ভারপ্রাপ্ত বিচারক দিয়ে চলছে চট্টগ্রামের ১৬ আদালত।

0
13
ভারপ্রাপ্ত বিচারক দিয়ে চলছে চট্টগ্রামের ১৬ আদালত।

চট্টগ্রামে ১৬টি আদালতে দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে বিচারকের পদ। ভারপ্রাপ্ত বিচারক দিয়ে চলছে এসব আদালতের কার্যক্রম। বিচারকদের নির্ধারিত কোর্টে হাজার হাজার মামলার কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে এসব আদালতের মামলা পরিচালনা করতে হয়। এতে করে তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একদিকে মামলার চাপ, অন্যদিকে সময়ের স্বল্পতা, এই দুই কারণে ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও ভারপ্রাপ্ত বিচারকদের মাধ্যমে এসব আদালতে বিচার কাজ ত্বরান্বিত করা যাচ্ছে না। এতে করে হাজার হাজার গুরুত্বপূর্ণ ও চাঞ্চল্যকর মামলার বিচারিক কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠানো এক চিঠিতে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতি জানিয়েছে, চট্টগ্রামে ১৪টি আদালতে দীর্ঘদিন বিচারকের পদ শূন্য থাকায় বিচারপ্রার্থীরা দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। সার্বিক বিচার কার্যক্রমও স্থবির হয়ে পড়ছে।
জেলা আইনজীবী সমিতির তথ্যে উল্লেখ করা ১৪টি আদালতের যেসব বিচারক পদ শূন্য রয়েছে সেগুলো হলো, বিভাগীয় স্পেশাল জজ আদালত, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৩, অতিরিক্ত জেলা জজ দেউলিয়া আদালত, অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ৩য় আদালত, যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ ১ম আদালত, সহকারী জজ চন্দনাইশ আদালত (পটিয়া চৌকি), সহকারী জজ অতিরিক্ত আদালত (পটিয়া চৌকি), সহকারী জজ অতিরিক্ত আদালত (সাতকানিয়া চৌকি), সহকারী জজ লোহাগাড়া আদালত (সাতকানিয়া চৌকি), অতিরিক্ত জেলা জজ বাঁশখালী আদালত (বাঁশখালী চৌকি), অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট চট্টগ্রাম আদালত, জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ২য় আদালত, জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বন আদালত ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ৪র্থ আদালত।
চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এ এইচ এম জিয়াউদ্দিন বলেন, চট্টগ্রামে ১৪টি আদালত বিচারক শূন্য থাকার কথা জানিয়ে সম্প্রতি আইনমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতির কাছে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। এছাড়া কিছুদিন আগে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির এক অনুষ্ঠানে বিচারক সংকটের বিষয়টি ভার্চুয়ালি আইনমন্ত্রীকে জানানো হয়েছে। আশা করছি, বিচারপ্রার্থীদের কথা বিবেচনা করে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
তিনি জানান, চট্টগ্রামে সবগুলো আদালত মিলে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ২ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। আরও নতুন নতুন মামলা হচ্ছে। কিন্তু বিচারক সংকট থাকায় এসব মামলার নিষ্পত্তির হার কম। এসব মামলার নিষ্পত্তির জন্য দ্রুত বিচারক নিয়োগের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। একই সাথে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটসহ বিভিন্ন কোর্টের সংখ্যা বাড়াতে হবে। বিচারক ও কোর্টের সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে বিচারপ্রার্থীরা ন্যায়বিচার পাবেন।
জানা গেছে, চৌদ্দটি আদালতের বাইরেও চট্টগ্রাম মহানগর দায়রার দুটি আদালতে সম্প্রতি বিচারক পদ শূন্য হয়েছে। এগুলো হচ্ছে ১ম যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ আদালত ও ৭ম মহানগর দায়রা জজ আদালত। এর মধ্যে ১ম যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ আদালতে বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ ২য় আদালতের বিচারক মুহাম্মদ ছালামত উল্লাহ। ৭ম যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্বে আছেন যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ ৪র্থ আদালতের বিচারক আফরোজা জেসমিন কলি। অন্যদিকে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ৪র্থ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারকের দায়িত্ব পালন করছেন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ৩য় আদালতের বিচারক মো. শফি উদ্দিন।
জানা গেছে, বৃহত্তর চট্টগ্রামে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন দুদকের যতগুলো মামলা হচ্ছে, এগুলোর বিচার কার্যক্রম চলে বিভাগীয় স্পেশাল জজ আদালতে। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ বিভাগীয় স্পেশাল জজ আদালতে এক বছর ৯ মাস ধরে বিচারক পদ শূন্য রয়েছে। বর্তমানে এখানে ভারপ্রাপ্ত বিচারকের দায়িত্ব পালন করছেন জেলা ও দায়রা জজ মো. ইসমাইল হোসেন। দুদকের আইনজীবীরা বলেছেন, বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত বিচারক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মামলার শুনানি করছেন।
গত মার্চ থেকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৩-এ বিচারক পদটি খালি রয়েছে। সেখানে বর্তমানে ট্রাইব্যুনাল-৫ এর বিচারক ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। কিন্তু সেখানে নিয়মিত সময় দিতে পারছেন না ট্রাইব্যুনালটির ভারপ্রাপ্ত বিচারক।
ট্রাইব্যুনাল-৩ এর পিপি অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম সেন্টু বলেন, বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত বিচারকের মাধ্যমে ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এ সময় কয়েকটি জামিন শুনানি ছাড়া মামলার গুরুত্বপূর্ণ কোনো কার্যক্রম পরিচালিত হয়নি। তিনি বলেন, আমরা বিভিন্ন সময় বিচারাধীন মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তির দাবি করে থাকি। কিন্তু একটি আদালতে যদি বেশিরভাগ সময়ই বিচারক অনিয়মিত থাকেন, তাহলে মামলাগুলোর নিষ্পত্তি কিভাবে হবে?
তিনি বলেন, আমি সাত বছর ধরে নারী ও শিশু ট্রাইব্যুনালের পিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। সাত বছরের মধ্যে চার বছরই বিচারক ছিলেন না। বিচারক এলে ১ বছর বা ৬ মাস পর আবার পদটি খালি হয়ে যাচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা বলছেন, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিচারাধীন মামলার নথি পর্যালোচনা থেকে শুরু করে যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালনায় যে সময়টুকু দেওয়া প্রয়োজন তা ভারপ্রাপ্ত বিচারকের মাধ্যমে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। বর্তমানে অল্প সময়ের জন্য ভারপ্রাপ্ত বিচারকদের মাধ্যমে কয়েকটি মামলার জামিন শুনানি হয়ে থাকে।

Leave a Reply