নাটোরে এডিবির সুরক্ষাসামগ্রী দেয়া হয়নি, অভিযোগ ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’

0
23

নাটোরে এডিবির সুরক্ষাসামগ্রী দেয়া হয়নি, অভিযোগ ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’

বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচী (এডিপির) কোনো প্রকার করোনা সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ তো দূরের কথা, সরবরাহই হয়নি নাটোরের নলডাঙ্গায়। তবুও সুরক্ষা সামগ্রী আত্নসাতের মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগ করা হয়েছিলো নলডাঙ্গা নিবাসী সাংবাদিক মামুনুর রশীদের বিরুদ্ধে।

অবশেষে সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ বিষয়ে গঠিত তদন্ত কমিটি মতামত চাইলে নলডাঙ্গা উপজেলা প্রকৌশলী মিজানুর রহমান নলডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর তা দাখিল করেছেন।

নলডাঙ্গা উপজেলা প্রকৌশলী মিজানুর রহমান ওই মতামত প্রতিবেদনে বলেন, ‘পিপিই ও হ্যান্ডস্যানিটাইজার চেয়ে মো. আরিফ হোসেনসহ সংশ্লিষ্টদের আবেদনের প্রেক্ষিতে ২০১৯-২০ অর্থবছরের বিশেষ এডিপি বাস্তবায়নের জন্য উপজেলা সমন্বয় সভায় আলোচনা হয়। এর অংশ হিসেবে

নলডাঙ্গার সাংবাদিকদের সুরক্ষা সামগ্রী প্রদানের জন্য তৎকালীন ইউএনও সাকিব আল রাব্বি ও উপজেলা চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান আসাদ আমাকে উদ্যোগ নিতে বলেন। এর প্রেক্ষিতে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কর্মকর্তা মাহাবুবুর রহমানের সাথে আলোচনা করে ক্রয়ের ব্যবস্থা করা হয়।

কিন্ত ইউএনও রাব্বি বদলী হওয়ার পূর্ব মুহূর্তেও টেন্ডারকৃত সুরক্ষা উপকরণ সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার সঠিক সময়ে সরবরাহ করতে পারেন নাই। সেক্ষেত্রে ইউএনওর উপস্থিতিতে একজন দাতার নিকট হতে সুরক্ষা সামগ্রী গ্রহণ করে সাংবাদিকদের বিতরণ করা হয়।

পরবর্তীতে সাংবাদিক মামুনুর রশীদকে ১০টি স্যানিটাইজার সরবরাহ করার সময় জানা যায়, তাদের আরো ২ টি পিপিই প্রয়োজন। তখন করোনাকালীন মৃত্যুজনিত সেবার জন্য মজুদ থেকে আরও ২ টি পিপিই প্রদান করি।

মিজানুর রহমান আরও বলেন, বর্তমানে উক্ত উদ্বৃত্তসহ অব্যবহৃত পিপিইসমুহ উপজেলা পরিষদ ভান্ডারে সংরক্ষিত আছে যা প্রয়োজনে করোনাজনিত মৃত্যুকালীন সময়ে ব্যবহার করা হবে।

মামুনুর রশীদ এডিপির সুরক্ষা সামগ্রী আত্নসাত করেছেন কি না এমন প্রশ্নের উত্তরে সুষ্পষ্টভাবে মিজানুর রহমান বলেন, ‘যেখানে এডিপির উপকরণ সরবরাহই হয় নাই, সেখানে বিতরণ বা আত্নসাতের প্রশ্ন আসে না।’

প্রসঙ্গত, করোনাকালে নলডাঙ্গায় সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণে অনিয়ম ও আত্নসাতের অভিযোগে নলডাঙ্গার বেশ কয়েকজন সাংবাদিক মামুনুর রশীদের বিরুদ্ধে ইউএনও বরাবর অভিযোগ করেন।

অভিযোগের বিষয়টি কয়েকটি জাতীয় ও আঞ্চলিক গণমাধ্যমের অনলাইন ভার্সনে প্রচার করেন। এরই প্রেক্ষিতে প্রকৃত ঘটনা অনুসন্ধানে সামগ্রী সরবরাহের দায়িত্বে নিয়োজিত উপজেলা প্রকৌশলীকে মতামত প্রদানে নির্দেশ দেয় উপজেলা প্রশাসন।

সাংবাদিক মামুনুর রশীদ বলেন, ‘নলডাঙ্গায় দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র মূল ধারার কয়েকজন সাংবাদিকদের মধ্যে কথিত সাংবাদিকদের অনুপ্রবেশের সুযোগ দেয়ার পৃষ্ঠপোষকতা করে আসছিলেন। তারা অবশেষে সফল হয়েছে। তারা উন্নয়নের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে উপজেলা সৌন্দর্য্যবর্ধিষ্ণু বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণে বিরোধীতা করে চলেছে।

নলডাঙ্গা স্টেশনে একটি পার্ক স্থাপন ইস্যুকে কেন্দ্র করে অনেক উদ্যোক্তার একজন হওয়ার পরও তারা আমাকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করেছে এবং আমার দীর্ঘ দুই যুগেরও বেশী সময়ের সাংবাদিকতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে ‘হলুদ সাংবাদিক’ হিসেবে বিভিন্ন গণমাধ্যমে উপস্থাপন করেছে।

আমি সত্যের পক্ষে থেকে অপেক্ষা করছিলাম। দেরীতে হলেও প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হয়েছে। ভবিষ্যতে আমার বক্তব্য না নিয়ে এমন মানহানিকর কোন সংবাদ পরিবেশন করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবো।’

Leave a Reply