করোনা পরবর্তী সময়ে চিংড়ি রপ্তানি বাড়ছে ক্রমান্বয়ে।

0
13

করোনা পরবর্তী সময়ে চিংড়ি রপ্তানি বাড়ছে ক্রমান্বয়ে।

খরা কাটছে চিংড়ি রপ্তানিতে। প্রতি মাসে বাড়ছে রপ্তানি। করোনার কারণে এপ্রিল-মে’তে রপ্তানিতে ধস নামলেও ধীরে ধীরে তা কাটিয়ে উঠছে রপ্তানিকারকরা। গত জুন থেকে অক্টোবর পর্যন্ত পাঁচ মাসে মৎস্য রপ্তানির চিত্রে এ তথ্য ফুটে উঠেছে।
মৎস্য পরিদর্শন ও মান নিয়ন্ত্রণ অফিস, চট্টগ্রাম অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালের প্রথম ১০ মাসে চট্টগ্রাম থেকে চিংড়িসহ মৎস্য রপ্তানি হয়েছে ১৯ হাজার ১১৬ দশমিক ৫৬৪ মেট্রিক টন। একই সময়ে চলতি ২০২০ সালে রপ্তানি হয়েছে ১৮ হাজার ৮৯৩ দশমিক ৭৮ মেট্রিক। করোনার কারণে চলতি বছরে রপ্তানি হ্রাস পায়। সূত্র জানায়, করোনার শুরুর পর এপ্রিল ও মে মাসে মৎস্য ও মৎস্যজাত পণ্য রপ্তানিতে ব্যাপক ধস নামে। স্বাভাবিকের তুলনায় ওই সময়ে রপ্তানির পরিমাণ কমে গিয়েছিল এক-পঞ্চমাংশ। যেখানে চলতি বছরের জানুয়ারিতে চট্টগ্রাম থেকে মৎস্য রপ্তানি হয় তিন হাজার ২৫৮ দশমিক ৯২ মেট্রিক টন। এপ্রিলে তা কমে হয়েছে মাত্র ৬৯৮ দশমিক ৩৩ মেট্রিক টন। একই অবস্থা ছিল মে মাসেও। ওই মাসে মাত্র ৯৯৫ দশমিক ৬২ মেট্রিক টন মৎস্য রপ্তানি হয়। রপ্তানিকৃত মৎস্যের মধ্যে ৯০ শতাংশের বেশি হচ্ছে নানা জাতের চিংড়ি। রপ্তানি কমে যাওয়ায় আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় মৎস্য রপ্তানিকারক, আড়তদার ও হ্যাচারি মালিক।
জানতে চাইলে মৎস্য পরিদর্শন ও মান নিয়ন্ত্রণ অফিস, চট্টগ্রামের মৎস্য পরিদর্শন ও মান নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, ‘করোনার ধাক্কা কাটিয়ে মৎস্য ও মৎস্যজাত পণ্যের রপ্তানি ধীরে ধীরে বাড়ছে। সর্বশেষ গত অক্টোবরে ২১৬২ দশমিক ১২ মেট্রিক টন, সেপ্টেম্বরে ২১৬৪ দশমিক ১৬৫ মেট্রিক টন, আগস্টে ১৫৮০ দশমিক ৪৯ মেট্রিক টন, জুলাইয়ে ১৪২১ দশমিক ৭৪৩ মেট্রিক টন ও জুনে ১৬২৯ দশমিক ৬২০ মেট্রিক টন মৎস্য রপ্তানি হয়।’
হিমায়িত চিংড়ি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের একাধিক ব্যক্তি জানিয়েছেন, দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানি খাত হচ্ছে হিমায়িত চিংড়ি। দেশে সবচেয়ে বেশি চিংড়ি চাষ হয় কক্সবাজার, খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট ও যশোর জেলায়। বাংলাদেশের রপ্তানি বাজারে অন্যতম সম্ভাবনাময় এ খাত করোনায় হুমকির মুখে পড়ে। ওই সময়ে অনেক দেশ রপ্তানি চুক্তি বাতিল করে।
হিমায়িত চিংড়ি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো জানিয়েছে, চিংড়ির প্রধান ক্রেতা আমেরিকা ও ইউরোপের বিভিন্ন রাষ্ট্র। সেখানকার হোটেল-রেস্টুরেন্টগুলোর মালিকেরা এসব চিংড়ি আমদানি করে থাকেন। কিন্তু করোনার কারণে এপ্রিল-মে মাসে বন্ধ থাকে হোটেল-রেস্টুরেন্ট। তাই আন্তর্জাতিক ক্রেতারা বহু ক্রয়াদেশ বাতিল করে। পরে জুন-জুলাইয়ের দিকে কিছু কিছু রেস্টুরেন্ট খোলা শুরু করলে রপ্তানি অর্ডার ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে।
বিগত বছরগুলোতে এ অঞ্চলের সাদাসোনা খ্যাত বাগদা ও গলদা চিংড়ি গ্রিস, রাশিয়া, নেদারল্যান্ডস, জার্মানি, বেলজিয়াম, জাপান, ফ্রান্স, তাইওয়ান, যুক্তরাজ্য, আয়ারল্যান্ড, সুইডেন, মরিশাস, চীন, ইতালি, ডেনমার্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, অস্ট্রিয়া, পর্তুগাল, সাইপ্রাসসহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানিতে সাফল্য এলেও করোনার কারণে শিপমেন্ট না হওয়ায় চিংড়ি রপ্তানিকারকরা ব্যাপক ক্ষতির শিকার হয়।
বাংলাদেশ ফ্রোজেন ফুডস এক্সপোর্টার্স এসোসিয়েশনের সিনিয়র সভাপতি আশরাফ হোসেন মাসুদ বলেন, ‘করোনার শুরুতে একের পর এক মৎস্য রপ্তানি অর্ডার বাতিল হতে থাকে। মার্চ থেকে মে পর্যন্ত মৎস্য রপ্তানি করতে পারিনি। এতে আমরা আর্থিকভাবে ব্যাপক ক্ষতির শিকার হই। তবে জুন থেকে ধীরে ধীরে অর্ডার বাড়তে থাকে।’
তিনি বলেন, বাংলাদেশ থেকে যে পরিমাণ মৎস্য রপ্তানি হয়, তার মধ্যে ৯০ শতাংশের বেশি হচ্ছে চিংড়ি। মূলত লোনা পানির বাগদা, মিঠা পানির গলদা ও সামুদ্রিক অন্যান্য জাতের চিংড়ি রপ্তানি হয়ে থাকে।’

Leave a Reply