করোনাকালে মন্দা কাটিয়ে দ্বিগুণের বেশি চা রপ্তানি হয়েছে।

0
18

করোনাকালে মন্দা কাটিয়ে দ্বিগুণের বেশি চা রপ্তানি হয়েছে।

মোঃ সিরাজুল মনির চট্টগ্রাম ব‍্যুরো।
করোনার মধ্যেও দেশের চা রপ্তানি ঘুরে দাঁড়িয়েছে। গত দুই বছরে রপ্তানির লাগাতার নেতিবাচক প্রবণতা থেকে বেরিয়ে বাংলাদেশি চায়ের রপ্তানি আবার ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় ফিরেছে। গত দুই বছরের তুলনায় চলতি বছরে দ্বিগুণেরও বেশি চা রপ্তানি হয়েছে। চা বোর্ডের গৃহীত কিছু উদ্যোগ ও নতুন বাজার সৃষ্টির প্রভাবে এই সাফল্য অর্জিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ চা বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল জহিরুল ইসলাম। চা বোর্ড থেকে প্রাপ্ত তথ্য মতে, ২০১৭ সালে সর্বোচ্চ ২৫.৬ লাখ কেজি চা রপ্তানি হলেও পরবর্তী দু’বছরে তা কমে ২০১৮ সালে হয়েছে ৬.৫ লাখ কেজি ও ২০১৯ সালে হয়েছে ৬ লাখ কেজি। করোনা মহামারির মধ্যেও চলতি বছরের অক্টোবর পর্যন্ত বিভিন্ন দেশে চা রপ্তানি হয়েছে ১৮ লাখ ২২ হাজার কেজি। যার রপ্তানি মূল্য হচ্ছে ২৯ কোটি ৯১ লাখ ৬০ হাজার টাকা।
বোর্ড সূত্র জানায়, বাংলাদেশ থেকে আগে হাতেগোনা কয়েকটি দেশে চা রপ্তানি হতো। কিন্তু এখন, ভারত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার, বাহরাইন, পাকিস্তান, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, নিউজিল্যান্ড, ফ্রান্স, অষ্ট্রেলিয়া, সাইপ্রাস, ব্রুনাই, গ্রীস, চীন, জাপান, ইত্যাদি দেশে চা রপ্তানি হচ্ছে। রপ্তানি বাড়াতে নতুন নতুন দেশে বাজার সৃষ্টির জন্য বাংলাদেশ চা বোর্ড কাজ করছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
রপ্তানি বৃদ্ধিতে চা বোর্ডের পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চাইলে বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. জহিরুল ইসলাম জানান, এক সময়ে চা রপ্তানিমুখী শিল্প ছিল। কালের আবর্তনে এটি হারিয়ে গিয়েছিল। প্রধানমন্ত্রীর দিক নির্দেশনায় চা শিল্পকে আমরা আবার পূর্বের জায়গায় ফিরিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। আধুনিক পদ্ধতিতে চা চাষ থেকে শুরু করে মানসম্মত চা তৈরি করার উপর আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি।
বোর্ডের চেয়ারম্যান আরও বলেন, রপ্তানির পরিমাণ আরো বাড়াতে গৃহীত পদক্ষেপগুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে- বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের নবনিযুক্ত কমার্শিয়াল কাউন্সিলরদের আমাদের দেশে উৎপাদিত চা সম্পর্কে ধারণা দিয়েছি। সম্প্রতি তারা আমাদের সাথে বাংলাদেশ চা বোর্ডের চট্টগ্রাম অফিসে মিটিং করেছেন। বাংলাদেশে উন্নতমানের চা উৎপাদনের নিউজটি আমরা কমার্শিয়াল কাউন্সিলরদের মাধ্যমে বিশে^র বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে দিতে চাচ্ছি। আমাদের দেশে চা নিয়ে কি কি গবেষণা হচ্ছে, সে তথ্যগুলো তাদের সরবরাহ করছি। বিভিন্ন দেশের দূতাবাসের মাধ্যমে এই নিউজটি তারা বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে দিবেন বলে আমাদের আশ^স্ত করেছেন।
চা বাগান মালিকদের উৎসাহিত করার জন্য চা শিল্পে আরো বেশি বেশি প্রণোদনা দেয়ার জন্য সরকারের সাথে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন উল্লেখ করে বোর্ডের চেয়ারম্যান আরো বলেন, চা রপ্তানির জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে মানসম্মত চা উৎপাদন এবং একই সাথে উৎপাদন মূল্য কমানো। এর কারণ হচ্ছে সবাই ভালো মানের চা কমমূল্যে ক্রয় করতে চান। চা এমন একটি শিল্প, যা বাগানে উৎপাদিত হয়ে সরাসরি ফ্যাক্ট্ররিতে চলে যাচ্ছে। এটা সংরক্ষণ করার কোন পণ্য না। বাগান মালিক তাদের ফ্যাক্টরিকে আধুনিকায়ণ করার ক্ষেত্রে আমরা তাদের টেকনোলজিক্যাল এডভাইজ এবং সাপোর্ট দিচ্ছি।
আন্তর্জাতিক বাজারে চা শিল্পের নতুন মার্কেট খোঁজার কথা উল্লেখ করে চা বোর্ডের চেয়ারম্যান বলেন, চা শিল্পকে রপ্তানিমুখী করার জন্য বিশে^র বিভিন্ন জায়গায় আমরা মার্কেট খুঁজছি।
চা ব্যবসায়ীদের সংগঠন টি ট্রেডার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও ইস্পাহানী টি লিমিটেডের জেনারেল ম্যানেজার শাহ মঈনুদ্দীন হাসান বলেন, আমাদের উৎপাদন খরচ বেশি হওয়ায় বেশি মূল্যে বিক্রয় করতে হচ্ছে। তবে আন্তর্জাতিক মার্কেট ধরতে হলে আমাদের উৎপাদন খরচ কমানো ছাড়া বিকল্প নেই।

Leave a Reply