চট্টগ্রামের বাজারে নিম্নমানের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে।

0
17
চট্টগ্রামের বাজারে নিম্নমানের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে।

অস্থিতিশীল পেঁয়াজের বাজার নিয়ন্ত্রণে আনতে বিভিন্ন দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি করা হচ্ছে। আমদানি করা পেঁয়াজ বাজারে জট সৃষ্টি করলেও পূর্বমূল্যে ফিরছে না। কারণ হিসেবে জানা গেছে, আমদানি করা পেঁয়াজের অধিকাংশই পঁচা ও নিম্নমানের। ফলে ব্যবসায়ীরা তাদের ক্ষতির জন্য রপ্তানিকারকদের দুষছেন।

খাতুনগঞ্জের হামিদুল্লাহ মিয়া বাজার পরিদর্শন করে দেখা যায়, বাজারের ফুটপাতে পড়ে আছে পঁচা পেঁয়াজ। রাস্তায় পড়ে থাকা পেঁয়াজ থেকে মোটামুটি ভালো মানের পেঁয়াজ বাছাই করছে নিন্ম আয়ের মানুষ। তাদের অধিকাংশ শিশু ও কিশোর। তারা রাস্তা থেকে পেঁয়াজ কুড়িয়ে কেজি প্রতি পাঁচ থেকে দশ টাকায় বিক্রি করছে।অন্যদিকে ব্যবসায়ীরা গদিতে বসেই অস্থির হয়ে আছে। তারা রপ্তানিকারকদের এ কাজে অসন্তোষও প্রকাশ করেন।

পেঁয়াজ কুড়াতে ব্যস্ত থাকা এক কিশোরের সাথে কথা হলে সে বলে, ‘পেঁয়াজগুলো খুঁজতে অনেক বেশি কষ্ট। বেশির ভাগ পেঁয়াজ একদম পঁচা। এগুলো নিয়ে আমরা বিক্রি করি। এগুলো আমরা ৫ টাকা থেকে ১০ টাকা দিয়ে বিক্রি করি।’

এই পেঁয়াজগুলো ঘরে না নেয়ার কারণ জানতে চাইলে সে বলে, ‘পেঁয়াজগুলোর অবস্থা বেশি খারাপ। তাই এগুলো বাড়ি নিয়ে বেশি দিন রাখা যাবে না।’

হামিদুল্লাহ মিয়া বাজারের ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইদ্রিস বলেন, ‘রপ্তানিকারকরা যে কাজ করছে তার জন্য আমাদের অবস্থা খুবই খারাপ। পেঁয়াজের মূল্য অনেকটাই কমেছে। কিন্তু আগের দামে নিয়ে বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না রপ্তানিকারকের জন্য। আমদানিতে আসা পেঁয়াজগুলোর অধিকাংশ পঁচা ও নিম্নমানের। নিম্নমান বলতে পেঁয়াজগুলোর অঙ্কুর গজিয়েছে।’

বর্তমান পেঁয়াজের দাম জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বর্তমান বাজারে বিক্রি হওয়া পেঁয়াজের মধ্যে পাকিস্তানি ৩০ থেকে ৪০ টাকা, তুরুস্ক ৪০ থেকে ৫০ টাকা, চায়না ২০ থেকে ৩০ টাকা ও মিশরীয় ৩০ থেকে ৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।’

রপ্তানিকারকদের এ কাজের প্রতি অসন্তোষ জানিয়ে খাতুনগঞ্জের মেসার্স জনতা ট্রেডাস এর স্বত্বাধিকারী খুরশীদ আলম সওদাগর বলেন, ‘করোনাতো আমাদের মেরে ফেলেছে। করোনার কারণে আমাদের ব্যবসার অবস্থা খুব খারাপ। এরপরে আবার পঁচা পেঁয়াজ আমদানি হওয়ায় আমরা খুব বিপদে পড়ে গেছি। এরকম লোকসানের পর লোকসান হতে থাকলে আমাদের আর ব্যবসা করতে হবে না।

পঁচা পেয়াজ বিষয়ে সাইফউদ্দিন নামের আরেক আরতদার বলেন, অনেক দেশ পেঁয়াজ আসছে। কিন্তু সব দেশের পেঁয়াজের মান ভালোনা তাই আমদানি কৃত বেশি হওয়াতে সেসব পেঁয়াজের ক্রেতা কম থাকায় পঁচে যাচ্ছে। ক্ষতি পুশিয়ে নিতে ব‍্যবসায়ীরা এসব পেঁয়াজ বাজারে চাড়ছে।

Leave a Reply