কানাইপুর জমিদার বাড়ি : ফরিদপুর

কানাইপুর জমিদার বাড়ী

ইতিহাস, ঐতিহ্য আর সমৃদ্ধ পুরাকীর্তির সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এক ঐতিহাসিক অঞ্চল ফরিদপুর। এক সময় বৃহত্তর ফরিদপুরের অধীনে ছিল ফরিদপুর, রাজবাড়ী, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর ও শরীয়তপুর জেলা। পূর্বের ফতেহাবাদ থেকে বর্তমান ফরিদপুর সময়ের পালা ক্রমে সংস্পর্শে এসেছে নানান ইতিহাসের। জমিদার শাসনের অবসানের পূর্ব পর্যন্ত এই জেলা অনেক জমিদারের শাসনের ইতিহাস রয়েছে। জেলাটিতে রয়েছে সমৃদ্ধ জমিদারী শাসনের ইতিহাস। আর এইসব ইতিহাসের সাক্ষ্য হিসেবে আজও এখানে দাঁড়িয়ে আছে নানান রাজবাড়ী। আর তেমনি কানাইপুর জমিদার বাড়ি এখানকার একটি ঐতিহাসিক রাজবাড়ী।

স্রোতস্বিনী পদ্মার ঔরসজাত কুমার নদের পাড়ে গড়ে তোলা হয় ঐতিহাসিক এই কানাইপুর জমিদার বাড়িটি। ফরিদপুর সদর উপজেলার কানাইপুর গ্রামে প্রায় ৪০০ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত হয় জমিদার বাড়িটি। ফরিদপুরের খ্যাতনামা জমিদারদের ইতিহাসের কানাইপুরের ‘শিকদার বংশ’ ছিলও অন্যতম। আর এই শিকদার বংশের জমিদার শিকদার ভবতারিণী এখানে জমিদারী প্রতিষ্ঠার রাজবাড়িটি নির্মাণ করেন। জমিদার বংশের নামানুসারেই শিকদার বাড়ী নামেই এটি সর্বাধিক পরিচিত।

জমিদারী পরিচালনার বাহিরেও এই শিকদার বংশের জমিদারী অন্য কারণেও ইতিহাসে লিপিবদ্ধ আছে। আর তা হচ্ছে ঐতিহাসিক ফরায়েজি আন্দোলন কে ঘিরে। ১৮১৮ সালে ফরিদপুরে হাজী শরিয়তুল্লাহ যে ফরায়েজি আন্দোলনের সূচনা করেন তা এই জমিদারদের অন্যায় অত্যাচারের বিরুদ্ধেই। পরবর্তীতে হাজী শরিয়তুল্লাহর পুত্র দুদু মিয়াও এই আন্দোলন চালিয়ে যান।

ষোড়শ শতকে নির্মিত দ্বিতল বাড়িটি সরকারের সংরক্ষণের অভাবে পরিত্যক্ত ও ভাঙ্গাচুরা অবস্থাতেই রয়েছে। ইট সুরকির দেয়ালের পলেস্তারা খসে পড়েছে যেমন, দরজা জানাল কিছুই আর অবশিষ্ট নেই। বাড়ির সামনে রয়েছে বিশাল খোলা জায়গা। ছাদে এবং দেয়ালের বিভিন্ন জায়গায় পরগাছাদের বসবাস ভেতরে ভূতুড়ে এক পরিবেশ তৈরি করেছে।

কানাইপুর জমিদার বাড়ী

বিধবা রানী ভবতারিণী শিকদারের আমলেই শিকদার বংশের জমিদারীর উন্নতি হয় ব্যাপক হারে। রানী তার এক সন্তান সতীশ চন্দ্র শিকদার এবং এক কর্মচারীর সহায়তায় জমিদারী পরিচালনা করতেন। উদ্ধত, অহংকারী এবং কূটনৈতিক হিসেবে বেশি পরিচিত সতীশ চন্দ্র শিকদারের দুই পুত্র সুরেন্দ্র নাথ শিকদার এবং নীরদবরণ শিকদারের মধ্যে জমিদারি ভাগাভাগি হলে বড় সন্তান সুরেন্দ্র নাথ অধিকাংশ জমিদারী পান। তার মৃত্যুর পর তার স্ত্রী রাধা রাণী শিকদার জমিদারী দেখাশুনা করেন। তবে রাণীর মৃত্যুর পর জমিদারীর পতনের শুরু হয়। তার পুত্ররা কলকাতায় বসবাস করতে শুরু করেন। এক সময় অর্থনৈতিক ভাঙ্গনের কারণে এই জমিদারী সরকার বাজেয়াপ্ত ঘোষণা করে।

কানাইপুর জমিদার বাড়ি ছাড়াও এখানে এসে দেখতে পাবেন আরেক বিখ্যাত বাইশরশি জমিদার বাড়ির পাশাপাশি, পল্লী কবি জসীমউদ্দীনের বাড়ি, নদী গবেষণা ইন্সটিটিউট, হযরত শাহ ফরিদ মসজিদ, আটরশি বিশ্ব জাকের মঞ্জিল, মথুরাপুর দেউল, জগদ্বন্ধু সুন্দর আশ্রম, পাতরাইল মসজিদ, ফরিদপুর পৌর শেখ রাসেল শিশুপার্ক সহ অন্যান্য।

যেভাবে যাবেন :

ঢাকার গাবতলি হতে সকাল-সন্ধ্যা ফরিদপুরের উদ্দেশ্যে বাস চলাচল করে। ফরিদপুর বাস স্ট্যান্ড নেমে বাসে বা ইজিবাইকে কানাইপুর বাজারে আসবেন। কানাইপুর বাজার হতে ভ্যানে করে কানাপুর জমিদার বাড়ি যাবেন। গ্রামীণ পরিবেশ উপভোগ করতে চাইলে পায়ে হেঁটেও যেতে পারেন। ৭-৮ মিনিট সময় লাগবে তাতে।

সাখাওয়াত হোসেন

Copyright:- TravelBd.xyz

ব্রি:দ্র: এই কন্টেন্ট টি আমাদের তৈরি নয় । এটি ট্রাভেল বিডি ডট এক্স ওয়াই জেড এর ওয়েব সাইট থেকে কালেক্ট করা হয়েছে ।

Travel bd তে পোস্ট টি পড়তে এখানে ক্লিক

১ টি মন্তব্য

Leave a Reply