পাবনা জেলা পুলিশ বাক-প্রতিবন্ধী এক কিশোরকে তার স্বজনদের হাতে তুলে দিলেন।

0
19

পাবনাঃ- শনিবার (১৪ নভেম্বর) বেলা ২টায় পাবনার পুলিশ সুপারের কনফারেন্স রুমে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে কুড়িয়ে পাওয়া কিশোরকে তার স্বজনদের হাতে তুলে দিলেন পাবনার জেলা পুলিশ।

এ সময় পাবনার পুলিশ সুপার রফিকুল ইসলাম বিপিএম, পিপিএম কিশোরের জন্য বাবা-মায়ের হাতে নগদ ১০ হাজার টাকা এবং পাবনা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ নাসিম আহমেদ ৫ হাজার টাকা প্রদান করেন।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত ১০ নভেম্বর পাবনা শহরের মেড়িল বাইপাস এলাকা থেকে স্থানীয় এক ব্যক্তি এক শারীরিক ও বাক প্রতিবন্ধী কিশোর কাবির আলী (১৪) কে সড়কে পেয়ে নিরাপত্তার জন্য দ্রুত থানাতে হস্তান্তর করেন।

শান্ত স্বভাবের এই কিশোর আকার ইঙ্গিত ছাড়া কোন কথা বলতে পারে না। স্থানীয় কেউ যদি ছেলেটির সন্ধান জেনে থাকেন তবে অবশ্যই তাকে পাবনা সদর থানায় দ্রুত যোগাযোগের জন্য অনুরোধ জানান সদর থানা পুলিশ।

কয়েকদিন যাবৎ থানায় কিশোরটিকে পাবনা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ নাসিম আহমেদ নিজ সন্তানের ন্যায় মানবিকতার সাথে লালন পালন করেন।

গত ১৫ অক্টোবর চাপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ থানার মরদানা গ্রামের নুরুল হুদার ছেলে শারীরিক ও বাক প্রতিবন্ধী কাবির আলী হারিয়ে যায়।

তার পরিবারের সদস্যরা অনেক খোঁজাখুজির পর না পেয়ে ১৮ অক্টোবর শিবগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন (যার নং- ৮৫৪)। তারপরও পরিবার তাদের বিভিন্ন এলাকায় যুবকদের নিয়ে অনেক খোঁজাখুজি করেও কাবিরের সন্ধান পায় না।

অবশেষে তাদের এলাকার বড় ভাই পাবনা জেলায় এক প্রাইভেট কোম্পানীতে চাকরি করেন। সে পাবনা জেলার সুজানগর যুবসমাজের একটি ফেসবুক পেজে কাবির আলীর ছবি দিয়ে তার সন্ধানের ব্যাপারে জানতে পারেন। তখন কাবিরের ছবি স্কিনসট দিয়ে পাঠিয়ে দিলে প্রাথমিক নিশ্চিত হয় পরিবার।

অবশেষে পাবনা সদর থানা পুলিশ পরিবারের সাথে ভিডিও কনফারেন্সে হারিয়ে যাওয়া কাবিরকে চুরান্তভাবে নিশ্চিত করেন।

এদিকে পাবনার পুলিশ সুপার রফিকুল ইসলাম বিপিএম, পিপিএম বলেন কিশোরটি অনেক বুদ্ধিমান। তাকে টেকনিক্যাল ট্রেডে পড়ানোর ব্যাপারে পরিবারিক সদস্যদের পরামর্শ দেন।

এর জন্য পাবনা জেলা পুলিশ থেকে তাকে সব ধরনের আর্থিক সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়।

Leave a Reply