহাব্যবস্থাপক (ইঞ্জিনিয়ারিং সার্ভিস) প্রকৌশলী সারোয়ার হোসেন বলেন, ‘উত্তর কাট্টলীতে অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়ার পর সোমবার সকালে আমাদের দুইজন অফিসার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তারা রান্নাঘর, লাইন, সংযোগের রাইজার সবই পরীক্ষা করেছেন। রান্নাঘরও অক্ষত পাওয়া গেছে। রান্নাঘরের পাশের রুমে দুর্ঘটনাটি ঘটে। আমাদের গ্যাসের লাইন থেকে ঘটনাটি ঘটেনি। মূলত বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটেছে।
সোমবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা কাট্টলী সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ‘উত্তর কাট্টলীর বিশ্বাস পাড়ার মরিয়ম ভবনে আগুন ধরছিল। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে। এক বৃদ্ধা হাসপাতালে মারা গেছেন। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে ওখানে বিকট শব্দে আগুন লেগেছে। প্রাথমিকভাবে তারা ভাবছিল গ্যাস বিস্ফোরণ হয়েছে। পরে ফায়ার সার্ভিসসহ আমরা সকালে দেখলাম, প্রাথমিকভাবে আমরা ধারণা করছি এটি বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট হতে পারে। আবার স্থানীয় পাশের বাসাগুলোর লোকজনের দাবি, গ্যাস বিস্ফোরণে ঘটনাটি ঘটতে পারে। এখন আগুন লাগার বিষয়টি বিভ্রান্তিকর পর্যায়ে আছে। পিডিবি এবং কেজিডিসিএলের লোকজন পরীক্ষা নিরীক্ষা করেছে। তারা বলছেন, তাদের মেইন লাইনে কোন ত্রুটি নাই। এখন অগ্নিকাণ্ডের কারণ জানতে জেলা প্রশাসক পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে দিয়েছেন। তারা সপ্তাহখানের মধ্যে রিপোর্ট দিলে মূল কারণ জানা যাবে।
তদন্ত কমিটির সদস্য ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স চট্টগ্রামের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আলী আকবর বলেন, ‘আগুন লাগার কারণ কেউ বলতে পারছে না। ভিন্ন লোকের কাছে ভিন্ন ভিন্ন মত পাওয়া গেছে। এখন জেলা প্রশাসন থেকে কমিঠি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আলামত সংগ্রহ, স্থানীয়দের ভাষ্য নিয়ে প্রতিবেদন দেওয়ার পরই কারণ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

Leave a Reply