আর্মেনিয়ার বিক্ষোভকারী জনগণ আবার যুদ্ধ করতে চাই !

0
20
রাশিয়ার মধ্যস্ততায় নাগর্নো-কারাবাখে শান্তি চুক্তি নিয়ে সহিংস বিক্ষোভ শুরু হয়েছে আর্মেনিয়ায়। দেশটির রাজধানী ইয়েরেভেনের প্রায় প্রতিটি এলাকা ঘিরে ফেলে বিক্ষোভ করছে সাধারণ মানুষ। বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য, এই মুহূর্তে ব্যর্থতা স্বীকার করে পদত্যাগ করতে হবে প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশনিয়ানকে। এদিকে ফেসবুক লাইভে বক্তব্য দিয়ে নিজের পদত্যাগের সম্ভাবনাও খারিজ করে দিয়েছেন পাশনিয়ান।
নাগর্নো-কারাবাখ নিয়ে সেই শান্তি চুক্তিতে সব চেয়ে লাভ হয়েছে আজারবাইজানের। চুক্তিতে স্থির হয়েছে, কোনো পক্ষই আপাতত আর যুদ্ধে জড়াবে না। রাশিয়ার সেনা এলাকায় টহল দেবে এবং শান্তি বজায় রাখবে। ছয় সপ্তাহের যুদ্ধে যে যেখানে অবস্থান করছে, সেই এলাকা তার দখলে থাকবে। যুদ্ধে নাগর্নো-কারাবাখের অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ এলাকা আজারি ফৌজ নিজেদের দখলে নিয়েছে। ফলে চুক্তিতে লাভ হয়েছে তাদেরই।
চুক্তি পছন্দ না হলেও আন্তর্জাতিক চাপে সই করতে বাধ্য হয়েছিলেন পাশিনয়ান। জানিয়েছিলেন, এই চুক্তি আর্মেনিয়ার মানুষের পক্ষে মেনে নেওয়া কঠিন। ঠিক সে ঘটনাই ঘটছে। গোটা আর্মেনিয়া জুড়ে বিক্ষোভ শুরু হয়ে গিয়েছে। শান্তিচুক্তির পরেই রাস্তায় নেমে পড়েছিলেন সাধারণ মানুষ। বুধবার (১১ নভেম্বর) তারা দরজা ভেঙে ঢুকে পড়েন প্রধানমন্ত্রীর অফিসেও। চেয়ার টেবিল ভাঙচুর করা হয়। দ্রুত প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করা হয়। চুক্তি ভেঙে ফের যুদ্ধের দাবিও করেন সাধারণ মানুষ। তাদের বক্তব্য, চুক্তিতে নাগর্নো-কারাবাখের কার্যত গোটা এলাকাই হাতছাড়া হয়ে গিয়েছে আর্মেনিয়ার জনগোষ্ঠীর। এত দিন তারাই সেখানে বসবাস করতেন।
আর্মেনিয়ার স্থানীয় গণমাধ্যমের খবর, বুধবার পার্লামেন্টেও ঢুকে পড়েছিলেন বিক্ষোভকারীরা। পার্লামেন্টের মূল হলঘরে তারা ভাঙচুর চালিয়েছেন। স্পিকারকে মারধর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এ দিকে পরিস্থিতি বিবেচনা করে রাতেই বিশেষ বৈঠক ডাকা হয় পার্লামেন্টে। প্রধানমন্ত্রী অবশ্য তাতে যোগ দেননি। তাকে নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে। তবে বুধবার তিনটি ফেসবুক লাইভ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে জনগণকে শান্ত হওয়ার আবেদন জানিয়েছেন তিনি। পদত্যাগের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিয়েছেন।
এদিকে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো জানাচ্ছে আর্মেনিয়ায় বিক্ষোভ থামার সম্ভাবনা দেখছে না। দেশটির জনগণের স্পষ্ট দাবি, যে প্রক্রিয়ায় চুক্তি সই হয়েছে, তা অন্যায়। আর্মেনিয়াকে বঞ্চিত করা হয়েছে চুক্তিতে। ফলে সাধারণ মানুষ ওই চুক্তি মানেন না।

Leave a Reply