চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে পাউবোর প্রকল্প সংকটের মুখে। 

0
14
Exif_JPEG_420
চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে পাউবোর প্রকল্প সংকটের মুখে।

চট্টগ্রাম মহানগরীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে ১ হাজার ৬২০ কোটির টাকার একটি প্রকল্প গ্রহণ করে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) প্রায় একই ধরনের প্রকল্প এবং কর্ণফুলী নদী এলাকায় বন্দরের কার্যক্রমের ফলে পাউবোর প্রকল্পটি বাস্তবায়নে সংকট তৈরি হয়েছে। এতে করে প্রকল্পের অর্ধেকের বেশি টাকা ফেরত যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ নিয়ে গত মঙ্গলবার উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক হয়। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো আগামী সপ্তাহে আবার বসতে পারে।
পাউবো এবং সিডিএ সূত্র জানায়, ২০১৮ সালে একনেকে পাস হওয়া প্রকল্পটিতে খাল থেকে মাটি উত্তোলন এবং রেগুলেটর নির্মাণ, ফ্লাড ওয়াল, রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণ এবং নালা-নর্দমা তৈরিসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ড রয়েছে। ২০২২ সালের জুনে প্রকল্পটি শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু দুই বছর গত হলেও প্রকল্পটি নিয়ে পুরোদমে কাজ শুরু করতে পারেনি পাউবো। চলতি বছর থেকে কাজ শুরু করতে গিয়ে পদে পদে প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়ছে।
প্রতিবন্ধকতা কাটাতে সম্প্রতি বন্দর ভবনে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, সিটি কর্পোরেশন, জেলা প্রশাসন, নৌবাহিনী, সিডিএ এবং পাউবোসহ বিভিন্ন সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের বৈঠক হয়। বৈঠকে প্রকল্পটির বিভিন্ন কার্যক্রমের সাথে সিডিএর অঘোষিত সংঘাত তৈরির বিষয়টি উঠে আসে। একই ধরনের কাজ দুই প্রকল্পে থাকায় সমস্যা তৈরি হয়। এছাড়া প্রকল্পটির বেশ কিছু কাজ রয়েছে কর্ণফুলী নদীর পাড়ে। বন্দর এলাকায় এসব কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে বন্দর কর্তৃপক্ষের আপত্তি রয়েছে। নদীর পাড় জুড়ে এত বড় কার্যক্রমে নদী কোনো সংকটে পড়ছে কিনা তা নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বলে জানান বন্দর কর্তৃপক্ষের বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলীরা। বিশেষ করে নেভাল একাডেমি থেকে বন্দরের ১৫ নম্বর ঘাট পর্যন্ত নদীর পাড়ে রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণ এবং ১৫ নম্বর ঘাট থেকে বন্দর পর্যন্ত এবং বন্দরের এলাকা বাদ দিয়ে বাংলাবাজার থেকে শাহ আমানত সেতু পর্যন্ত ফ্লাড ওয়াল নির্মাণেও আপত্তি রয়েছে বন্দরের। এসব কাজ পরিচালনা করা হলে নদীতে কী ধরনের প্রভাব পড়বে তা নিয়েও পরীক্ষা-নিরীক্ষার কথা বলা হচ্ছে। প্রকল্পটিতে কর্ণফুলী নদীতে পড়া ৩২টি খালে রেগুলেটর স্থাপন করার কথা থাকলেও সিডিএ ইতোমধ্যে ৮টি রেগুলেটর স্থাপনের কাজ শুরু করেছে। সিডিএ আরো ৪টি রেগুলেটর এবং বোট পাসের কাজ করবে।
বন্দরের আপত্তির কারণে যদি রিটেইনিং ওয়াল এবং ফ্লাড ওয়াল নির্মাণ করা সম্ভব না হয়, সিডিএর কাজের ফলে যদি রেগুলেটর নির্মাণের কাজ কমে যায়, আউটার রিং রোডের নিচ দিয়ে সমুদ্রে পড়া খালগুলোর মুখে রেগুলেটর নির্মাণের কাজ যদি প্রকল্প থেকে বাদ দিতে হয়, তাহলে এই প্রকল্পের অর্ধেকের বেশি টাকা ফেরত যাবে।
পাউবোর শীর্ষ একজন কর্মকর্তা জানান, প্রকল্পটি একনেকে পাশ করা। ডিপিপি অনুমোদিত। কি কি কাজ করব তার বর্ণনা প্রকল্পে রয়েছে। এখন যেসব কাজ করতে পারব না সেগুলোর টাকা আমরা ফেরত দেব। প্রকল্পের বাকি কাজগুলো করব। এজন্য নতুন করে কোনো অনুমোদন, প্রকল্প গ্রহণ বা একনেকে পাশ করানোর দরকার হবে না।
প্রকল্পটি নিয়ে বন্দর ভবনে গতকাল দুপুর থেকে বিকাল পর্যন্ত টানা আলোচনা হয়েছে। কিন্তু সংকটগুলোর সুরাহা হয়নি। বন্দর কর্তৃপক্ষ প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট কিছু তথ্য-উপাত্ত পাউবোর কাছে চেয়েছে। এসব তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে আগামী সপ্তাহে আবার উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক হবে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী ত্রয়ন কুমার ত্রিপুরা বলেন, আমরা বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি। আগামী সপ্তাহে আবার বসে করণীয় নির্ধারণ করব।

Leave a Reply